‘প্রধানমন্ত্রী অনুমতি দিলে মন্ত্রিসভা ছাড়বে জাপা’

আপডেট : August, 3, 2017, 11:42 pm

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায়ে আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ বলেছেন, বিচারব্যবস্থা এখন নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। সরকার যেন অসহায় হয়ে পড়েছে। আদালতের এ পর্যবেক্ষণের পর লজ্জায় আমাদের মাথা হেঁট হয়ে গেছে।

দেশের সর্বশেষ সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার এরশাদ তার বনানী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন।
এরশাদ তার বক্তব্যে দেশে চলমান খুন, ধর্ষণ, দুর্নীতি, অবিচার, চালের মূল্য এবং যানজট ও জলাবদ্ধতার চিত্র তুলে ধরে  বলেন, দেশে এখন ক্ষমতার তুফান চলছে। বগুড়ায় বাড়ি থেকে ক্যাডার দিয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত শহর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক তুফান সরকারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,  আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন-তুফান আওয়ামী লীগের কেউ না।
গঠনতান্ত্রিকভাবে এটি গ্রহণযোগ্য হলেও রাজনৈতিকভাবে খোলা চোখে মানুষ মনে করে শ্রমিক লীগ আওয়ামী লীগের অংশ। এই তুফান সরকার কী করে শ্রমিক লীগের নেতা হন? তার ভাই মতিন সরকার কী করে যুবলীগের নেতা হন? দেশে সুশাসন থাকলে কেমন করে তারা মাদক সাম্রাজ্যের অধিপতি হয়?
এমন অবস্থায় মন্ত্রিসভা থেকে জাপার মন্ত্রীরা এবং নিজে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত থেকে পদত্যাগ করবেন কি-না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এরশাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনুমতি দিলে আমরা সময়মতো পদত্যাগ করব।
দেশের এমন অবস্থায় জাপা কি চায় যে সরকার পদত্যাগ করুক- এ প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত বলেন, তা চাই না। এতে সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হবে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব কি-না, প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এই কমিশনের পরীক্ষা হয়নি, ভবিষ্যতে বোঝা যাবে।
চালের দাম বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে এরশাদ বলেন,  দেশের খাদ্য পরিস্থিতি
এখন নাজুক। আমরা ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়ার কথা শুনেছি। এখন ১০ টাকা তো দূরে থাক, সাধারণ মানুষকে ৫০ টাকায় চাল  খেতে হচ্ছে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের কাজের সুযোগ নেই। তারা কি করে বাঁচবে? খাদ্য গুদামগুলো খালি হয়ে গেল। অথচ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো হুঁশ ছিল না, এটা মার্জনা করা যায় না। এজন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
তিনি বলেন, কী ঘটছে এখন দেশে! প্রতিদিন নারী ধর্ষণের কথা পত্রিকায় আসছে। ঢাকা তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমান চোখ হারাতে বসেছেন। বগুড়ায় মা-মেয়েকে নির্যাতনের পর তাদের মাথার চুল কেটে নেয়া হলো। এসবের সঙ্গে যারা জড়িত, তারা চিহ্নিত। তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তেমনটা আমাদের চোখে পড়ছে না। জাপা ক্ষমতায় থাকাকালে দেশের এমন পরিস্থিতি ছিল না।
জলজট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়ে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, অতিবর্ষণের ফলে ঢাকা-চট্টগ্রামে কী পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তা আপনারা দেখেছেন। দেশের দুটি বড় শহরের পানি নিষ্কাশনের খালগুলো দখল হয়ে গেছে। খালের জায়গা দখল করছে কারা, নদীর পাড় দখল করে কারা ব্যবসা-বাণিজ্য করছে, বাড়ি-ঘর নির্মাণ করছে তাদের কি সরকার চিনতে পারে না?
এরশাদ বলেন, জাপা নতুনভাবে যাত্রা শুরু করেছে। দেশ ও জনগণের স্বার্থে আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে আবার আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এর মধ্যে আমরা সম্মিলিত জাতীয় জোট গঠন করেছি। আমাদের জোটের প্রতি দেশবাসীর আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জাপার কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সাহিদুর রহমান টেপা, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, সুনীল শুভরায় ও মেজর (অব.) খালেদ আখতার প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
Facebook Comments