প্রকৃতির ফন্দিবাজরা

আপডেট : June, 7, 2017, 3:40 pm

ছলনার মাধ্যমে নিজের স্বার্থ হাসিলের ঘটনা যে কেবল মানব সমাজে ঘটে তা নয়—প্রকৃতির ‘পশুপাখি ও মত্স সমাজেও’ এমন বাসিন্দার অভাব নেই যারা  নিজেদের খুব ‘সেয়ানা’ এবং অন্যদের বোকা মনে করে। আর ছলনা করবেই না বা কেন, তাদের সমাজে বেঁচে থাকার জন্য প্রতিযোগিতা যে খুব বেশি। প্রকৃতির কয়েকজন চতুর বাসিন্দার পরিচিতি তুলে ধরা হলো:
ব্লু জে: এই পাখি মূলত আমেরিকার মধ্য এবং কেন্দ্রীয় অঞ্চলের বাসিন্দা। এরা প্রকৃতির অন্যতম ‘ধান্দাবাজ’। এরা বাজ পাখির গলার আওয়াজ হুবহু নকল করতে পারে। এ কারণে এরা পরিশ্রম করে নিজের খাবার খোঁজে না। ক্ষুধা লাগলে এরা আড়ালে বসে কেবল খেয়াল করে কোন পাখি খাবার খাচ্ছে। তখন সে ওই পাখিটির পেছনে গিয়ে বাজ পাখির ডাক ছাড়ে। বাজের পেটে যাবার পাখিটি পড়িমরি করে উড়ে চলে যায় আর ব্লু জে তার খাবার খেয়ে নেয়।
কাউবার্ড: উত্তর আমেরিকার এই পাখিটি অলস প্রকৃতির। এরা নিজেরা বাসা তৈরী করে না। নারী কাউবার্ড এক ঋতুতে ৪০টির মতো ডিম পাড়ে। তবে সব ডিম পাড়ে অন্য প্রজাতির পাখির বাসায়। সেই বাসার মা পাখি যখন খাবার খুঁজতে যায় তখনই কাউবার্ড সেখানে
ডিম পেড়ে চলে আসে।
ইস্টার্ন গ্রে স্কুইরেল: এই কাঠবিড়ালীর পুরো গোষ্ঠিই ধান্দাবাজ। এদের একজন অন্যজনের যোগাড় করে আনা খাবার চুরি করে খায়। কে খাবার যোগাড় করেছে এবং কোথায় লুকিয়ে রাখছে সেই দিকে নজর থাকে আরেকজনের। একারণে কোনো কাঠবিড়ালি খাবার খুঁজে পেলে তা লুকানোর সময় সেটি মুখে নিয়ে অসংখ্যবার মাটির গর্তে বা আবর্জনার নিচে মুখ ঢুকিয়ে খাবার লুকানোর অভিনয় করে। এর মধ্যে কোনো একটি গর্তে সে খাবারটি লুকিয়ে ফেলে। কোন গর্তে সে খাবার লুকালো তা অন্য কাঠবিড়ালিদের কাছে ‘রহস্য’ থেকে যায়। অনেক সময় এরা খাবার লুকায় এক স্থানে কিন্তু আবর্জনা জড়ো করে আরেক স্থানে যাতে সেখানে খাবার খুঁজে তার জ্ঞাতিভাইরা ‘বেকুব’ বনে যায়।
কাটল ফিস: কাটল ফিস খুব চতুর প্রজাতির মাছ। বড় একটি পুরুষ কাটল ফিস ছোট কাটল ফিস দেখলেই আক্রমণ করে। তাই ছোট কাটল ফিস তার পাড়ার কোনো ‘বড় ভাইয়ের’ সামনে পড়লে হামলার ভয়ে নারী কাটলফিসের রূপ ধারণ করে এবং নারীদের মতো আচরণ করে। আর পুরুষ কাটল ফিস মেয়েদের উপর হামলা চালায় না। সেদিক দিয়ে তারা অনেক ‘ভদ্র’।  ফলে বেঁচে যায় ছোট মাছটি। হেডলাইনস উইকি।
Facebook Comments