বরিশালের উপকূলীয় এলাকায় প্রস্তুতির সঙ্গে আছে শঙ্কা!

ঘূর্ণিঝড় মোরা কাল মঙ্গলবার সকালে দেশের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানতে পারে বলে আজ সোমবার জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বরিশাল, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী,  পিরোজপুর, ঝালকাঠি কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর,  বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং জেলাগুলোর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কতার জারির পর উপকূলবাসীকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে এসব এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, বিদ্যালয়গুলোতে তাঁদের আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার, খাবার পানি মজুত রাখা হয়েছে। গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত বেশ কিছু নৌযানের সংবাদ না পাওয়া, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রের স্বল্পতায় উপকূলীয় এলাকায় শঙ্কা রয়েছে।

আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—

বরিশাল: বরিশালের অভ্যন্তরীণ পথে সব ধরনের লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। আজ দুপুরে বিষয়টি জানিয়েছেন বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের উপপরিচালক মো. আজমল হুদা। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোরার প্রভাবে সৃষ্ট বৈরী আবহাওয়ার কারণে বরিশালের অভ্যন্তরীণ সব পথের লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাঝ নদীতে থাকা লঞ্চগুলোকে নিরাপদ স্থানে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত এটা বলবৎ থাকবে। তবে

সন্ধ্যার পর বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে দোতলা লঞ্চগুলো চলাচল করবে কি না তা আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

ভোলা: প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ভোলার সাত উপজেলা পরিষদে দুপুরে দুর্যোগ প্রস্তুতি সভা ও জেলা পর্যায়ে দুটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ভোলার সব উপজেলায় মাইকিং করা, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র পরিষ্কার, দূরবর্তী নৌ-হুঁশিয়ারি সংকেত দেওয়া হয়েছে। ভোলা জেলা প্রশাসক মো. সেলিম উদ্দিন এসব তথ্য দেন।
তবে জেলার ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচির উপপরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, ভোলায় সব মিলিয়ে ৬৮৪টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র আছে। আরও ২৫০টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রয়োজন।
সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল হক চৌধুরী বলেন, উত্তর রাজাপুর ভোলা থেকে বিচ্ছিন্ন। সেখানে কোনো ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নেই। তবুও এখানকার সাধারণ মানুষকে মূল ভূখণ্ডে আসার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত ট্রলারের খোঁজ মিলছে না
বরগুনা, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, ভোলা জেলার অন্তত সাড়ে চার শ মাছ ধরার ট্রলার বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। তবে এর মধ্যে বেশ কিছু ট্রলারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান বরগুনা জেলা সমুদ্রগামী মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী। তিনি বলেন, ‌ধারণা করা হচ্ছে বেশির ভাগ ট্রলার মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কের বাইরে গভীর সমুদ্রে চলে গেছে। তাই চেষ্টা করেও ট্রলারগুলোর মাঝি-মাল্লাদের পাওয়া যাচ্ছে না।

 

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>