বরিশালে বেড়েছে অতিমাত্রায় শব্দ দূষণ ॥ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা

মার্চ ০৯ ২০১৭, ১৩:৩১

স্টাফ রিপোর্টার ॥
আমাদের দেশে পরিবেশ দূষণের বহুমাত্রিক বিষয়গুলোর সঙ্গে শব্দ দূষণ একটি ভয়ানক বিষয়। পরিবেশ ও জনমানবের জন্য এ শব্দ দূষণ বিরক্তিকর এবং মারাত্মক সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে বরিশালে। এই দূষণের ফলে দিন দিন নানাবিধ স্বাস্থ্য ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বরিশালে যারা শহর কেন্দ্রিক পেশাজীবি বা বসবাসকারী তারা শব্দ দূষণ জনিত সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভুগছে। বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শব্দ দূষণের কারনে প্রতি হাজারে একজন বধির হয়ে জন্মায় এবং আরো একজন বধির হয়ে যায়। মাত্রাতিরিক্ত শব্দ দূষণ একটি শিশুকে বেড়ে ওঠার আগেই বধির হওয়ার পথে ঠেলে দিচ্ছে এবং তার ফলে তাকে করে তুলছে অমনোযোগী ও বিকারগ্রস্ত। গত কয়েক বছর ধরে বরিশাল শহরে শব্দ দূষণ বাড়ছে নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে। গাড়ির হাইড্রোলিক হর্ণ তো রয়েছেই এর সঙ্গে আরো রয়েছে দ্রুত নগরায়ন। যার ফলে যত্রতত্র শোনা যায় ইট, বালু, সিমেন্ট মেশানোর মেশিনের বিরক্তির বিকট শব্দ। এছাড়া বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টার ও দোকানের উচ্চমাত্রার মিউজিক, মাইক ও যানবাহন চলাচলের শব্দে প্রতিনিয়ত বাড়ছে শব্দ দূষণ। নানা অভিযোগের ভিত্তিতে সচেতন মহল বলছে মেট্রোপলিটন মোটর যান অধ্যাদেশ ঠিকমত মানছে না বলেই বেড়ে চলেছে শব্দ দূষণের মাত্রা। সূত্রে জানা যায়শব্দ দূষণ রোধে আইনের ধারাগুলো যেমন “বাংলাদেশ মোটর যান অধ্যাদেশ ১৯৯৭” তে বলা হয়েছে, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক এলাকাগুলোর ১০০ মিটারের মধ্যে গাড়ির হর্ণ বাজানো নিষেধ। গাড়ি চালকরা বা যারা মাইক, সাউন্ড বক্স বাজায় তারা এই আইনগুলো যথাযথ ভাবে না মানার কারনে প্রতিনিয়ত বরিশাল শহরে বাড়ছে শব্দ দূষণের মাত্রা। শব্দের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে বলা হয় ৩০ থেকে ৩৫ ডেসিবেল শব্দ নার্ভাসনেস এবং ঘুমের

ব্যাঘাত ঘটায়। ৬৫ ডেসিবেলের ওপরের শব্দ হৃদরোগ, ৯০ ডেসিবেলের উপরে শব্দ আলসার, শ্রবণে ব্যাঘাত, স্নায়ুতন্ত্র পরিবর্তন এবং ১২০ ডেসিবেলের বেশি শব্দে শ্রবণ যন্ত্রে ব্যথা এবং স্থায়ীভাবে শ্রবণ শক্তিহীন করতে পারে। এদিকে শব্দ দূষণ বিধিমালায় আবাসিক এলাকায় ইট বা পাথর ভাঙ্গার মেশিন বা মিক্সার মেশিনের ব্যবহার সকল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে শব্দ দূষণে জনসচেতনতা এবং করণীয় শীর্ষক একটি প্রতিবেদনে প্রকাশ হয়, গাড়ি হর্ণ এবং শব্দ দূষণের ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিভাগের তথ্য মতে, শব্দ দূষণ মানুষের স্নায়ুগুলো ধ্বংস করে দিচ্ছে। ক্রমাগত শব্দ দূষণের ফলে কানের টিস্যুগুলো আস্তে আস্তে বিকল হয়ে পড়ে। তখন সব সময় এক ধরনের অস্বাভাবিক শব্দ হতে থাকে। ডাক্তারি ভাষায় এটাকে টিলিটাস বলে। কানের যন্ত্র নিয়েও তখন ভাল শোনা যায় না। এতে শুধু কানের সমস্যা হয় তা নয়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা। হঠাৎ গাড়ির হর্ণের বিকট শব্দে তারা লাফিয়ে উঠছে এবং তাদের মধ্যে এক ধরনের সাইকোলজিক্যাল সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে বরিশাল নগরীর এক পথচারী জানান, শহরে বিশেষ করে ব্যাটারী চালিত অটো হর্ণের আমরা অতিষ্ঠ। কিন্তু কোন ব্যবস্থা নিতে দেখছি না কর্তৃপক্ষকে। বরিশালের অনেক মানুষই শব্দ দূষণের মাত্রা কোথায় কত জানে না। আর এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানার তো প্রশ্নই ওঠে না। বরিশালের স্থানীয় বেশকিছু বাসিন্দারা জানান, শব্দ দূষণ প্রতিরোধ করতে হলে জনগণকে সচেতন হতে হবে। বিভিন্ন সংস্থার মান অনুযায়ী শব্দে গ্রহণযোগ্য মাত্রা ৪৫ ডেসিবেল। অথচ বরিশালের চালকরা যানজটের মধ্যে ৪৫ ডেসিবেলের উপরে অহেতুক হর্ণ বাজাতে থাকে। যা মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>