বরিশালে আ’লীগ প্রার্থীর ওপর বিদ্রোহী প্রার্থীর হামলার অভিযোগ, আহত ৫

আপডেট : July, 7, 2017, 3:15 pm

আগামী ১৩ জুলাই বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ৭ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। এটিকে কেন্দ্র করে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বিএনপি প্রার্থীর প্রচারণা ও উঠান বৈঠকে হামলা, বিএনপি প্রার্থীকে তার বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখা, বিএনপি কার্যালয় ভাংচুর করে তালা ঝুলিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের সন্ত্রাসী হামলার শিকার হচ্ছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত সদস্য প্রার্থীরাও।

সব শেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে মেহেন্দিগঞ্জের দাদপুর বাজারে চর এককুরিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ দলীয় সদস্য প্রার্থী দুলাল মাঝির ও তার কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা চালায় উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক শাকিল বেপারী ও তার সহযোগীরা। হামলায় সদস্য প্রার্থী দুলালসহ সাতজন আহত হয়। এদের মধ্যে পাঁচজনকে বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সদস্য প্রার্থী দুলাল মাঝি অভিযোগ করেন, গতকাল রাতে তিনি দাদপুর বাজারে নিজ নির্বাচনী কার্যালয়ে নেতাকর্মী-সমর্থকদের সাথে সভা করছিলেন। এ সময় তার প্রতিদ্বন্দ্বী সদস্য প্রার্থী শহীদ সিকদারের পক্ষাবলম্বন করে উপজেলা ছাত্রলীগ সম্পাদক শাকিল ৩৫/৪০টি মোটর সাইকেলযোগে প্রায় একশ’ সহযোগী নিয়ে তার নির্বাচনী কার্যালয়ে হানা দেয়। তারা দুলালকে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে দাঁড়াতে হুমকি দেয়। সেটা মানতে রাজি না হওয়ায় কর্মী-সমর্থকসহ সবাইকে এলাপাথাড়ি পিটিয়ে আহত করে। এ সময় দাদপুর বাজারে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা হামলায়

আহত সাতজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে হামলাকারীরা সেখানে গিয়েও তাদের হুমকি দেয়।

সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে পুলিশের সহায়তায় ওই রাতেই স্পিড বোটযোগে তাদের মধ্যে পাঁচজন সদস্য প্রার্থী মো. দুলাল মাঝি (৫৯), তার কর্মী মো. আতিকুর রহমান (৪২), মন্টু মাঝি (৩৬), মো. নান্টু মাঝি (৪০) ও নাসির মাঝি (৪১) বরিশাল গিয়ে শেরে-ই বাংলা মেডিকেলে ভর্তি হন।

আহত দুলাল মাঝি বলেন, তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য রয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়ও প্রতিদ্বন্দ্বী শহীদ সিকদারের সাথে বসে একসাথে চা খেয়েছেন। শুধু শাকিল বেপারীর অপতৎপরতা বন্ধ হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে আশা করেন তিনি। হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করার কথা বলেন তিনি।

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাকিল বেপারী বলেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিজের বিষয় তার ওপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে।

জানা যায়, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম ভুলুর ছেলে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাকিল বেপারীর সাম্প্রতি সময়ে নানা কর্মকাণ্ডে বিতর্কিত হয়েছেন। চলতি ইউপি নির্বাচনের মধ্যেই উপজেলা পরিষদে প্রকাশ্যে দুই সাংবাদিককে মারধর করে শাকিল। হামলার সংবাদ ছবি সহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ছাপা হলেও শাকিলের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধ হয়নি।

মেহেন্দিগঞ্জ থানার ওসি মো. আক্তারুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার রাতে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

Facebook Comments