বরগুনার আশ্রয়কেন্দ্রে ভিড় বাড়ছে

মে ৩০ ২০১৭, ০৩:৩৫

বঙ্গোপসাগর তীরের জেলা বরগুনার সব উপজেলায় প্রশাসন ও ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির স্বেচ্ছাসেবকেরা সোমবার বিকেল থেকে গ্রামে গ্রামে ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কবার্তা ও পার্শ্ববর্তী আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে মাইকে প্রচার চালান। তবে গভীর রাত পর্যন্ত বেশির ভাগ এলাকার লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে যায়নি। রাত ১১টার দিকে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র প্রভাবে মৃদু ঝোড়ো হাওয়া শুরু হলে বিভিন্ন এলাকার লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে শুরু করে।

জেলার তালতলী উপজেলার বন্যা ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা জয়ালভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা দুলাল মিয়া সোমবার রাত ১২টা ৮ মিনিটের দিকে মুঠোফোনে বলেন, সারা দিন মেঘলা ও থমথমে আবহাওয়া বিরাজ করায় তাঁরা বড় কিছু হবে এমনটা বিশ্বাসে আনতে পারেননি। এ জন্য নিশ্চিন্তে বাড়িতেই ছিলেন। সন্ধ্যায় সামান্য গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর আবার তা থেমে যায়। রাত ১১টার পর সামান্য বাতাস শুরু হলে লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এরপর ছোটাছুটি করে যে যার মতো করে ঘরের আসবাবপত্র, বিছানা-বালিশ, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু নিয়ে পার্শ্ববর্তী অংকুজানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে ছুটতে থাকেন।
আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা স্বেচ্ছাসেবক খলিল গাজী রাত সাড়ে ১২টার দিকে  বলেন, আধা ঘণ্টার মধ্যে এই কেন্দ্রে অন্তত ৪০০ লোক আশ্রয় নিয়েছে। তবে কেন্দ্রটিতে কোনো শুকনো খাবার, পানি ও অন্য কোনো কিছুর ব্যবস্থা নেই।
পাথরঘাটা উপজেলার বলেশ্বর নদের তীরের গ্রাম রূহিতায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়

আশ্রয়কেন্দ্রে রাত ১১টার পর ৮০-৮৫ জন আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে আশ্রয় নেওয়া ছোট রূহিতা গ্রামের নূরুল হক (৫৫) বলেন, ‘চাইরদিক থোম (থমথমে) দিয়া রইছে। এই জন্য ভয়ে বউ-বাচ্চা লইয়্যা আশ্রয়কেন্দ্রে আইছি। সিডরে সাহস কইরা অনেক মানুষ বাড়িতে থাইক্যা মরছে। হ্যারা ভাবছে কিছুই অইবে না। এহোনও অনেক লোক কিছু অইবে না ভাইব্বা ঘরে বইয়্যা আছে।’
আশ্রয়কেন্দ্রটির পাশেই ছোট্ট ঝুপড়িতে বসবাস করেন কোহিনূর বেগম (৪৫)। তিনি রাত সাড়ে ১২টার দিকে বলেন, ‘মোগো ঘর তো আশ্রয়কেন্দ্রের লগেই। হেইতে চিন্তা করছি সেহরি খাইয়্যা কেন্দ্র যামু।’

কক্সবাজারের ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে এভাবেই ঘুমিয়ে পড়েছেন উপকূলীয় এলাকার মানুষেরা। ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র প্রভাবে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের পর উপকূলীয় এলাকা থেকে প্রায় ৩ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

আমতলী উপজেলার চোড়া ইউনিয়নের কাউনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে পায়রা নদীপারের ২৪টি পরিবারের অন্তত ৯০ জন। এর মধ্যে জোবায়দা বেগমের বয়স (৮৫)। তিনি বলেন, ‘বুড়া মানুষ। বইন্যা শুরু অইলে তো দৌড় দিয়া কেন্দ্রে আওনের শক্তি নাই। সেইতে আগেভাগেই আইছি।’

এদিকে রাত ১টায় বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণকক্ষে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা ত্রাণ কার্যালয়ের ওয়্যারলেস অপারেটর বলেন, এ পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রে আনুমানিক ২০ হাজার লোক আশ্রয় নিয়েছে।

Facebook Comments