পাথরঘাটায় জোয়ারের পানিতে ১১ গ্রাম গ্রাম প্লাবিত

আপডেট : June, 12, 2017, 10:37 pm

পাথরঘাটা প্রতিনিধি: সাগরে আবহাওয়ার ৩ নম্বর সতর্ক সংকেতে লঘু চাপের প্রভাবে বৃষ্টি ও জোয়ারে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রিংবাঁধের ওপর দিয়ে পানি উপচে পরে বরগুনার পাথরঘাটা জীনতলা ও রুহিতা গ্রামসহ ১১টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় ওই গ্রামের পরিবারগুলোয় এখন র্দুদিন। গত ২দিনে এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানি বন্ধি হয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটছে। এসময় ক্ষতিগ্রস্থরা প্রশাসনে কাছে বেরিবাঁধ নির্মানের দাবী জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মো.রফিক, মনোজ, ফারুকসহ অনেকে জানান, গত বছরের ৩ আগষ্ট গভীর রাতে হঠাৎ করে জীনতলা এলাকার ২শ মিটার বেরিবাঁধ ও রুহিতা গ্রামের ৭শ ফুট বেরিবাধ ভেঙ্গে যায়। সেই থেকে জীনতলা গ্রামের মনুষ বাঁধটি নির্মানের দাবী করে মানববন্ধন, মিছিল স্বারকলিপিসহ নানা কর্মসুচি পালন করেছেন তারপরও কর্তিপক্ষের বাধটি নির্মানে টনক নরেনী। এসব দাবীদাওয়ার সময় পাথরঘাটা উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রিপন তার পরিষদের মাধ্যমে কিছু আর্থিক সহায়তায় ওই এলাকার মানুষের সেচ্ছা শ্রেমে একটি রিংবাধ দেয়া হলেও রোববার রাতে সাগরের পানি বৃদ্ধি পেয়ে রিংবাধের ওপর দিয়ে পানি উপচে পরে এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

এসব এলাকায় গত ২ দিন ধরে লবনাক্ত পানি আটকে পড়ায় ২ হাজার একর জমির বিজতলা নষ্ট হয়ে গেছে বাড়ির গাছপালা মরে যাচ্ছে।এ ছাড়া এলাকায় বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দেয়ায় ছোট ছেলে মেয়েদের পানি বাহিত রোগ দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের রুহিতা ও জীনতলা ফ্যাহার খাল এলাকার ছোট বড় মিলিয়ে কমপক্ষে অর্ধশত মাছের ঘের তলিয়ে কোটি টাকার ওপরে মাছ নদীর জলে ভেসে গেছে। পাথরঘাটা বন বিভাগের রেঞ্জকর্মকর্তা সোলায়মান হাওলাদার জানিয়েছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারনে সাগরে পানি বৃদ্ধি পেয়ে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ ফুট পানির উচ্চতা বেড়েছে। একারণে জঙ্গলের পশু বন্যপ্রানীরা লোকালয় ধাবিত হচ্ছে। এ সুযোগে যাতে কোন অসাধু হরিণ শিকারিরা বনের হরিণ শিকার করতে না পারে সেজন্য বন প্রহরিদের টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে সাগর উত্তল থাকায় ঢেউয়ের কারণে জঙ্গলের বাঙ্গন কবলিত এলাকার ২ সহস্রাধীক গাছ বেঙ্গে পরেছে। বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানিয়েছেন, অধিকাংশ ট্রলার সুন্দরবনের মেহেরআলি, আলোরকোল, বেদাখালী, দুবলা, কটকাসহ বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে।

Facebook Comments