বরিশালে এলজিইডির প্রকৌশলীদের অদক্ষতায় রাষ্ট্রের ২৪ কোটি টাকা গচ্ছা!

ফেব্রুয়ারি ২৬ ২০১৭, ১৩:৫৯

লিটন বাশারঃ কড়াইতলা নদীর ওপর বিশ্বাসের হাট সেতু নির্মাণকাজ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। লঞ্চ মালিক সমিতির আপত্তির মুখে গত এক বছর ধরে সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে এলজিইডির প্রকৌশলীদের অদক্ষতা ও লঞ্চ মালিক সমিতির সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে এখন সরকারের ২৪ কোটি টাকা গচ্চা যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

 

কীর্তনখোলা নদীর পূর্ব তীরের মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবির প্রেক্ষিতে বিশ্বাসের হাট সেতু নির্মাণে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০১৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সেতুর নির্মাণকাজ উদ্বোধন করা হয়। তিন বছরের মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। সে অনুযায়ী সেতুর পাইলিংসহ দুই পাশের নির্মাণকাজ দুই বছরের আগেই সম্পন্ন হয়। নদীর মাঝ বরাবর সেতুর মূল অংশটির নির্মাণকাজ শুরু করার পূর্বে ঠিকাদার সেখানে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করার জন্য একটি নোটিস ঝুলিয়ে দেয়। এতে লঞ্চ মালিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা অভিযোগ করেন, সেতুর উচ্চতা কম হওয়ায় নদী দিয়ে বরিশাল-ভোলা, মেহেন্দীগঞ্জ, লালমোহন, বাউফল, কালাইয়া, কালিশুরী ও নাজিরপুরসহ বিভিন্ন রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। লঞ্চ মালিকরা নির্মাণকাজের জন্য নদীতে লঞ্চ চলাচল  বন্ধ না করে পাশ্ববর্তী স্থানে একটি চ্যানেল তৈরি করে দেওয়ার দাবি করেন। এলজিইডির ঠিকাদার এতে সম্মত না হওয়ায় নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়।

 

এলজিইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে— এমএল টাইপের লঞ্চ চলাচলের জন্য ৭ দশমিক ৬২ মিটার উচ্চতায় সেতু নির্মাণের জন্য বিআইডব্লিউটিএ সুপারিশ করেছিল। বাস্তবে ৮ মিটার উচ্চতায় সেতুর নির্মাণকাজ করা হয়েছে।  কিন্ত ওই নদী দিয়ে এমএল টাইপের চাইতে বড় ৫-৭টি যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলের কারণে লঞ্চ মালিকরা আপত্তি তোলেন। বিআইডব্লিউটিএ তখন এলজিইডিকে সেতুর উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য অনুরোধ জানায়। কিন্ত সেতুর নির্মাণকাজ অর্ধেকের বেশি শেষ হওয়ায় আর উচ্চতা বৃদ্ধির সুযোগ নেই। এ
অবস্থায় ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে বিশ্বাসের হাট সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে পড়ে। যদিও এলজিইডি তখন বলেছিল নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে ঠিকাদার আর নির্মাণকাজ শুরু করেনি। সেতুর নির্মাণকাজ এক বছর বন্ধ থাকার পর এলজিইডি নতুন করে আরো চার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। এরপরেও সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়া তো দূরের কথা পুনরায় শুরু হওয়ার দিনক্ষণই নির্ধারণ হয়নি।

 

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমিন খান জানান, নতুন করে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তার কাজ সম্পন্ন করতে নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে। সেতুর উচ্চতা বৃদ্ধি করা সম্ভব না হওয়ায় গার্ডারের সংখ্যা বাড়ানো ও তার দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করা হবে। নদীর মাঝখানে নির্মাণকাজের সময় লঞ্চ মালিকরা অন্য চ্যানেল ব্যবহারে রাজি না হলে তাদের জন্য এক পাশে একটি চ্যানেল করে দেওয়া হবে। এ ছাড়াও সংযোগ সড়ক নির্মাণের কথা ছিল সেতুর দুই পাশে দুইশ মিটার করে মোট চারশ মিটার। কিন্তু এখন তা করতে হবে আটশ মিটারেরও বেশি। কবে নাগাদ ঠিকাদার নিয়োগের দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে— এ প্রশ্নের জবাবে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, আপাতত অতিরিক্ত এ কাজের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। তা কেন্দ্রীয় দফতরে প্রক্রিয়াধীন, অনুমোদন পেলেই ঠিকাদার নিয়োগের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

এদিকে লঞ্চ মালিকদের অভিযোগ সেতু নির্মাণকাজের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সদর উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ মাইনুল মাহমুদকে। জুনিয়র এ প্রকৌশলীকে এত বড় সেতুর নির্মাণকাজের তদারকির দায়িত্ব দেওয়ায় সেতু প্রকল্প ভেস্তে যেতে বসেছে। যদিও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আর উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ মাইনুল মাহমুদ বলেন, অতীত নিয়ে কথা না বলে আমরা চাই দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করতে।
Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>