পাথরঘাটার ভুয়া ইঞ্জিনিয়ার মামুন’র ৫ বিয়ে!

জুলাই ১৩ ২০১৭, ২১:৩৪

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সিনেমার গল্প এবার বাস্তবে। ‘ডলি কি ডোলি’-ছবিতে একের পরে এক পুরুষের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন সোনম কপুর। আর রাত ফুরোলেই ঘর থেকে দামি জিনিসপত্র নিয়ে হাওয়া হয়ে যেত নায়িকা। দীর্ঘদিন এমনটাই চলার পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ে সে।
এবার রিল লাইফের সেই ঘটনারই বাস্তবিক স্বাক্ষী থাকল বরিশালের দক্ষিণের জনপদ বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা। কাঠালতলি ইউনিয়নের বুরজুকপুর গ্রামের দক্ষিণ তালুকের চরদোয়ানি নিবাসী শহিদ জোমাদ্দার’র পুত্র ভুয়া ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মামুন ওরফে রহিদ ওরফে আকাশ নামে বছর আঠাশের এক যুবক ঠিক এমন কাণ্ডটাই ঘটালেন। এক বা দুই নয়, ০৫ জন মহিলাকে বিয়ে করে তাঁদের সর্বস্ব হাতিয়ে নিয়েছেন এই যুবক। অবশেষে তার এহেন কু-কীর্তি ফাঁস হতে চলছে।
একাধিক অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল কিংবা ফেইসবুকে পরিচয়ের মাধ্যমে মোট ০৫ জন মহিলাকে বিয়ে করেছে মামুন। মূলত ধর্নাঢ্য ও দেখতে সুন্দরী মহিলাদেরই টার্গেট করত এই যুবক। দেখতে হ্যান্ডসাম হওয়ায় সহজেই তাকে বিশ্বাসও করে নিত ওই মহিলারা। বিয়ের পরে ওই মহিলাদের সঙ্গে বেশ কয়েকদিন কাটাতো সে। এরপর যৌতুক কিংবা অন্য কোন অজুহাতে অত্যাচার-নির্যাতন করতো স্ত্রীদের। তারপর সুযোগ পেলেই সর্বস্ব হাতিয়ে নিয়ে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দিয়ে স্ত্রীদের নিকট থেকে পালিয়ে যায় প্রতারক ও ভন্ড মামুন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৪ কিংবা ১৫ বছর বয়সে পাথরঘাটার মেয়ে ‘রেখা’ নামে এক কিশোরীকে বিয়ে করে মামুন। কিন্তু বিধিবাম! ১৫ দিনের মাথায় তাকে ডিভোর্স দেয়। এরপর ‘সাথী’ নামে ওই একই গ্রামের আরেক কিশোরীকে বিয়ে করে মামুন। সেখানেও ৬ মাসের সংসার জীবন শেষে ‘সাথী’কে ডিভোর্স দেয় মামুন।
এরপর পেটের জ্বালায় মামুন তার এক নিকটাত্মীয়ের সাথে কুমিল্লায় গিয়ে একটি ওয়ার্কশপে কাজ নেয়। সেখানে ‘বিষ্টি’ নামে এক যুবতীকে বিয়ে করে সংসার

জীবন শুরু করেন এই মামুন। বছর পাঁচেক ঘর-সংসার শেষে ‘মেহেদী হাসান বাধন’ ওরফে ‘রুম্মান’ নামে সাড়ে ৩ বছরের পুত্র সন্তানসহ ‘বৃষ্টি’কে ফেলে রেখে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয় মামুন।
তারপর ফোনালাপের মাধ্যমে পরিচয় হয় পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলার মেয়ে রোকেয়া’র সাথে। বছর আড়াই পূর্বে রোকেয়াকে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে এক পর্যায়ে বিয়ে করে মামুন। সম্প্রতি রাকিবুল হাসান রাব্বি নামে দেড় বছরের এক পুত্র সন্তানসহ রোকেয়াকে বাবার বাড়ি ফেলে রেখে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায় এই যুবক।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, এই যুবকের সাথে ফোনালাপের মাধ্যমে পরিচয় হয় স্বরূপকাঠীর মেয়ে লিমা’র। প্রায় ১ বছর আগে গোপনে বিয়ে করে লিমা’কে। বর্তমানে লিমাকেও ডিভোর্স দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করার দর কষাকষি করছে মামুন। এ তথ্য একাধিক সূত্রে প্রাপ্ত। এলাকায় এ খবর ছড়িয়ে পড়লে পাথরঘাটায় ‘আরেক এরশাদ সিকদার’র আবির্ভাব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন এলাকাবাসী।
নিজ এলাকায় মামুন ভন্ড, রোমিও, প্রতারক ও নারী লোভী হিসেবে খ্যাত। সে নিজেকে আওয়ামী লীগ করি বলে বিভিন্ন জায়গায় পরিচয় দেয়। সূত্রে আরো জানা গেছে, মামুন মেয়েদের সাথে প্রেমের পূর্বে নিজেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার পরিচয় দিয়ে কথোপকথন শুরু করে। আকাশ, রহিদ ও মামুন নামে তার একাধিক ফেইসবুক আইডি রয়েছে।
খবরের মধ্যে আরো খবর হলো- কুমিল্লা থেকে পালিয়ে রাজধানী ঢাকা গিয়ে ফল ব্যবসা শুরু করে মামুন। বর্তমানে বরগুনার পুরান বাসস্ট্যান্ডে মামুন থাই এ্যালুমিনিয়াম নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ১ বছরে স্থান পরিবর্তন করেছে ৬ বার। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বরিশালে ৬ লাখ টাকার চেক প্রতারণার একটি মামলা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সে স্ত্রীদের তালাক দেয়ার পূর্বে হুশিয়ার উচ্চরণ করে বলে আমাকে কেউ কিছু করতে পারবে না। তার মোবাইল : ০১৭১১ ০৫৭০৯৫, ০১৬১১ ০৫৭০৯৭, ০১৭১৬ ২১৯৭৯৬

Facebook Comments