প্রাণজুড়ানো পানীয়

রোদের তেজের পারদ এখন ঊর্ধ্বমুখী। সকাল থেকেই শুরু হয় সূর্যের চোখ রাঙানি। আর দুপুর গড়াতে গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। তাই বলে তো কাজ থেমে থাকে না। নানা কাজে বের হতে হয়। দাবদাহের সঙ্গে যুদ্ধ শেষে যখন ঘরে ফেরেন, ততক্ষণে ঘেমে জবজবে ভেজা শরীর। ঘামের সঙ্গে প্রচুর লবণ ও পানি বেরিয়ে যায়। দেখা দেয় পানিশূন্যতা। এর মাত্রা বেশি হলে হতে পারে ‘হিটস্ট্রোক’। এ জন্য পানি পান করতে হবে বেশি পরিমাণে। এ ক্ষেত্রে বেছে নিতে পারেন বিভিন্ন ফলের জুস ও শরবত। ঠান্ডা পানীয় প্রাণটা জুড়াবে, রক্ষা করবে বিপদ থেকে। তবে কোমল পানীয় এড়িয়ে চলা ভালো।
ডাবের পানি
ডাবের পানির অনেক গুণাগুণ। এতে থাকে প্রচুর পটাশিয়াম, যা শুধু পানিশূন্যতা পূরণ নয়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক। এ ছাড়া স্নায়ুতন্ত্র, মস্তিষ্ক এমনকি পেশির শক্তি ঠিক রাখার জন্য কাজ করে পটাশিয়াম। অন্যান্য খনিজের পাশাপাশি ডাবের পানিতে থাকে ম্যাগনেশিয়াম ও কপার। দুর্বলতা ও অবসাদের কারণ হতে পারে ম্যাগনেশিয়ামের অভাব। আরও আছে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, যা দেহের বিষাক্ত মৌলগুলোকে শোষণ করে। রোগপ্রতিরোধে সহায়ক প্রচুর পুষ্টি উপাদান ও ভিটামিনও রয়েছে। তা ছাড়া ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধের গুণাগুণ রয়েছে এ পানীয়তে।
লেবু–পানি
লেবুর রস ‘ভিটামিন সি’–এর অন্যতম উৎস। লেবুর পেকটিন ফাইবার (আঁশ) অন্ত্রনালি বা কোলনকে সুরক্ষা করে। তা ছাড়া হজমের জন্য দরকারি বাইল বা পিত্ত উৎপাদনে সহায়তা করে। এ দিকে প্রতিদিন সকালে লেবুর রস দিয়ে হালকা গরম পানি পান করলে শরীরে টক্সিন বা ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দেয়।
আনারসের জুস
প্রতিদিন সকালে খালি পেটে আনারসের জুস পানে অনেক উপকার পাওয়া যায়। আনারসে ‘ভিটামিন-এ’ ও বেটা ক্যারোটিন রয়েছে, যা দৃষ্টিশক্তির জন্য ভালো।

গবেষণায় দেখা গেছে, আনারসে বিদ্যমান ব্রোমেলেইন সুনির্দিষ্টসংখ্যক ক্যানসার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হজম সমস্যাও সমাধান করে এ পানীয়। আনারসে রয়েছে ফাইবার ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট। এসব উপাদান শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ সহজে বের দেয়। এ ছাড়া অন্ত্র ও লিভার পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে আনারসের জুস।
কাঁচা আম
পাকা আম সবাই পছন্দ করেন। কিন্তু কাঁচা আমের উপকারিতাও কম নয়। কাঁচা আম ব্লেন্ড করে খাওয়া যায়। এতে ভিটামিন ‘সি’ পরিপূর্ণ থাকে, যা শরীরের ক্যালসিয়ামের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে। তা ছাড়া এ পুষ্টি উপাদানটি শরীরকে ইনফ্লামেশনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে এবং রক্তজনিত রোগ হওয়ার আশঙ্কা কমায়। ভূমিকা রাখে নতুন রক্তকণিকা সৃষ্টিতে। এ ছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্য ও বদহজমের সমস্যা নিরাময় করে। কাঁচা আমে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে, যা যকৃতের স্বাস্থ্য সুরক্ষা করে। অন্যদিকে অ্যানিমিয়া, কলেরা, ডায়রিয়া, আমাশয়, পাইলসসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার ও কার্ডিয়াক রোগ প্রতিরোধ হয় নিয়মিত কাঁচা আম খেলে।
তরমুজে সতেজ শরীর
প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা তরমুজে রয়েছে ৯২ থেকে ৯৫ গ্রাম পানি, আঁশ ০.২ গ্রাম, আমিষ ০.৫ গ্রাম, চর্বি ০.২ গ্রাম ও ক্যালরি ১৫ থেকে ১৬ মিলিগ্রাম। এ ছাড়াও তরমুজে রয়েছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, কার্বোহাইড্রেট, খনিজ পদার্থ, ফসফরাস, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি ও ভিটামিন বি২।
তরমুজে আছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, যা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। তরমুজ খেলে স্ট্রেসজনিত অসুস্থতা কমে যায়। এ ছাড়াও প্রোস্টেট, কোলন, ফুসফুস ও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।
তরমুজে প্রচুর পরিমাণে পানি আছে। গরমের সময় যখন ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি বের হয়ে যায় তখন তরমুজ খেলে পানিশূন্যতা দূর হয়। এতে শরীর থাকে সুস্থ ও সতেজ।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>