বরিশালে ঈদের কেনাকাটায় ইজির প্রতিদ্বন্দ্বী শুধু ইজিই!

আপডেট : June, 9, 2017, 12:46 pm

 

সাঈদ বারীঃ বেশি দিনের কথা নয়, বরিশালে  মাত্র ১ বছর হতে চললো ফ্যাশন হাউস ইজির পথচলা। এরই মধ্যে ইজি জায়গা করে নিয়েছে বরিশালের তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে। মানসম্মত কাপড়, চমকপ্রদ নকশার  ডিজাইন, উন্নতমানের সেলাই নজর কেড়েছে সবার। ২০১৫ সালের ৫ জুন নগরীর সদর রোডে দেশের অন্যতম ফ্যাশন হাউস ইজির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল বরিশালে ইজি ফ্যাশনের ২২তম শাখার উদ্বোধন করেছিলো। উদ্বোধনের পর থেকেই ক্রেতা সমাগমে ইজির পেছনে তাকানোর সুযোগ ছিল না । খুব অল্প সময়েই  বরিশালে থাকা নামি দামি পোশাক ব্র্যান্ডের অন্য আউটলেট গুলোকে পেছনে ফেলে  বরিশালের তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে ফ্যাশন হাউজটি।  বরিশালের সকল পর্যায়ের ক্রেতাদের ক্রয়সীমার মধ্যে মানসম্মত কাপড়ের তৈরি চমকপ্রদ নকশার  ডিজাইনের শার্ট, প্যান্ট পাঞ্জাবির কালেকশনের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকতে পারছে না বরিশালের বাঘা বাঘা ফ্যাশন ব্র্যান্ড ।অবস্থাটি এমন দাড়িয়েছে যেন,বরিশালে ইজির প্রতিদ্বন্দ্বী শুধু ইজিই।

 

গতকাল বরিশালের বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজ ঘুরে এমন চিত্রই চোখে পড়লো বরিশাল লাইভ  প্রতিবেদকের। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে বিকেল তিনটা থেকে ইফতারির পড় রাত আটটা পর্যন্ত বরিশালের নামকরা কয়েকটি ফ্যাশন হাউজ ঘুড়ে তেমন ক্রেতা সমাগম দেখা যায়নি। তবে ইজি ফ্যাশন ঘুড়ে দেখা গেল মুদ্রার উল্টো পিঠ। কোন ফ্যাশন হাউজে ক্রেতার চাপ নেই কিন্তু ইজির বিক্রয় প্রতিনিধিদের দম ফেলার সময় নেই। বিষয়টি এমন যেন ঈদের আমেজ শুধু ইজিতেই। আর তা এমন হওয়ার কারন আছে যথেষ্ট কারন ।দেশের অন্যতম এই  ফ্যাশন হাউজটি এবারের ঈদ উপলক্ষ্যে বরাবরের মতোই যোগ করেছে আরো নতুন মাত্রা।

 

ইজি ফ্যাশনে পাঞ্জাবী কিনতে আসা বিএম কলেজ ছাত্র নাঈম জানান, ইজি’র ঈদ ফ্যাশন মানেই চমকে দেবার মতো নতুন কিছু।গতবছর পাঞ্জাবী পছন্দ করে গেলেও পরের দিন এসে পছন্দের পাঞ্জাবী না পাওয়ায়,এবার আগেভাগেই এসেছি ।ইজি ফ্যাশনের এবারের ঈদ কালেকশন সম্পর্কে নাঈম বলেন, দেশের অন্যতম ফ্যাশন হাউজ “ইজি” ঈদ উপলক্ষ্যে বরাবরের মতোই যোগ করেছে আরো নতুন মাত্রা।“ইজি”র সব ধরনের পোশাকের দাম ও ক্রেতাদের ক্রয় সাধ্যের মধ্যে থাকায়  ফ্যাশন হাউসটিতে ক্রেতাদের চাপ লেগেই থাকে। আর ঈদ হলে তো কথাই নেই। তিনি সর্বশেষ যোগ করে বলেন,তারুণ্যই ইজি’র প্রাণ ,ফ্যশন দুনিয়ায় বাংলাদেশী তারুণ্যকে নিত্য নতুন ভাবে উপস্থাপণ করতেই ইজির পথচলা।সে হিসেবে

বরিশালের ইজি ফ্যাশনে তরুণদের চাপ সারা বছরই লেগে থাকে।

 

রাহাত, আবির এবং ফয়সাল তিন বন্ধু পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ছাত্র।তারা পটুয়াখালী থেকে বরিশালে এসেছেন ঈদের কেনাকাটা করার জন্য। কথা হয় তাদের সাথে ঈদের কেনাকাটা নিয়ে কথা হলে তারা বলেন, ইচ্ছা ছিল বরিশালের সব ফ্যাশন হাউসগুলো ঘুরে  পছন্দের পোশাক কেনাকাটা করার।কিন্তু ইজির চোখ ধাধানো নতুন কালেকশনের কারনে আর বাহিরে কোথাও যেতে হয়নি। ইজি প্রসঙ্গে তারা বলেন এক জায়গা থেকে সব কিছু কেনার মুল কারন শুধু চোখ ধাধানো কালেকশন নয়। পোশাকের মান ও দাম মুখ্য ভুমিকা পালন করেছে বলে তারা বলেন। তিন বন্ধুর এক বন্ধু ফয়সাল তো বলেই ফেলেছেন নিয়ে এসেছি ১৮,০০০ টাকা ভাবছিলাম এ দিয়ে সব কেনাকাটা করা যাবে না।কিন্তু এখান থেকে কেনাকাটা করে  প্রায় ৫০০০ টাকা ফিরিয়ে নিচ্ছি।

এছাড়া কথা হয়  ইজিতে কেনাকাটা করতে আসা বরিশাল জেলা জজ কোর্টের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর এড. দেলোয়ার হসেন মুন্সির সাথে, ইজি ফ্যাশনের পণ্যের গুনগত মান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এককথায় বলেন,আমার তো ইজি ফ্যাশনের পোষাক ভালোই লাগে।আর আমি সবসময় এখান থেকেই কেনাকাটা করি। এবারের ঈদেও তিনি ইজি ফ্যাশন থেকে কেনাকাটা করার আশাবাদ বাক্ত করেন।

 

ইজি ফ্যাশনের এবারের ঈদ আয়োজন নিয়ে কথা হয় বরিশাল শাখার ব্যবস্থাপক, নাজমুল হাসানের সাথে। তিনি ইজি ফ্যাশনের ঈদ  আয়োজন নিয়ে বলেন, পবিত্র শবে বরাতের দু দিন পর থেকে  প্রতিটি দিনই ক্রেতাদের চমকে দেওয়ার মতো নতুন পোশাক আসছে। আর ইজি’র ঈদ ফ্যাশন মানে যা কেউ এর আগে ভাবতে পারেনি এমন কিছু। নতুনত্বে ভরা পোশাকগুলোর মূল্য নির্ধারন করা হয়েছে সকলশ্রেনীর ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে। ইজির সকল কালেকশনের মূল্য আগের মতোই রয়েছে।এখানে জিন্সের প্যান্টের পাওয়া যাবে ১৯৮০ টাকা থেকে ২৪৮০ টাকায়, গ্যাভার্ডিং প্যান্ট ১৪৯০-১৯৮০ টাকায়, শার্ট ১০৫০-১৮৯০ টাকায় এবং পাঞ্জাবী পাওয়া যাবে ১৬৯০-৩২০০ টাকায়।

তিনি আরো বলেন, ক্রেতাদের সমাগমের কথা বিবেচনা করে এবারে পোশাকের মূল্য পরিশোধের জন্য আগামি কয়েকদিনের মধ্যে নতুন একটি কাউন্টার চালু করা হবে। যাতে করে ক্রেতারা দ্রুত পছন্দের পোষকটি কিনে স্বস্তিতে বাড়ী ফিরতে পারেন।

 

Facebook Comments