বরিশালের মেনন এবার নির্বাচন করবেন কোন আসনে!

আপডেট : May, 9, 2017, 9:49 pm

আগামী নির্বাচনে যদি বিএনপি অংশ গ্রহণ করে তাহলে আওয়ামী লীগই দখলে নিতে পারে ঢাকা ৮ আসনটি। গুলিস্থান, পল্টন, মতিঝিল, শাহজাহানপুর এলাকা নিয়ে ঢাকা ৮ আসন। এ আসনে মহাজোটের শরীক হিসেবে ওর্য়াকার্স পার্টি সভাপতি রাশেদ খান মেনন নৌকা প্রতিক নিয়ে সংসদ সদস্য হয়। তবে আগামী নির্বাচনে তিনি এখানে নির্বাচন করবে কি না তা নির্ভর করছে জোটের সিদ্ধান্তের উপর। কারণ বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হওয়ায় এবং আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের দাবীর কারণে এখান থেকে রাশেদ খান মেননকে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। তবে সবই নির্ভর করছে জোটের আলোচনা ও জোট নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর।

জানা যায়, ওর্য়াকাস পার্টি সভাপতি রাশেদ খান মেননকে নিয়ে জোটের হাইকমান্ড স্বস্তিতে থাকলেও, আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড ও থানার অনেক নেতাদেরই তেমন কোনো যোগাযোগ নেই। মন্ত্রী হওয়ায় এলাকার মানুষ সমস্যা সমাধানে তাকে তেমন কাছে পায় না এলাকা বাসীর অভিযোগ। যেতে হয় আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে।

নেতাদের দাবি তারা এই আট বছরে মহাজোটের শাষণ আমলে নিজেদের জন্য কিছুই করতে পারেনি। তারা নিজেদের সমস্যায় তাকে কাছে পায় না বলেও হতাশা প্রকাশ করেন। এদিকে, এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ায় আলোচনায় রয়েছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ্ আলম মুরাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূইয়া, রমনা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ কেন্দ্রীয় এক নেতার নামও রয়েছে বেশ আলোচনায়।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ্ আলম মুরাদ বিডি২৪লাইভ কে বলেন, মহাজোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। দল যাকে মনোনয়ন দিবে সকলে তার পক্ষেই কাজ করবে। আওয়ামী লীগ একটি বড় রাজনৈতিক দল সেই সঙ্গে সব কিছু ভেবেই যোগ্য ব্যক্তিকেই মনোনয়ন দেবে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, আমি দলের জন্য কাজ করি।ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক করে দলের সভানেত্রী আমাকে অনেক বড় দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি যদি মনে করেন আগামীতে আমার এখানে নির্বাচন করা প্রয়োজন তবে আমি করতে রাজি।তবে দল যাকেই মনোনয়ন দিবে আমি বা আমরা তার পক্ষেই কাজ করবো।

মুরাদ বলেন, আমরা মিলেমিশে আছি এবং আগামীতেও জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকবো। রাশেদ খান মেনন সাহেব এলাকার মানুষের যে কোন কাজে সহযোগীতার সর্বচ্চ চেষ্টা করে। হয়তো দলীয় কিছু সমস্যা থাকতেই পারে। তবে মেনন সাহেব বর্তমান সরকারের একজন এমপি ও মন্ত্রী। তিনি আমাদের জোটের অন্যতম নেতা। মেনন

সাহেব একটা বড় গুণ হলো। তিনি সকলের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে ভালবাসেন।

রমনা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, মেনন সাহেব যে অন্য দলের এমপি তা বুঝার উপায় নেই। আমাদের যেকোন সমস্যায় তাকে কাছে পাই। যে কোন কাজের বিষয়ে এমপি সাহেব (রাশেদ খান মেনন) আমাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করেন।

তিনি আরও বলেন, এমপি সাহেবের সবচেয়ে বড় গুন তিনি যে একজন মন্ত্রী তা কখনো মনে হয় না। খুব সহজেই তিনি মানুষের সঙ্গে মিশতে পারে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাশেদ খান মেনন তার নির্বাচনী এলাকার আওয়ামী লীগের থানা ও ওয়ার্ড সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সংবোর্ধনা দিয়েছেন। এ ধরনের কর্মকান্ডের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে একমাত্র প্রার্থী হতে পারেন। দলের এবং আব্বাসের এক ঘোনিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সূত্র থেকে জানা গেছে, আবারও বিএনপির দলীয় প্রতীকে প্রার্থী হবেন মির্জা আব্বাস। তবে ২০০৮ সালের মতোই আগামী নির্বাচনে মামলায় সাজা দিয়ে তাকে অযোগ্য প্রার্থী বিবেচনা করা হয় সেক্ষেত্রে বিকল্প প্রার্থী দিতে পারে দলটি।

জানা গেছে, ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে ঐ আসনের দলীয় এমপি ছিলেন মির্জা আব্বাস। জাতীয় সংসদের ঢাকা-০৬ আসনটি ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে ভাগ করে ঢাকা-০৮ এবং ০৯ আসনে পরিণত করা হয়।। বিএনপির দলীয় সূত্র জানান, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে মামলায় সাজা হলে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস আর ঐ আসনে নির্বাচন করতে পারেনাই। তবে তার পরিবর্তে বিএনপির(বর্তমান) যুগ্ম-মহাসচিব হাবিবুন-নবী খান সোহেল নির্বাচন করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে হেরে যায়।

দক্ষিণের ১৩ নং ওয়ার্ড ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা ব্যবসায়ী রাজনীতি বুঝিনা এবার ভোট দিতেই যামুনা।
দেকানদার আফজাল বলেন, এই আসনে আগামীতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রাশেদ খান মেননকে না দিয়ে অন্য কাউকে দিলে ভালো হবে।আওয়ামী লীগ থেকে দিলে বেশী ভালো হবে।

উলেখ্য, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (দক্ষিণ) ওয়ার্ড নং ৮ (সাবেক ৩১), ওয়ার্ড নং ৯ (সাবেক ৩২), ওয়ার্ড নং ১০ (সাবেক ৩৩), ওয়ার্ড নং ১১ (সাবেক ৩৪), ওয়ার্ড নং ১২ (সাবেক ৩৫), ওয়ার্ড নং ১৩ (সাবেক ৩৬), ওয়ার্ড নং ১৯ (সাবেক ৫৩), ওয়ার্ড নং ২১ (সাবেক ৫৬) ও ওয়ার্ড নং ২২ (সাবেক ৫৭) ওয়ার্ডসমূহ ঢাকা ৮ আসনের অন্তর্ভুক্ত।

Facebook Comments