পুলিশ হেফাজতে কলেজ ছাত্র নির্যাতনের রিভিশন আবেদন আমলে নিয়েছে আদালত

অক্টোবর ০৯ ২০১৭, ২১:৩৫

ঝালকাঠি: রাজাপুরের কলেজ ছাত্র আদনানকে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন ও অপচিকিৎসা করে ধামাচাপা দেয়ার ঘটনায় ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে দায়েরকৃত রিভিশন আবেদন গ্রহন করা হয়েছে।

গত রবিবার এ আদালতে দায়েরকৃত রিভিশন আবেদনে ঝালকাঠি পুলিশের ইমেজ নষ্টকারী রাজাপুর থানার বিতর্কিত ওসি মুনির উল গিয়াসসহ ৩ পুলিশ কর্মকর্তা ও এক চিকিৎসকসহ ৪সরকারী কর্মচারীকে আসামী রয়েছে। পুলিশের উর্ধতন মহলের তদবির ও চাপের মুখে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত অভিযোগ খারিজ করায় বাদী কলেজ ছাত্র ইমরান হোসেন আদনান এ আবেদন করেছেন।

অন্যদিকে রাজাপুরের ব্যবসায়ী মো. খায়রুল মীর অপহরন ও গুমের শিকার একটি পরিবার আইনের আশ্রয় নিতে এসে ওসি শেখ মুনিরের বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগে করা সংবাদ সম্মেলনের বিষয় তদন্তে গত রবিবার সকালে ওসি মুনির ও অভিযোগকারীকে ঝালকাঠি পুলিশ সুপার কার্যালয়ে ডাকা হয় বলে ভূক্তভুগীরা জানায়।

সেখানে পুলিশ সুপাররের সম্মুখে অভিযোগকারীরা ওসি মুনির উল গিয়াস হয়রানি ও প্রতারনার চিত্র তুলে ধরলে তিনি তার সদুত্তর দিতে পারেনি বলে ভূক্তভুগীদের একটি সূত্র জানিয়েছে।

নির্যাতিত কলেজ ছাত্র বাদী ইমরান হোসেন আদনান ও পক্ষে তার আইনজীবী এড. খান শহিদুল ইসলাম আবেদনে উল্লেখ করেন, ৮ডিসেম্বর রাতে বাদী ও ১নং স্বাক্ষী কে বাসা থেকে সম্পূর্ন সুস্থ অবস্থায় ডেকে রাজাপুর থানায় আনে ও ১নং আসামীর কক্ষে নিয়ে বাদীকে একটি চুরি মামলায় স্বীকারোক্তি জন্য চাপ সৃষ্টির এক পর্যায়ে মধ্যযুগীয় নির্যাতন করেন। যে কারনে বাদীকে মধ্যরাতে অসুস্থ অবস্থায় রাজাপুর হাসপাতালে নেয়াতেই প্রমান হয়েছে। তবে আসামীরা পুলিশী প্রভাব বিস্তার করে ডাক্তারকে ম্যানেজ করে

নির্যাতনের প্রকৃত চিত্র হাসপাতাল রেজিষ্ট্রারে উল্লেখ না করে গোপন রাখে। অথচ বিজ্ঞ আমলী আদালত পুলিশের উচ্চ্ পর্যায়ের কর্তকর্তাদের তদবীর ও চাপের মুখে আসামী পুলিশ সদস্যদের ছাড় দিতে মামলাটি খারিজ করেন।

নির্যাতিত কলেজ ছাত্র বাদী ইমরান হোসেন আদনান ও পক্ষে তার আইনজীবী বলেন, আমলী আদালতে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারন আইন ২০১৩ সনের ১৫ (১) ধারায় অভিযোগ আনায়ন করলেও আদালতের উল্লেখিত আইনে প্রতিবিধান না করে দঃবিঃ ৩২৫ ধারার অভিযোগের সত্যতা নেই মর্মে মামলাটি খারিজ করায় বাদীর ন্যায় বিচার বঞ্চিত হয়েছেন এল রিভিশন মামলা করেন বলে জানান।

অন্যদিকে ৮ সেপ্টেম্ভর রাজাপুর বাইপাস এলাকার ব্যবসায়ী মো. খায়রুল মীর অপহরন ও গুমের কয়েক দিন পর তার পরিবার আইনের আশ্রয় নিতে থানায় গেলে ওসি শেখ মুনির তাদের সাথে র্দূব্যবহার করেন ও পরবর্তীতে একটি জিডি রেকর্ড করলেও পুলিশ তাদের সাথে প্রতারণার করেন বলে অভিযোগে তুলে ঝালকাঠিতে সংবাদ সম্মেলন করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গুম হওয়া খায়রুল মীরে পরিবারকে রবিবার বেলা ১১টায় ঝালকাঠি পুলিশ সুপার কার্যালয়ে উপস্থিত হন।

এ সময় গুম ব্যক্তির স্ত্রী নারগিস বেগম, তার বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ে মারিয়া (১৩) ও শিশুকন্যা তাসিয়া (৩), তার মামা পরিবহন ব্যবসায়ী মোঃ মহিউদ্দিন যুবমহিলা লীগ নেত্রী পিনু বেগম সহ তাদের স্বজনরা উপস্থিত হয়ে উর্ধতন কর্মকর্তার সম্মুখে ওসি শেখ মুনির উল গিয়াসের প্রতারনার মুখোশ খুলে দেন।

তবে পূর্বের একাধিক ঘটনার ন্যায় এবারেও রাজাপুর থানার ওসি শেখ মুনির উল গিয়াস থানায় ছিলেনা বলে দায় এড়ানোর প্রচেষ্টা চালান বলে ভূক্তোভুগীরা জানান।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>