বরিশালে এক বছরে নিরাপদ প্রসবের হার বেড়েছে সাত গুণ!

জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ২৭৯টি কমিউনিটি ক্লিনিকে ২০১৫ সালে নিরাপদ সন্তান প্রসবের সংখ্যা ছিল মাত্র ৪২। গত বছর এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩০৩-তে; যা সাত গুণের কিছু বেশি।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা বলেন, নিরাপদ প্রসব সেবার জন্য ২০১৪ সালে স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য কমিউনিটি স্কিলড বার্থ অ্যাটেনডেন্ট (সিএসবিএ) বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রসব সহকারীর একটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। এতে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি), স্বাস্থ্য সহকারী এবং পরিবারকল্যাণ সহকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

সদর উপজেলার শোলনা কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি আনোয়ারা পারভিন বলেন, প্রতি ব্যাচে ২০ জন করে মোট ৬০ জনকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর কর্মীরা মাঠপর্যায়ে তৎপর হয়েছেন। এ কারণে এই অগ্রগতি এসেছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ সানজিদা হোসেন বলেন, তিনটি ব্যাচে প্রশিক্ষণ হওয়ার পর তা আপাতত বন্ধ রয়েছে। তবে প্রশিক্ষণটি থেকে অর্জিত জ্ঞান তৃণমূল পর্যায়ে প্রসূতিসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এতে অকারণে প্রসূতিদের অস্ত্রোপচার রোধ হচ্ছে। প্রসূতিদের শারীরিক ও পরিবার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার হারও কমছে।

সদরের গাওয়াসার কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি সাদিয়া আফরিন মৌরি বলেন, গর্ভধারণের পর থেকে তাঁরা অন্তঃসত্ত্বা নারীদের গর্ভকালীন যত্ন বা অ্যান্টিনেটাল চেকআপ (এএনসি) করান। প্রথমে চার মাসে, এরপর ছয়, আট ও নয় মাসের মাথায় তাঁদের কমিউনিটি ক্লিনিকে আসার পরামর্শ দেন। এ সময় রক্তচাপ, রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করা হয়। অন্তঃসত্ত্বা নারীদের নানা পরামর্শ দেওয়া হয়। তা

ছাড়া অন্তঃসত্ত্বা নারীদের কাছে স্বাস্থ্যকর্মীদের মুঠোফোন নম্বর দেওয়া থাকে। প্রসবের সময় হলে তাঁরা ওই নম্বরে ফোন করেন। প্রসূতির অবস্থা দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অবস্থা জটিল হলে বড় হাসপাতালে পাঠানো হয়। তা না হলে স্বাস্থ্যকর্মীরাই স্বাভাবিক প্রসবের ব্যবস্থা করেন।

সদরের শোলনা কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) আনোয়ারা পারভিন বলেন, তিনি ধাত্রীবিদ্যায় ছয় মাসের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর তিনটি স্বাভাবিক প্রসব করিয়েছেন। সাত-আটটিতে সহায়তা করেছেন। আরিন্দা বাড়ি ও হাওলাদার বাড়ির দুই গৃহবধূর নিরাপদে সন্তান প্রসব করিয়েছেন আনোয়ারা বেগম। তাঁদের একজন মিনা বেগম (২৪)। তিনি বলেন, ‘গত বছরের জুলাই মাসে আমার সন্তানের জন্ম হয়। তখন বর্ষা মৌসুম। হাসপাতালে যেতে যথেষ্ট বেগ পেতে হতো। আর ক্লিনিকে গেলে অস্ত্রোপচার করা হতো। এতে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হতো। কিন্তু উনার (আনোয়ারা পারভিন) সহায়তায় আমি নিরাপদে সন্তান প্রসব করি কোনো ঝামেলা ও খরচাপাতি ছাড়াই।’

সদর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা যতীন চন্দ্র রায় বলেন, নতুন করে আট শতক জমির ওপর কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব ক্লিনিকে নিরাপদে সন্তান প্রসবের জন্য আলাদা কক্ষ থাকবে। সদর উপজেলায় এ রকম দুটি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রসব সেবার জন্য আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা হচ্ছে।

২৪ এপ্রিল অবসর নেওয়া বরিশালের সিভিল সার্জন এ এফ এম শফি উদ্দিন বলেন, ‘গ্রামে অদক্ষ ধাত্রী দ্বারা সন্তান প্রসব হওয়ায় শিশু ও মাতৃমৃত্যুর মতো দুর্ঘটনা ঘটে। এই হার কিছুটা কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি লাখে মাতৃমৃত্যুর হার ৭০-এর নিচে নামিয়ে আনা। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর হার ২৫-এর নিচে নিয়ে আসা।’

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>