‘প্রত্যেক নির্বাচনে নৌকা বিক্রি করেছেন পিরোজপুরের এমপি আউয়াল!

মে ২৭ ২০১৭, ১০:৫০

পুলক চ্যাটার্জি,অতিথি প্রতিবেদকঃ পিরোজপুর জেলা সদর, নাজিরপুর ও স্বরূপকাঠি উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুর-১ সংসদীয় আসনটি ঐতিহাসিকভাবে ‘নৌকার আসন’ বলে পরিচিত হলেও মাঝে আওয়ামী লীগের প্রভাবে ভাটা পড়ে। ১৯৯৬ ও ২০০১-এর জাতীয় নির্বাচনে আসনটি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির কবলে পড়ে। ২০০৮ সালে যিনি আসনটি নৌকার জন্য পুনরুদ্ধার করেছিলেন জোর নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে সেই একেএম আউয়াল ২০১৪ সালে বিনা ভোটেই পাস করে যান অর্থাৎ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত। কিন্তু এই সময়কালে দুঃখজনকভাবে সুনাম ও জনপ্রিয়তা হারিয়ে এখন তিনি নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা সংসদ সদস্য আউয়ালকে জনবিচ্ছিন্ন উল্লেখ করে প্রমাণস্বরূপ বলেন, গত মে-দিবস ও ১৭ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের দলীয় কর্মসূচিতে তিনি উপস্থিত হননি। তিনি এই ছোট শহরেও চলাফেরা করেন তার গাড়ির সঙ্গে ব্যক্তিগত অনুসারী ৩০-৩৫ জন যুবকের মোটরসাইকেল বহর নিয়ে।

আওয়ামী লীগে এমপি আউয়ালের সমালোচক নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন অংশের কাছ থেকে তার সম্পর্কে যেসব অভিযোগ পাওয়া যায় তা তিন ধরনের_ ১. তিনি আপন তিন ভাই, স্ত্রী ও আত্মীয়স্বজনকে দলের পদ-পদবি দিয়ে আওয়ামী লীগকে ‘আউয়াল লীগ’ নামে পরিচিত করিয়েছেন; ২. তিনি জামায়াতে ইসলামীর লোকজনকে পৃষ্ঠপোষকতা দেন এবং তাদের কয়েকজনকে দলে ঢোকার সুযোগ করে দিয়েছেন এবং ৩. তিনি নামে-বেনামে, ভুয়া নাম ব্যবহার করে, নিজের নামাঙ্কিত ‘আউয়াল ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারি জমি, অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত জমি লিজ নিয়ে, দখল করে বিত্তবান হয়েছেন এবং টেন্ডারবাজি, নিয়োগ বাণিজ্য, মনোনয়ন বাণিজ্য ইত্যাদির মাধ্যমে অর্থসম্পদ বাড়িয়ে চলেছেন।

পরিবার নিয়ে অর্থ-বিত্তের পেছনে ছুটতে ছুটতে এমন অবস্থা হয়েছে যে সেই পরিবারের মধ্যেই তথা নিজের ভাইদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব-সংঘাতে হানাহানি ও খুনোখুনি পর্যন্ত ঘটছে।

এমপি আউয়াল সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি সম্পদ যা বাড়িয়েছেন তা নিজের পৈতৃক জমিতে এবং আওয়ামী লীগে তার বিরুদ্ধে বলছেন কেবল স্বার্থান্বেষী নেতারা। ভাইয়েরা তাদের ভুল বুঝতে পারায় এখন বিরোধ মিটে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ভাবমূর্তির অবসান :পিরোজপুরের এই আসনটির আরেক বৈশিষ্ট্য জামায়াতে ইসলামীর সুপরিচিত নেতা ও ১৯৭১-এর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে বর্তমানে আমৃত্যু কারাদণ্ড ভোগে জেলবন্দি মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর অবস্থান। ১৯৯৬ ও ২০০১-এ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হয়ে দু’দফা সাঈদী সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তফা জামাল হায়দার ও চারদলীয় জোট প্রার্থী জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে পরাজিত করে এখানে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মুক্তিযোদ্ধা, বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএমএ আউয়াল। বিপুল জনপ্রিয়তা নিয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে যাত্রা শুরু করার মাত্র ২-৩ বছরের মাথায় তা হারাতে শুরু করেন এমপি আউয়াল। দলের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, মুক্তিযোদ্ধার ইমেজে বিজয়ী আউয়ালের সবকিছু এখন ম্লান হয়ে গেছে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ায়। একাত্তরের শান্তি কমিটির সহসভাপতি আবদুল হাই শেখের ছেলে শেখ টিপু সুলতানকে নাজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করেছেন তিনি। টিপুর ভাই শেখ শাজাহান এখন মালিখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তিকে দলে পুনর্বাসন প্রসঙ্গে এমপি আউয়াল  বলেন, ‘আমি গুলি খাওয়া মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির সঙ্গে আপস করিনি বলেই সাঈদী আজ জেলে। যারা এসব অপপ্রচার করে তারা দলের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা বিএনপি-জামায়াতের সহযোগী। আমাকে কোনোভাবে ঠেকাতে না পেরে ওই অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

অন্যদিকে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাকিম হাওলাদার এমপি আউয়াল সম্পর্কে বলেন, ‘তার কাছ থেকে দলের নেতাকর্মীরা অনেক কিছু আশা করেছিলেন; কিন্তু তিনি এমনটা হবেন, স্বপ্নেও ভাবিনি। দলীয় কোনো কার্যক্রমে এখন তাকে পাই না। আট-নয় মাস আগে জেলার নতুন কমিটি হয়েছে, তিনি সভাপতি। একটি সভাও করতে পারেননি। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতা করেছেন। একই কাজ করেছেন জেলা পরিষদ নির্বাচনেও। নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারলেন আউয়াল। পিরোজপুর-১ আসনটি নৌকার হলেও আমরা জেলা নেতারাসহ মাঠ নেতাকর্মীরা আশঙ্কায় আছি আগামী নির্বাচনে জয়ী হতে পারব কি-না?’

স্বরূপকাঠি উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা অভিযোগ করেছেন, বিএনপির সময় স্বরূপকাঠি রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. মোস্তফা গোটা স্বরূপকাঠিতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েমকারীদের অন্যতম। এমপি আউয়ালের হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে ফের রিকমা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হয়েছেন। বিএনপির ক্যাডার বাহিনীর শীর্ষ নেতাদের অন্যতম সেহাঙ্গলের ত্রাস, মুকুল, কামাল, ফেরদৌস এমপি আউয়ালের হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করে পুনরায় সমুদয়কাঠি ইউনিয়নে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।

দলে পরিবারতন্ত্র :পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতা বলেছেন, পিরোজপুরের আওয়ামী লীগকে বলা হয় আউয়াল লীগ। আট মাস আগে গঠিত জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে এমপি নিজে এখন সভাপতি। তার ছোট ভাই মুজিবুর রহমান খালেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। আরেক ছোট ভাই পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক কমিটির সদস্য। আউয়ালের স্ত্রী লায়লা ইরাদ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। আউয়ালের আরেক ছোট ভাই মশিউর রহমান মহারাজ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহ-সম্পাদক এবং জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি। অভিযোগ আছে, সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা জসিম খানের কাছ থেকে বাস মালিক সমিতির সভাপতির পদ ছিনিয়ে নেওয়া হয় এমপি আউয়ালের প্রভাবে। মশিউর রহমান মহারাজ একই সঙ্গে পিরোজপুর চেম্বার অব কমার্সের

সভাপতি। এমপি আউয়ালের বোন মর্জিনা বেগম স্থানীয় একটি নারী সংগঠনের নেতৃত্বে থেকে নানা ক্ষেত্রে প্রভাবশালী।

এ জেলা আওয়ামী লীগে পরিবারের একচ্ছত্র প্রভাবের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে এমপি আউয়াল বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে সম্মেলনের মাধ্যমে কাউন্সিলদের ভোটে কমিটি হয়েছে। আমি কোনো কমিটি করিনি, পরিবর্তন করারও সুযোগ নেই।’

দখল-সন্ত্রাস :নাম প্রকাশ না করার শর্তে নাজিরপুর উপজেলার এক ইউপি চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, এ উপজেলার থানার সামনে খাস জমি কৌশলে লিজ নিয়ে গেস্ট হাউস বানিয়েছেন এমপি আউয়াল। অভিযোগ আছে, ছয়টি ভুয়া নাম দিয়ে ২০০৯ সালে ওই জমি নিজের আয়ত্তে নেন তিনি। পিরোজপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র রাজারহাটে রাজারপুকুর নামে পরিচিত জলাশয় এবং তার চারপাশে ৩৮ শতাংশ জমি দখল করে সেখানে টানানো হয়েছে আউয়াল ফাউন্ডেশন নামের প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড। অর্পিত সম্পত্তির তালিকায় থাকা ওই জমির ভুয়া দাতা সাজিয়ে ৩৮ লাখ টাকা মূল্য দেখিয়ে ক্রয়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পৌর শহরের পাড়ের হাট সড়কে আউয়ালের বাসভবনের সামনে থাকা জেলা পরিষদের বিশাল দুটি জলাশয় এবং সংলগ্ন জমি নিজের নামে দখলের অভিযোগ রয়েছে এমপি আউয়ালের বিরুদ্ধে। ওই দখল ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের এক কেন্দ্রীয় নেতার পৈতৃক জমিও যুক্ত হয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বরূপকাঠি আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, ইমাম সমিতির লিজ নেওয়া অর্পিত সম্পত্তি আউয়াল ফাউন্ডেশনের নামে দখলে নিয়ে সেখানে দ্বিতল ভবন তৈরি করেছে আউয়াল সমর্থকরা। স্বরূপকাঠি বাসস্ট্যান্ড ও মিয়ারহাট ট্রলার ঘাট দখলে নিয়ে এমপির সমর্থকরা টোল আদায় করছে। একইভাবে টেম্পোস্ট্যান্ড ও মোটরসাইকেল স্ট্যান্ড দখলে নিয়েছে আউয়াল সমর্থকরা। স্বরূপকাঠিতে স্বাভাবিকভাবে কোনো টেন্ডার হয় না। হলেও তার লটারি এমপি আউয়াল নিজে করেন বলে অভিযোগ আছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জায়গা দখলে নিয়ে এমপি আউয়ালের ছেলে আধাপাকা মার্কেট নির্মাণ করেছেন।

এসব অবৈধ দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে এমপি আউয়াল  বলেন, তিনি পৈতৃক সম্পত্তিতে আউয়াল ফাউন্ডেশন করেছেন। স্বরূপকাঠিতে ওই ফাউন্ডেশনের কোনো শাখা নেই।

ভ্রাতৃ সংঘাত :এমপি আউয়ালের সঙ্গে তার তিন ভাই পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান খালেক ও চেম্বার সভাপতি মশিউর রহমান মাহারাজের সম্পর্ক এখন দা-কুড়ালের। এ দ্বন্দ্বের জেরে এমপি সমর্থক দুই ছাত্রলীগ নেতাকে মারধর করে হাত-পা ভেঙে দেয় প্রতিপক্ষ। এ ঘটনার পর এমপি আউয়াল প্রকাশ্য জনসভায় তার ভাইদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘বেশি বাড়াবাড়ি করলে ফল ভালো হবে না, আমার নেতাকর্মীদের ওপর যারা হামলা করবে তাদের পিরোজপুরছাড়া করা হবে।’

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের বেকুটিয়া ও টগরা ফেরিঘাট এবং বলেশ্বর ব্রিজের টোল আদায়ের ইজারাদার ছিলেন এমপি আউয়ালের মেজ ভাই পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক। ওই তিনটির ইজারা পাওয়া নিয়ে ভাইদের সঙ্গে এমপি আউয়ালের দ্বন্দ্বের সূত্রপাত।

জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক বলেন, ‘আমি ১৪ বছর ধরে পৌর চেয়ারম্যান ও মেয়র। এ সময়ের মধ্যে মাত্র ২৪ শতাংশ জমি কিনেছি। অথচ বড় ভাই হয়েছেন বিপুল বৈভবের মালিক। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি হলফনামায় বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। ওই নির্বাচনে আমি এবং অন্য এক ভাই ৯ লাখ টাকা ব্যয় করেছি তার জন্য। এমপি হওয়ার সুবাদে ঢাকায় কিনেছেন কোটি টাকার বাড়ি। কয়েক কোটি টাকার দুটি জাহাজের মালিক হয়েছেন। শুল্ক সুবিধা নিয়ে অর্ধকোটি টাকায় কিনেছেন ল্যান্ড ত্রুক্রজার প্রাডো গাড়ি। এসব সম্পদের উৎস জানে না পিরোজপুরবাসী?’

মেয়র মালেক নিজের ভাইয়ের মনোনয়ন বাণিজ্যের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘প্রত্যেক ইউপি নির্বাচনে নৌকা বিক্রি করেছেন তিনি। চুপ থাকলে মানুষ ভাববে আমরাও এসবের সঙ্গে আছি। তাই মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছি। সবাই মিলে যুদ্ধাপরাধী সাঈদীকে হারালাম। আর তিনি সাঈদীর ছেলে শামিম সাঈদীকে বানালেন উপজেলা চেয়ারম্যান।’

তবে ভাইদের সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই দাবি করে এমপি আউয়াল বলেন, ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে আমার ভাইয়েরা হয়তো একটু এদিক-ওদিক হয়েছিল। আমার ভাইয়েরা তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে। এখন আমাদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই।’

সম্প্রতি দশ দিনের ব্যবধানে পিরোজপুরে দুই ছাত্র ও যুবলীগ নেতা খুনের পেছনে এমপি ও ভাইদের দ্বন্দ্ব কাজ করতে পারে বলে এলাকায় সন্দেহ আছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, গত ৪ মে রাতে পিরোজপুর সদর উপজেলার জুজখোলা গ্রামে ছাত্রলীগ নেতা সাকিব হাওলাদারকে কুপিয়ে জখম করে দলীয় প্রতিপক্ষ। সাকিব পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেকের অনুসারী। সাকিবের সঙ্গে থাকা আরও দু’জনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ মে ভোররাতে মারা যান সাকিব।

এর আগে এমপি আউয়াল অনুসারী যুবলীগ নেতা মো. রাসেল শেখকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ২৪ এপ্রিল বিকেলে পিরোজপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বাইপাস সড়কে রাসেল শেখকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এমপি আউয়াল মনে করেন না তাদের ভাইদের মধ্যে বিরোধের কারণে ওই দুই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তিনি বলেন, সাকিব ও রাসেল হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে। সাকিবের মা ঘটনায় কাউকে আসামি করে মামলা করেননি। তবে এমপি আউয়াল পিরোজপুরের পুলিশ প্রশাসন ও সদর থানার ওপর উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, তাদর কারণে শহরে খুন-রাহাজানি ঘটেই চলছে। তারাই অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে।

সূত্রঃসমকাল

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>