প্রধানমন্ত্রীকে রক্ষায় ‘বলিরপাঠা’ অর্থমন্ত্রী: রিজভী

আপডেট : June, 21, 2017, 11:04 pm

জনরোষ থেকে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারকে রক্ষার করতেই অর্থমন্ত্রীকে বলিরপাঠা বানানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ।

রিজভী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে পার্লামেন্টে সরকারি দলের সদস্যরা অর্থমন্ত্রীকে ধুইয়ে দিচ্ছেন। অর্থমন্ত্রী অযোগ্য, মানসিক ভারসাম্যহীন বলে অ্যাখ্যা দিচ্ছেন। তিনি নাকি সরকারকে ডুবাচ্ছেন। কিন্তু বাজেট পাস হয় ক্যাবিনেটে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে। তারপর রাষ্ট্রপতির অনুমতি নিয়ে পার্লামেন্টে যায়। সবই তো প্রধানমন্ত্রী ও সরকার জানে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী বলেন, ‘এজন্যেই পার্লামেন্টের মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের এমপি ও তাদের ‘বি’ টিম বাবলুকে (জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু- জাতীয় পার্টি) দিয়ে এ সমস্ত কথা বলানো হচ্ছে।’

রিজভী বলেন, গণবিরোধী এই বাজেট সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীও জানেন। এই সরকারও জানে। লুটপাটের মানসিকতার যে দর্শন সেটিকে চালু রাখার জন্য এটি করা হচ্ছে। ক্রিমিনালিস্ট থাকলে ক্রিমিনাল ইকোনমি বিরাজমান থাকে। আজ ক্রিমিনালরাই এদেশ চালাচ্ছে।

রাগুনিয়ায় মহাসচিবের গাড়িবহরে হামলার প্রসঙ্গ টেনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, পুলিশের ওসি বলেছেন- যে রুট দিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, সেটা পরিবর্তন করা হয়েছে। অদ্ভূত ব্যাপার। যে রুট দিয়ে গেছেন সেটা কী  বেলুচিস্তান না রাজস্থান যে

ওই রাস্তাটি পুলিশ প্রশাসনের বাইরে ছিল। এটা অত্যন্ত পরিকল্পিত হামলা।

তিনি বলেন, হাছান মাহমুদ কী হরিদাস পাল যে উনি এই ঘটনাটি ঘটালেন? নিশ্চয় আরও বড় জায়গা থেকে ইঙ্গিত ছিল। এই ইঙ্গিতটা কেনো? বিএনপির মতো বৃহৎ রাজনৈতিক দলের মহাসচিবের ওপর যদি এরকম একটা ঘটনা ঘটানো যায়। পাহাড় ধসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশে আনন্দ ভ্রমণে জনগণের বিরূপ প্রতিক্রিয়া আড়াল করতেই এটা করা হয়েছে?

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, হাছান মাহমুদ বলছেন- ‘এটা সাজানো নাটক। দুজন পথচারী আঘাত করেছে। তাই এ ঘটনা ঘটেছে।’ কিন্তু এটা পুলিশ প্রশাসন বলেনি। হাছান মাহমুদ সাজিয়ে বলে দিলেন।’

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী না জানলে হাছান মাহমুদের মতো একটা লোক এই ঘটনা ঘটাতে পারে না। তার এতো সাহস হতে পারে- আমার মনে হয় না।

সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সভাপতি মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের পরিচালনায় মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি আবদুল হাই শিকদার, সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ইলিয়াস খান, ডক্টর অ্যাসোসিয়েশনের অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস, ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের রিয়াজুল ইসলাম রিজু, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Facebook Comments