বরিশালে এক রশিতে প্রেমিক-প্রেমিকার মৃত্যু, প্রেমিকার মা-বাবা ও খালার বিরুদ্ধে মামলা

মে ৩১ ২০১৭, ২৩:৩৩

মুলাদীর সফিপুর সৈয়দ বদরুল হোসেন কলেজ ১ম বর্ষের ছাত্র-ছাত্রী প্রেমিক যুগলকে হত্যার হুমকি ও তালাক দেয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার অভিযোগে ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় প্রেমিকা জান্নাতুল ফেরদৌস টিয়ার বাবা আতাহার হোসেন দুলাল, মা শারমিন বেগম ও খালা সাবিকুন নাহারকে অভিযুক্ত করা হয়। বুধবার সিনিয়র জুডিসয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিহত সোহেল রানার মা ফকুরুন নেছা মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের বিচারক অনুতোষ চন্দ্র বালা শুনানী শেষে মামলাটি তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করতে মুলাদী থানা অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেন। মামলায় অভিযুক্তরা মুলাদী সফিপুর ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী তরিকুল ইসলাম দিপু জানান, উপজেলা সফিপুরের মৃত দলিল উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে সোহেল রানা ও জান্নাতুল ফেরদৌস টিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিক এবং সর্বশেষ একই কলেজে এইচএসসি শিক্ষার্থী ছিল। দীর্ঘদিন ধরে তাদের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। প্রেমের সম্পর্ক জানতে পেরে টিয়ার বাবা-মা সোহেল রানাকে মারধর করে এবং তার পরিবারের সকলকে হত্যার হুমকি দেয়। টিয়ার বাবা-মায়ের অব্যাহত চাপের কারনে গত ৩ এপ্রিল সোহেল রানা নোটারি পাবলিক আদালতের মাধ্যমে টিয়াকে বিয়ে করে।

বিয়ের বিষয়ে জানতে পেরে টিয়ার বাবা-মা ও খালা টিয়াকে তালাক না দিলে সোহেল রানা তার মাকে হত্যার হুমকি দেয়। এতে সোহেল রানা ভয় পেয়ে গত এক মাস পূর্বে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় চলে যায়। গত ১৮ মে ফকুরুন নেছা ছেলের সাথে দেখা করতে লঞ্চযোগে ঢাকা রওয়ানা হয়। কিন্তু একই দিন সোহেল রানা তার স্ত্রীর সাথে দেখা করতে বাড়ি আসে। এর আগে সাবিকুন নাহার মোবাইল ফোনে সোহেল রানাকে জানান তাকে তালাক দিয়ে টিয়াকে বিয়ে দেয়া হবে। পরে সোহেল রানা স্ত্রী টিয়ার সাথে দেখা করে বিস্তারিত জানতে পেরে আত্মহত্যার চিন্তা করে। একই দিন দিবাগত রাত ৪টার দিকে সোহেল রানা একই এলাকার রিনা বেগমকে ফোন করে জানায়, ‘টিয়ার অভিভাবকরা তাদের বাঁচতে দিল না। আমি ও টিয়া চিরতরে চলে গেলাম। আমাদের জন্য মাকে দোয়া করতে বলো’। ওই দিন ৪টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে যেকোন সময় নিজের বিবাহিত স্ত্রীকে হারানোর ভয়ে ও নিজের স্বামীকে তালাক দেয়ার মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে তারা পার্শ্ববর্তী আবুল কালামের পরিত্যক্ত টিনের বসতঘরের আড়ার সাথে এক দড়িতে একত্রে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>