বরিশালের ৫৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

অক্টোবর ২১ ২০১৭, ২০:১৪

বরিশালের মুলাদী উপজেলার ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৮টি বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক। সিনিয়র সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত আর অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে চলছে এসব বিদ্যালয়। এতে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও দাফতরিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

দীর্ঘ দিন ধরে নিয়োগ ও পদোন্নতি না থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হয়ে পড়েছে বলে শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকার ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করায় মুলাদী উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা দাড়ায় ১৩৮টি। ২০১৩ সালের আগে ৭৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৫টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য ছিল। আর ২০১৩ সাল রেজিস্ট্রি থেকে জাতীয়করণ হওয়া ৬০টি বিদ্যালয়ের ৩৩টিতেই প্রধান শিক্ষক ছিল না। এসব প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সিনিয়র সহকারী শিক্ষককে দায়িত্ব প্রদান করে জোড়া-তালি দিয়ে কোনো মতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রধান শিক্ষক শূন্য কয়েকটি বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক

জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকায় পাঠদানসহ প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে প্রতিনিয়তই বিভিন্ন ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এ কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তারা দ্রুত সমস্যার সমাধান চেয়েছেন।

শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রামারপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৯৯৯ সাল থেকে প্রধান শিক্ষক নেই। বাটামারা ইউনিয়নের চিঠিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৯৯৮ সাল থেকে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। তয়কা টুমচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই ২০০০ সাল থেকে। চরসাহেবরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০০১ সাল থেকে প্রধান শিক্ষক নেই। এসব বিদ্যালয়সহ উপজেলার ৫৮টি বিদ্যালয় ২০১৩ সাল থেকে প্রধান শিক্ষক শূন্য রয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মাদ রিয়াজ আলম জানান, অবসর, চাকরি পেয়েও ছেড়ে দেয়া এবং নিয়োগ-পদোন্নতি বন্ধসহ আরও অনেক কারণে শিক্ষকদের পদ শূন্য রয়েছে। তবে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের হাতে। প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সংকট কেটে যাবে।

Facebook Comments