পটুয়াখালীর বাহেরচর মৌজায় মাটি চুরির হিড়িক

আপডেট : July, 24, 2017, 9:31 pm

পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর দুমকীর বাহেরচর মৌজায় সরকারী খাস সম্পত্তির মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল। প্রতিদিন ২৫/৩০টি ট্রলার ভর্তি করে ওই চরের মাটি কেটে নিয়ে পার্শ্ববর্তী কলসকাঠীর বিভিন্ন ইট ভাটায় বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিন দুমকি উপজেলার সীমান্তবর্তি পাতাবুনিয়া নদীর অপর পাড়ের বাহেরচর মৌজার ১নং খাস খতিয়ান ভুক্ত চরের মাটি কেটে নিচ্ছে বাহেরচর ও কলসকালী এলাকার একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। চক্রটি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রশাসন ও ভূমি অফিসের কতিপয় দূর্ণীতিবাজ কর্মচারীকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে মাটি কেটে নিয়ে বিভিন্ন ইটের ভাটায় বিক্রি করছে। সিন্ডিকেটটি অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না এলকাবাসী। স্থানীয়দের অভিযোগে জানা যায়, কলসকাঠী এলাকার ট্রলার ব্যবসায়ী মনির, সেলিম, কবির মীরা, শম্ভু পাল, ওহাব এবং বাহেরচর এলাকার জিয়া, রফিক ম্যানেজ কৌশলে মাসিক চুক্তির ভিত্তিতে প্রকাশ্যে মাটি কেটে নিচ্ছে। প্রতিবছরই বর্ষার মৌসুমে

এ চক্রটি ওই চরের বন্দোপ্তপ্রাপ্ত মালিকদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে জোড়পূর্বক মাটি কেটে নিচ্ছে।
এলাকাবাসী জানায়, অভিযোগ করা হলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। বাহেরচর গ্রামের বাসিন্দা ভ’মি বন্দোবস্ত প্রাপ্ত শহিদুল গাজী, মতিন গাজী জানান, ২৫/৩০টি ট্রলার এসে মাটি ভর্তি করে দ্রুত কলসকাঠী ইটভাটায় চলে যায়। আংগারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সুলতান আহম্মেদ হাওলাদার অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পুলিশকে জানিয়ে কোন লাভ হচ্ছে না। উপজেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপণ করেছি। দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত দিবাকর চন্দ্র দাস বলেন, মাটি কাটার খবর পেয়ে থানা থেকে নদী পারাপার হয়ে পুলিশ পৌছার আগেই চোরের দল কেটে পড়ে। পুলিশ গিয়ে তাদের নাগাল পায় না বলেই ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুন নাহার বলেন, আমার কাছে অনেক অভিযোগ এসেছে। ইতিমধ্যে আমি তা উপরস্থ কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।ভবিষ্যতে যাতে মাটি না কাটতে পারে সেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebook Comments