প্রধান বিচারপতিসহ ভারতের ৭ বিচারককে গ্রেপ্তারের নির্দেশ!!

আপডেট : May, 4, 2017, 12:25 pm

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সি এস কারনানের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার আদেশ দিয়েছিল। কিন্তু তিনি তা মানবেন না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন। এবার একধাপ এগিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিসহ সাত বিচারপতির বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন বিচারপতি সি এস কারনান। বুধবার তাদের বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করা হয়।

কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে দেয়া নির্দেশে বিচারপতি কারনান জানিয়েছেন, প্রধান বিচারপতিসহ সুপ্রিম কোর্টের সাত বিচারপতিকে তার এজলাসে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। তারা তা অমান্য করায়, তাদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করছেন তিনি। পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল কিংবা দিল্লি পুলিশের কমিশনারের মাধ্যমে এই গ্রেপ্তারি কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এমনকী নির্দেশ অমান্য করলে পুলিশকর্তাদের বিরুদ্ধেও সুয়ো মোটো সাসপেনশন অর্ডার দেয়ার হুমকিও দিয়েছেন বিচারপতি কারনান।

কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সি এস কারনানের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করার জন্য সোমবার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজিকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জে এস খেহরের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ। ৮ মের মধ্যে বিচারপতি কারনানের স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরপরই পালটা বিবৃতি দিয়ে বিচারপতি কারনান বলেছেন, দেশের প্রধান বিচারপতিসহ সাত বিচারপতিদের মানসিক রোগের চিকিৎসকের কাছে যাওয়া দরকার।

এদিকে, বিচারপতি কারনান আদৌ কোনো পরীক্ষায় রাজি হবেন কিনা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুল রোহতগিও। আজ আধার কার্ড সংক্রান্ত এক ইস্যুতে শীর্ষ আদালতে সওয়াল করছিলেন তিনি। শুনানির পর সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি এ কথা বলেন।

সুপ্রিম কোর্ট ও মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি সি এস কারনান। এরপরই তার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করে শীর্ষ আদালত। বিচারপতি কারনানের বিচারবিভাগীয় ও প্রশাসনিক দায়িত্ব সাময়িকভাবে কেড়ে নেয়া

হয়। ৮ ফেব্রুয়ারির পর কারনানের জারি করা কোনো নির্দেশ, রায়কে বৈধতা বা মান্যতা না দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের সামনেও হাজির হননি বিচারপতি। পাল্টা প্রধান বিচারপতিসহ সুপ্রিম কোর্টের সাত বিচারপতিকে নিজের বাড়িতে ব্যক্তিগত এজলাসে সমন পাঠান তিনি।

কখনও মাদ্রাজ হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে, কখনও বিচারপতি নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে, কখনও বা সুপ্রিম কোর্ট থেকে নিজের বদলির নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ জারি আগেও বহুবার আলোচনায় এসেছেন বিচারপতি কারনান।

তার এক চিঠির সূত্র ধরে গত ২৩ জানুয়ারি ভারতীয় বিচারাঙ্গনে দ্বন্দ্ব বর্তমান চেহারা পেতে শুরু করে। ভারতের ২০ জন বিচারক ও তিনজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ওই চিঠি লেখেন তিনি। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দিতে না পারলেও ওই চিঠিতে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়।

এরপর ৮ ফেব্রুয়ারি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত এক আদেশে বিচারপতি কারনানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করে। সেখানে বলা হয়, বিচারপতি কারনান এর আগেও একইভাবে তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও পক্ষপাতের অভিযোগ এনেছিলেন। তার এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে কেন আদালত অবমাননা হিসেবে বিবেচনা করা হবে না- সেই ব্যাখ্যা তাকে দিতে হবে।

সেই ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য ১৩ ফেব্রুয়ারি তারিখ ঠিক করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু বিচারপতি কারনান সেদিন হাজির না হলে তাকে আরও একবার সুযোগ দিয়ে ১০ মার্চ নতুন তারিখ রাখা হয়। বিচারপতি কারনান ওই আদেশও উপেক্ষা করলে সুপ্রিম কোর্ট তার বিরুদ্ধে সমন জারি করে এবং ৩১ মার্চ তাকে আদালতে হাজির করতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে নির্দেশ দেয়। তখনই তার বিচার ও দাপ্তরিক কাজে অংশগ্রহণের ওপর অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সুপ্রিম কোর্ট। তবে বিদ্রোহী এই বিচারক তাতে দমে যাননি মোটেও।

সূত্র: এই সময়

Facebook Comments