পিরোজপুরে হত্যার দায়ে ৩জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ

আপডেট : July, 31, 2017, 3:46 pm

পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ পিরোজপুর সদর উপজেলার কালিকাঠি গ্রামে ২০১২ সালে ফিরোজ মাঝি (২২) নামে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অস্থায়ী কর্মচারীকে হত্যার অভিযোগে তিনজনের ফাঁসি ও সাতজনের যাবজ্জীবনের আদেশ দিয়েছে পিরোজপুরের একটি আদালত।
আজ সোমবার দুপুরে পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এস এম জিল্লুর রহমান এ আদেশ দেন। আদালত যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেয়।
ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন- কালিকাঠি গ্রামের আমীর আলী খানের ছেলে রেজাউল খাঁন (২৪), মৃত আব্দুল লতিফ মোল্লার ছেলে শাহিনুর রহমান মোল্লা ওরফে শানু (৪০) এবং হাকিম বেপারীর ছেলে মিজান বেপারী (২৭)। এছাড়া যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন- একই গ্রামের রেজাউলের মা রেকসনা (৪০), হালিম আকনের ছেলে নিজাম আকন, আনছার উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ (২৩), মোজাম্মেল হোসেন শেখের ছেলে ওমর ফারুক মিঠু (২৪), হাবিবুর রহমান মাতুব্বরের ছেলে মামুন মাতুব্বর, হাকিম তালুকদারের ছেলে লিমন তালুকদার এবং সেলিমের ছেলে রাসেল।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, নিহত ফিরোজ সম্পর্কে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রেজাউলের ফুফাতো ভাই এবং তারা একই এলাকায় বাস করে। তিনি ফিরোজের বোনকে বিয়ে করার জন্য বিভিন্ন সময়ে পিড়াপিড়ি করছিলেন। পরে
ফিরোজের মা তার মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দেন। এ ঘটনায় রেজাউল ও তার মা ক্ষিপ্ত হয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কয়েক দফা ঝগড়া বিবাদ ও সালিশের ঘটনাও ঘটে। সর্বশেষ ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল রাতে ওয়াজ মাহফিল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওঁৎ পেতে থাকা রেজাউলসহ ১২-১৪ জন যুবক ফিরোজকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে চলে যায়। ফলে ফিরোজের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।
এ হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ রেজাউলসহ চার জনকে আটক করে। পরের দিন নিহত ফিরোজের মা নাছিমা বেগম বাদী হয়ে পিরোজপুর সদর থানায় ১০ জন নামীয় এবং আরও ৪/৫ জন অজ্ঞাতকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
আদালত ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য প্রমাণাদি যাচাই শেষে এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় ১০ জন সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে ৮ জন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত রেজাউল ও শানু উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেওয়ার পর পলাতক রয়েছেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে পিপি খান মো. আলাউদ্দিন ও এপিপি জহিরুল হক এবং আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট মো. সিরাজুল হক ও অ্যাডভোকেট আহসানুল কবির বাদল কৌঁশুলী ছিলেন।
Facebook Comments