ফিরলো নিঁখোজ বাবুগঞ্জের অপর যুবক

আপডেট : May, 29, 2017, 3:47 am

রাজধানী বনানী থেকে গত ১ ডিসেম্বর নিঁখোজ হওয়া যুবকদের মধ্যে বরিশালের বাবগঞ্জের দুই যুবকই পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে।

প্রথমে গত ১৮ এপ্রিল মেহেদী হাসান পরিবারের কাছে ফিরে আসে। এর এক মাস পার হতেই রোববার (২৮ মে) দপুরে ফিরে এসেছে সুজন ঘরামী নামের অপর যুবক।

বাবুগঞ্জের বাহেচরের নয়ঘর গ্রামের কাঠমিস্ত্রি আনিসুর রহমান ঘারমী ও আকলিমা বেগমের ছেলে সুজন প্রায় ৬ মাস (৫ মাস ২৭ দিন) ধরে নিঁখোজ ছিলো।

তবে মেহেদী হাসানের মতো এতদিন সে কোথায় ছিল, কিভাবে ছিলো সে বিষয়ে নিশ্চিত কোন তথ্য দিতে পারেনি।

সংবাদ পেয়ে বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম সুজনের বাড়িতে গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে আসে। তিনি জানান, নিঁখোজ থাকার বিষয়ে সুজন তেমন কিছুই বলতে পারছে না। তবে মেহেদির নিঁখোজ হওয়ার বিষয়ে দেয়া তথ্যের সাথে তার তথ্যের মিল রয়েছে।

সুজনের কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে জানাগেছে, শনিবার রাতে ঢাকার আমিন বাজার এলাকায় এক চা দোকানের সামনে সে নিজেকে আবিস্কার করে। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে বাস যোগে বরিশালে আসেন।

উল্লেখ্য এরআগে গত ১৮ এপ্রিল নিঁখোজের ৪ মাস ১৮ দিন পরে পরিবারের কাছে ফিরে আসে বরিশালের ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মাষ্টার্স শেষ পর্বের ছাত্র মেহেদী হাসান।

মেহেদির

পরিবার সূত্রে জানাগেছে, গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা থেকে নিখোঁজ হয় বাহেরচর এলাকার আটাশ বছরের যুবক মেহেদী হাসান। ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী মেহেদীর বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন পুলিশে কনস্টেবলের চাকুরী করেন।

গত বছরের নভেম্বরের ১৯ তারিখে অসুস্থ বাবা ডাক্তার দেখাতে বড় সন্তান মেহেদীকে নিয়ে ঢাকায় বোনের বাসায় যান, তিনি ডাক্তার দেখিয়ে চলে আসলেও চাকুরির ইন্টারভিউর কারনে ছেলে ঢাকায় থেকে যায়। ১ ডিসেম্বর বিকেলে ফুপুর বাসায় ল্যাপটপ সারার কথা বলে পরিচিত সুজনের অফিস বনানীতে যায়-কিন্তু এর পর থেকে মেহেদীর আর কোন খোজ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের ঘটনায় তার চাচা মাহাবুব হোসেন ৩ ডিসেম্বর বনানী থানায় এ সক্রান্ত একটি জিডি দায়ের করেন।

সেইসময় মেহেদী পুলিশ ও সাংবাদিকদের  নিঁখোজ হওয়া সম্পর্কে জানায়, ওই দিন বনানীর একটি রেস্ট্রুরেন্টে নিঁখোজ অপর এক যুবক সুজনের সাথে খেতে যান। সেখানে সুজনের এক বন্ধু ছিলো যার সাথে আরো এক ছেলে ছিলো। খাওয়ার পরে তারা বের হয়ে রাস্তায় আসেন। সন্ধ্যার পরে হওয়ায় অন্ধাকারের মধ্যেই রিকসা করছিলেন। এসময় কেউ একজন পেছন থেকে তার হাতে হাত দিয়ে মুখের সামনে কিছু একটা ধরেন।

এরপর আর কিছুই তার মনে নাই। শুধু একটি জায়গায় তার চোখ ও হাত বাধা অবস্থায় রেখে দেয়া হয়। খাওয়ার কিছু দিলে হাত খুলে দেয়া হতো।

 

Facebook Comments