বরিশালে অল্পের জন্য রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ থেকে রক্ষা পেলো দু’গ্রামবাসী

আপডেট : May, 30, 2017, 11:09 pm

বাবুগঞ্জ প্রতিনিধিঃ বরিশালের বাবুগঞ্জে ইউএনও’র হস্তক্ষেপে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ থেকে রক্ষা পেয়েছে দুই গ্রামবাসী। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৩টি ট্রলার ১৫ শ্রমিককে আটক করা হলেও দু’গ্রুপ সমঝোতার প্রস্তাব দিলে ইউএনও তাদেরকে ছেড়ে দেন। উপজেলার মধ্য রাকুদিয়া গ্রামের ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন জানান, কতিপয় জমির মালিক ইটভাটা মালিকের কাছে নামমাত্র টাকায় মাটি বিক্রি করে। ইটভাটার মালিকরা ওই মাটি কেনার অজুহাতে নদীপাড়ের মাটি কখনো দিনে আবার কখনো রাতে শ্রমিক দিয়ে কেটে নিয়ে যান। এতে নদী ভাঙ্গন আরো তীব্র হওয়ায় স্থানীয় মধ্য রাকুদিয়ার ভুক্তভোগী কয়েকশ’গ্রামবাসী সোমবার উপজেলায় গিয়ে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এরপরও গতকাল মঙ্গলবার দোয়ারিকা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আনিসুর রহমানের ইটভাটার শ্রমিকরা ট্রলার নিয়ে নদীপাড়ের মাটি কাটতে আসলে তাতে বাঁধা দেন অবসরপ্রাপ্ত স্থানীয় সেনাসদস্য আলাউদ্দিন শরীফ ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি সাগর হোসেন খাদেম। এ সময় মাটিকাটা শ্রমিকরা তাদের ট্রলারে উঠিয়ে দোয়ারিকায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এই খবর পেয়ে মধ্য রাকুদিয়া গ্রামের কয়েকশ’গ্রামবাসী লাঠিসোটা নিয়ে মাটিকাটা শ্রমিকদের নদীতে ঘিরে ফেলে। ৩টি ট্রলারসহ ১৫ শ্রমিককে আটক করে গ্রামবাসী এবং ট্রলার

থেকে আলাউদিন শরীফ ও সাগর হোসেনকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। ট্রলার চালক ও হেলাপারসহ কয়েকজন মাটিকাটা শ্রমিককে গণধোলাই দেয় উত্তেজিত জনতা। এদিকে ৩ ট্রলারসহ ১৫ শ্রমিক রাকুদিয়া গ্রামে আটক হওয়ার খবর পৌঁছলে ইটভাটা মালিক আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে দোয়ারিকা গ্রামবাসী একজোট হয়ে পাল্টা আক্রমনের ট্রলার ও শ্রমিকদের মুক্ত করার জন্য রাকুদিয়া অভিমুখে রওনা দিলে সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পাল্টা আক্রমনের খবর পেয়ে রাকুদিয়া গ্রামবাসীও লাঠিসোটাসহ দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মধ্য রাকুদিয়া সড়কে অবস্থান নেয়। এমন ভীতিকর পরিস্থিতির সংবাদ পেয়ে ইউএনও দীপক কুমার রায় মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং দুই পক্ষের মাঝখানে অবস্থান নেন। পরে তিনি আটককৃত ৩টি ট্রলার জব্দ ও ১৫ মাটিকাটা শ্রমিকদের ধরে উপজেলা চত্ত্বরে নিয়ে ভ্রাম্যমান আদালত বসান। গতকাল বিকেলে আটককৃত শ্রমিকদের জেল এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার আল্টিমেটাম দিলে উভয় পক্ষ সমঝোতায় রাজি হয়। পরে নদী পাড়ের কোনো মাটি কেনা বা বেচা হবে না মর্মে উভয় পক্ষের কাছ থেকে মুচলেকা রেখে আটককৃত শ্রমিকদের ছেড়ে দেন ইউএনও। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন ইউএনও দীপক কুমার রায়।

Facebook Comments