ফিটনেস নিয়ে ভাবনাতেও পরিবর্তন

আপডেট : July, 11, 2017, 10:00 am

স্পোর্টস ডেস্কঃ জিম আর ফিটনেস টেস্ট শেষ হতে হতে নেমে গেল ঝুমবৃষ্টি। সেটি একটু থামতেই শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের এক পাশে ফুটবল নিয়ে নেমে গেলেন ক্রিকেটাররা। ড্রেসিংরুমের ভিউইং এরিয়ায় তখন পর্যন্ত অপেক্ষায় খুদে রোবট নির্মাতা ছয় কিশোর। ওয়াশিংটনে ১৪৬ দেশের অংশগ্রহণে প্রথম গ্লোবাল রোবোটিকস প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাবে স্কুলপড়ুয়াদের দল ‘টিম বাংলাদেশ’। যাওয়ার আগে কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এসে নিজেদের বানানো রোবট দেখাল ক্রিকেটারদের, নিয়ে গেল তাদের শুভকামনা।

বাংলাদেশে ক্রিকেট খেলাটা এমন উচ্চতায় চলে গেছে যে এটিই এখন লাল-সবুজ পতাকার সাফল্যের প্রতীক। মাশরাফি-মুশফিকেরা একটু ছুঁয়ে দিলেই যেন সাফল্যের আশায় বুক বাঁধা যায়। ক্রিকেটাররাও সেটা বোঝেন এবং বোঝেন বলেই ফিটনেস ক্যাম্পের প্রথম দিনেই তৃপ্তির ছাপ জাতীয় দলের শ্রীলঙ্কান ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়নের মুখে। নানা রকম ফিটনেস টেস্ট নিয়ে কাল তিনি বুঝলেন, খেলোয়াড়দের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। ছুটির ফাঁদে পা দিয়ে উল্টোপাল্টা খেয়ে কেউ এখন আর শরীরে আড়ষ্টতা আনছে না, জমাচ্ছে না বাড়তি মেদ। ঘরে বসে থেকেও ফিট থাকার চেষ্টা আছে সবার মধ্যে। ট্রেনার-ফিজিওদের দেওয়া ‘হোমওয়ার্ক’ করছে সবাই। মাঠের পারফরম্যান্সের সঙ্গে পরিবর্তন আসছে ফিটনেস নিয়ে চিন্তাভাবনায়ও।

গত তিন বছর বাংলাদেশ দলের সঙ্গে থেকে এই পরিবর্তনটাই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে ভিল্লাভারায়নের, ‘ওরা এখন আরও বেশি কিছু করতে চায়। কঠোর পরিশ্রম করতে চায়। খেলোয়াড়েরা এখন নিজেরাই নিজেদের অনুশীলনটা করে নেয়, যে

অভ্যাস কিছুদিন আগেও ছিল না।’ গত আট-দশ মাসের টানা ক্রিকেটেও তাই দলে চোট-আঘাতের তেমন কোনো ঘটনা নেই। উল্টো টানা খেলা যেন সবার ফিটনেস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

কিন্তু এত ফিট খেলোয়াড়দের ফিল্ডিংটা কেন মাঝেমধ্যে অমন দৃষ্টিকটু হয়! ট্রেনার অবশ্য এর জন্য শুধু ফিটনেসকে দায়ী করতে রাজি নন, ‘ফিল্ডিংটা আসলে খেলোয়াড়দের আচরণ ও দক্ষতার ওপর নির্ভর করে। কোনো একটা জিনিসকে নির্দিষ্ট করে বলা যাবে না যে, এটাই ফিল্ডিং ব্যর্থতার কারণ। কাজেই আমাদের আচরণ, দক্ষতা, ফিটনেস—সবকিছু নিয়েই কাজ করতে হবে।’

ক্যাম্পের জন্য ঘোষিত ২৯ ক্রিকেটারের মধ্যে পাঁচজন আছেন হাইপারফরম্যান্স দলের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া সফরে। আর তামিম ইকবাল ইংল্যান্ডে গেছেন ন্যাটওয়েস্ট টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে খেলতে। বাকিদের মধ্যে প্রথম দিনে আসেননি শুধু রুবেল হোসেন। সেটি অবশ্য জানাই ছিল। ইংল্যান্ড থেকে দেশে ফেরার আগের দিন টিম হোটেলের দরজার সঙ্গে ধাক্কা লেগে মুখে চোট পেয়েছিলেন। প্রথমে মামুলি মনে হওয়া সেই চোটের জন্য অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি এই পেসার।

মিরপুরের ফিটনেস ট্রেনিংয়ে সবাই যে প্রতিদিন একই কাজ করবেন, তা নয়। যার যেখানে সমস্যা, সেটি চিহ্নিত করে সেই নির্দিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে কাজ হবে। কারও হয়তো জোর দিতে হবে রানিংয়ে, কারও বা স্ট্রেংথ ট্রেনিংয়ে। এই কাজগুলো সবচেয়ে বেশি উপভোগ করার কথা মেহেদী হাসান মিরাজের। কারণ কাল বিপ টেস্টে সবচেয়ে ফিট প্রমাণিত হয়েছেন তিনিই।

Facebook Comments