বরিশালে আবারো বাল্যবিবাহ,পুলিশের বিরুদ্ধে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ

জুলাই ০২ ২০১৭, ০১:২২

শামীম আহমেদ, বরিশালঃ বাল্যবিয়ে মুক্ত বরিশাল জেলায় কোনক্রমেই ঠেকানো যাচ্ছেনা বাল্যবিয়ে। একের পর এক বাল্যবিয়ের ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন রয়েছে নিরব দর্শকের ভূমিকায়। এরইমধ্যে গত তিনদিনে তিন ছাত্রীর বাল্যবিয়ের খবর পাওয়া গেছে। এরমধ্যে একটি বাল্যবিয়ে ঠেঁকাতে গিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অর্থগ্রহণ ও দুইটিতে জনপ্রতিনিধিদের সহায়তার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্রমতে, আগৈলঝাড়া উপজেলার পশ্চিম সুজনকাঠী গ্রামের সৌদী প্রবাসী মজিবর মোল্লার মাদ্রাসা পড়ুয়া কন্যা নুসরাত আক্তারের (১৫) সাথে একই উপজেলার ছয়গ্রাম এলাকার আকতার সেরনিয়াবাতের পুত্র নাফিউল ইসলামের (২৩) শুক্রবার বাল্যবিয়ের পূর্ব নির্ধারিত দিন ধার্য করা হয়। মেয়ের বাবার অনপুস্থিতিতে মায়ের ইচ্ছায় এই বাল্যবিয়ে দেয়া হচ্ছিলো। খবর পেয়ে থানার এসআই মিজানুর রহমান শুক্রবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাল্যবিয়ের অপরাধে বিভিন্ন আইন কানুন ও কারাদন্ডের ভয় দেখিয়ে মেয়ের মায়ের কাছ থেকে ২২ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ না করে ঘটনাস্থল থেকে চলে আসেন। বিষয়টি মুহুর্তের মধ্যে এলাকায় ছড়িয়ে পরলে পুলিশের দ্বায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরে ওইদিনই বাল্যবিয়ে সম্পন্ন করা হয়।
টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করেন এসআই মিজানুর রহমান জানান, বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গেলে সেখানে নোটারী পাবলিকের হলফনামা দেখে তিনি ফিরে আসেন। বাল্যবিয়ের ক্ষেত্রে নোটারী পাবলিকের কোন মূল্য নেই এ আইন সম্পর্কে জানতে চাইলে এসআই মিজানুর রহমান বলেন, এ আইন সম্পর্কে আমার জানা নেই।
অপরদিকে একইদিন গৌরনদীর কান্ডপাশা বালিকা

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অস্টম শ্রেনীতে পড়ুয়া ছাত্রী সরিকল গ্রামের ফেরদাউস সরদারের কন্যা চাঁদনী আক্তারকে (১৩) বিয়ে দেয়া হয় দক্ষিণ রমজানপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান হাওলাদারের পুত্র মঞ্জুরুল ইসলামের (২৮) সাথে। জানা গেছে, স্কুল ছাত্রী চাঁদনীর অমতে তার পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির সহায়তায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ইউপি কার্যালয় থেকে বয়স বৃদ্ধির ভূয়া জন্মসনদ বের করেন। ওই জন্মসনদ দিয়ে শুক্রবার রাতে বাউফলে কর্মরত সরকারী কর্মচারী মঞ্জুরুলের সাথে জোরপূর্বক চাঁদনীর বিয়ের রেজিষ্ট্রি কাবিন সম্পন্ন করা হয়।
এরপূর্বে বুধবার রাতে আগৈলঝাড়ার পুর্ব আস্কর গ্রামের কৃষ্ণ কান্ত হালদারের কন্যা দশম শ্রেণির ছাত্রী নিপু হালদারের (১৫) সাথে স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রদীপ কুমারের সহযোগীতায় একই উপজেলার বড়মগড়া গ্রামের নিবারন বালার পুত্র বিমল বালার (২৩) বাল্যবিয়ে দেয়া হয়। খবর পেয়ে থানা এক এসআই ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করে আসার পরেও রহস্যজনক কারনে ওই রাতেই তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তপন বসু বলেন, বাল্যবিয়ের সময় সহায়তাকারী, বর ও কনের অভিভাবকরা মনে করেন বিয়ে হয়ে গেলেই আইনী ঝামেলা মিটে যায়। তাই তারা তড়িঘড়ি করে বাল্যবিয়ের কাজ সেরে ফেলছেন। অভিভাবকদের ধারনাও সঠিক হচ্ছে। যে কারনেই বাল্যবিয়ে ঠেকানো যাচ্ছেনা। তপন বসু আরও বলেন, সেক্ষেত্রে বাল্যবিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পরেও আইনপ্রয়োগকারী সদস্যদের উচিত অভিভাবক, সহায়তাকারী ও বরের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা। তবেই বাল্যবিয়ে রোধ করা সম্ভব। এজন্য তিনি বাল্যবিয়ে মুক্ত জেলার স্বপ্নদ্রষ্টা ও ঘোষণাকারী বরিশাল জেলা প্রশাসকের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।

 

 

 

 

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>