বরিশালের রহস্যময় স্থান

আপডেট : March, 30, 2017, 2:06 pm

পৃথিবীজুড়ে কতই না অজানা রহস্য রয়েছে, যা ভেদ করা মানুষের পক্ষে এখনও সম্ভব হয়নি। পৃথিবী নিয়ে আমাদের আগ্রহেরও কমতি নেই। জানার রয়েছে অনেক বাকি। কিন্তু শুধু পৃথিবীর কথা বলব কেন? আমাদের ছোট্ট বরিশালও  কি কম রহস্যময়? এখানেও লুকিয়ে আছে অদ্ভুত রহস্যময় স্থান, যা মানুষের কাছে আজও অনাবিষ্কৃত। সে রকম একটি রহস্যময় স্থান হচ্ছে বরিশাল গানস।
গানস অব বরিশাল বরিশাল গানস বা গানস অব বরিশাল বলতে ঊনবিংশ শতাব্দীর তৎকালীন পূর্ববঙ্গের বরিশাল এলাকার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ঘটা অদ্ভুত বিকট কিছু শব্দকে বোঝায়। এ ধরনের রহস্যময় শব্দকে একত্রে বলা হয় মিস্টপুফাস। বরিশালের মতো ভারতের গঙ্গা নদীর তীর, যুক্তরাষ্ট্র, বেলজিয়াম, স্কটল্যান্ড, ইতালি, জাপানসহ আরও অনেক দেশে এমন কিছু শব্দ শোনা গেছে। ১৮৭০ সালে প্রথমবারের মতো বরিশাল গানসের কথা শোনা গেছে বলে নথিপত্রে পাওয়া যায়। ১৮৮৬ সালে কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটির হিসাব অনুযায়ী বরিশাল, খুলনা, নোয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ, হরিশপুর প্রভৃতি এলাকায়
বরিশাল গানস শোনা যেত। টি ডি লাতুশ ১৮৯০ সালে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, বরিশাল গানস কেবল গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ নয়, ব্রক্ষ্মপুত্রের ব-দ্বীপেও শোনা যেত। সেই বিকট শব্দ ঢেউয়ের শব্দের চেয়ে কামানের গোলা দাগানোর শব্দের সঙ্গে বেশি মিল ছিল। কখনও একটি শব্দ আবার কখনও দুটি-তিনটি শব্দ একসঙ্গে শোনা যেত। দক্ষিণ এবং দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল থেকে এই শব্দগুলো বেশি শোনা যেত। প্রথমদিকে ব্রিটিশদের ধারণা ছিল, শব্দগুলো জলদস্যুদের কামানের গোলা দাগানোর আওয়াজ। কিন্তু অনেক খোঁজাখুঁজির পরও জলদস্যু জাহাজ বা ঘাঁটির সন্ধান মেলেনি। কবি সুফিয়া কামাল তার আত্মজীবনীতে লিখেছেন, তার শৈশবে এ ধরনের রহস্যময় বিস্ফোরণের আওয়াজের কথা তিনি মুরুব্বিদের কাছে শুনেছেন। তার কথায়, ১৯৫০ সালের পরে কখনো এই শব্দ আর কেউ শুনেছেন বলে তার জানা নেই। কেন বা কি কারণে এই আওয়াজ হতো কিংবা এখন তা আর কেন হয় না তা নিয়ে অনেক মতামত থাকলেও কোনোটাই এখনো প্রমাণ করা যায়নি।
Facebook Comments