বরিশালের দুই কিলোমিটার সড়কে চরম ভোগান্তি

নিউজ ডেস্কঃ নগরীর রূপাতলী থেকে আমতলার মোড় ও ঝালকাঠি-বরিশাল সড়কের চক্ষু হাসপাতাল থেকে রূপাতলী পর্যন্ত সড়ক দুটির প্রায় দুই কিলোমিটার অংশ দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সড়ক দুটিতে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিন নাকাল হতে হচ্ছে যাত্রী ও যানবাহন চালকদের। সকাল-বিকেল যানজট লেগে থাকে। তিন মিনিটের পথ পারি দিতে কখনো আধা ঘণ্টা পর্যন্ত লেগে যায়।
স্থানীয়রা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই খানাখন্দে ভরা সড়ক দুটিতে পানি জমে চরম ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে নগরীসহ বিভাগের পাঁচ জেলার লাখও যাত্রীদের। পাশাপাশি বেহাল এ সড়কে প্রায়ই ঘটছে ছোটবড় দুর্ঘটনা। কয়েক দিনের টানা বর্ষণে এ ভোগান্তি এখন চরম আকার ধারণ করেছে। সূত্রমতে, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি গুরুতরপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার জন্য এ সড়ক ব্যবহার করা হয়। এরমধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড অন্যতম। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের পাঁচ জেলা বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি থেকে বিভাগীয় শহর, ঢাকাসহ অন্যান্যস্থানে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এ সড়ক। সড়কের এ অংশ বরিশাল সিটি করপোরেশনের আওতায় থাকলেও এটি ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের আওতায় হওয়ায় এর দেখভাল করে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ।
রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকার ব্যবসায়ী মেজবাহ উদ্দিন বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডের মধ্যে হাঁটুপানি জমে যায়। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ে। নগরীর ব্যস্ততম এ সড়কে দিন-রাত হাজারও যানবাহন চলাচল করে। বেহাল দশার

কারণে সকাল নয়টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকেল চারটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত সড়কটিতে তীব্র যানজট লেগেই থাকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝালকাঠি থেকে বরিশাল আসতে চক্ষু হাসপাতাল থেকে রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের বিভিন্নস্থানে খানাখন্দে একাকার হয়ে গেছে। একইভাবে রূপাতলী থেকে আমতলার মোড় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের ওপরে পিচ উঠে গেছে। সংস্কারের জন্য গত দুইমাস ধরে সড়কের ওপরে সুরকি ফেলে রাখায় বৃষ্টিতে তা ধুয়ে কাদাজলে একাকার হয়ে গেছে।
বাসচালক সুমন মিয়া বলেন, ভাঙাচোরা সড়কে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা লেগে রয়েছে। পাশাপাশি পথচারীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি যানবাহন চালকদের ভোগান্তি বেরে গেছে। ব্যবসায়ী শাহ আলম বলেন, সড়কের পাশে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জনগুরুতপূর্ণ এ সড়কটি যতোবারই সংস্কার করা হোক, কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাঃ ইউনুস আলী বলেন, বেহাল এ সড়কে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে রোগীদের। বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্সে যেসব রোগীদের আনা হয় তাদের যন্ত্রণা অনেকাংশে বাড়িয়ে তোলে খানাখন্দের এ সড়কটি।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সওজ’র বরিশাল কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী কে.এইচ গোলাম মোস্তফা বলেন, সড়কের ওই অংশে কিছু সংস্কার করা হয়েছে। এরইমধ্যে টানাবর্ষণের ফলে সংস্কার কাজ করা সম্ভব হচ্ছেনা। বৃষ্টি কমলেই বরিশালের সবগুলো বেহাল সড়ক সংস্কার করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>