বরিশালে কিশোরীকে ধর্ষন করে হত্যার ঘটনায় ৩ জনের যাবজ্জীবন

আপডেট : June, 14, 2017, 6:20 pm

 

 

বরিশাল : বরিশালের উজিরপুর উপজেলার কাউয়ারেখা গ্রামে কিশোরী রোকসানা আক্তারকে (১৫) অপহরণ করে ধর্ষণ এবং হত্যার পর মৃতদেহ গুম করার মামলায় ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ পৃথক ধারায় বিভিন্ন দন্ডাদেশ দিয়েছে আদালত।

 

আজ বুধবার (১৪ জুন) দুপুরে বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক শেখ আবু তাহের এ রায় প্রদান করেন।

 

দন্ডপ্রাপ্তরা হলো, উজিরপুরের কাউয়ারেখা এলাকার রফিকউদ্দিন হাওলাদারের ছেলে স্বপন হাওলাদার, সুখময় হালদারের ছেলে সমীর হালদার ও কানাই বৈরাগীর ছেলে গৌরাঙ্গ বৈরাগী। তবে রায় ঘোষনার সময় স্বপন হাওলাদার শুধু উপস্থিত ছিলেন।

 

এদিকে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় এই মামলার ৩ আসামীকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এরা হলেন- স্বপনের বাবা রফিকউদ্দিন হাওলাদার, রফিকের ভাই মোকসেদ হাওলাদার এবং স্থানীয় বাসিন্দা সফিজউদ্দিন।

 

আদালত সূত্র জানায়, নিহত রোকসানা আক্তার গৌরনদী উপজেলার কসবা এলাকায় কাদের ফকিরের মেয়ে। নানী অসুস্থ থাকায় ঘটনার কয়েকদিন পূর্বে সে উজিরপুরের কাউয়ারেখা গ্রামে নানী বাড়িতে আসেন।

 

অভাবের কারনে রোকসানা তার নানী বাড়ির পাশের রফিকউদ্দিনের বাড়িতে কাজে যান। সেখানে রফিক উদ্দিনেরে ছেলে স্বপন হাওলাদার কৌশলে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে রোকসানাকে অন্তস্বত্তা করে ফেলে। যে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়।

 

ঘটনার দিন ২০০০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী রাত ১০টার পর

নানী বাড়িতে অন্যান্যদের সাথে ভিসিআর দেখছিলো রোকসানা। ভাত খেতে ডাকার অজুহাতে নিকটাত্মীয় স্বপন তাকে ডেকে বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে নিয়ে যায়।

 

সেখানে নিয়ে স্বপন ও তার দুই সহযোগী মিলে রোকসানাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে হত্যা করে পার্শ্ববর্তী অতুল হালদারের বাড়ির টয়লেটের স্লাবের নীচে ট্যাংকিতে রোকসানার মৃতদেহ ফেলে দেয় স্বপন ও তার সহযোগীরা।

 

অনেক খোজাখুজির পর পরদিন সকালে সেখান থেকে রোকসানার মৃতদেহ উদ্ধার করে স্বজনরা।

 

এ ঘটনায় একই বছরের ১৬ মার্চ রোকসানার বড় ভাই লালন ফকির ৬ জনের বিরুদ্ধে অন্তস্বত্তা রোকসানাকে অপহরণ, ধর্ষণ, হত্যা এবং তার মৃতদেহ গুমের অভিযোগে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

 

২০০৩ সালের ২৬ জানুয়ারী আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উজিরপুর থানার এসআই আব্দুল হাকিম।

 

আদালত ২৫ জনের মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষগ্রহন শেষে অপহরন ও হত্যার ঘটনায় দন্ডপ্রাপ্ত ৩ জনের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে দন্ড প্রদান করেন।

 

একইসাথে মৃতদেহ গুম করার অপরাধে ৩ জনের প্রত্যেককে ৫ বছর কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

 

পাশাপাশি প্রধান আসামী স্বপন হাওলাদারকে নারী ও শিশু নির্যা তনের ২০০৭ ধারায় ১৪ বছর সশ্রম কারাদন্ড ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

Facebook Comments