বরিশালে খেয়াঘাটে ৫ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা!!

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের নির্দেশকে বৃদ্ধাঅঙ্গুলি দেখিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের খামখেয়ালীপনায় সাবেক এক সর্বহারা নেতা ও তার ভাড়াটিয়া মাস্তানদের কাছে জিম্মি হয়ে পরেছে জেলার মুলাদী উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ মৃধারহাট থেকে ভেদুরিয়া খেয়াঘাটে প্রতিনিয়ত যাতায়াতকারী কয়েক হাজার যাত্রী।
সূত্রমতে, রহস্যজনক কারণে উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের মৃধারহাট থেকে ৩৬ ভেদুরিয়া দৃষ্টিনন্দন রাস্তার মাথা খেয়াঘাটের ইজারা না দেয়ায় সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমান রাজস্ব। এ সুযোগে ইউএনও’র কথিত খাস কালেকশনের নামে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নিয়োগকৃত সাবেক এক সর্বহারা নেতা ও তার ভাড়াটিয়া মাস্তানরা জোরপূর্বক যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। পূর্বে এ ঘাটে জনপ্রতি যাত্রীদের ৫ টাকা ভাড়ার স্থলে এখন আদায় করা হচ্ছে ৫০ টাকা। আর প্রতিটি মোটরসাইকেল থেকে ১০ টাকার স্থলে বর্তমানে আদায় করা হচ্ছে ১০০ টাকা। সন্ধ্যা হলেই এ ভাড়া দুই থেকে তিনগুন বৃদ্ধি পায়। এমনকি স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও সমপরিমান ভাড়ার টাকা আদায় করা হচ্ছে। এ মনগড়া ভাড়ার কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে লাঞ্ছিত হতে হয় ঘাটে অবস্থানরত ভাড়াটিয়া মাস্তানদের হাতে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, নৌ-পথে মাদক আমদানির নিরাপদ রুট হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে এ খেয়াঘাটটি ব্যবহার করছেন স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। যেকারণে খেয়াঘাটটি হাতছাড়া হয়ে গেলে তাদের নানা সমস্যায় পরতে হবে। এ কারণেই ঘাটটি দখলে রাখতে ওই মহলটি সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বিষয়টি যেনেও না যানার ভ্যান করছেন প্রশাসনের কতিপয় কর্তাব্যক্তিরা।
সরেজমিনে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে পূর্বে এ খেয়াঘাটটি নামেমাত্র ইজারা নিয়ে যাত্রী জিম্মি ও নৌ-পথে মাদক আমদানিকারকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকার রমরমা বাণিজ্য করে আসছিলেন স্থানীয় সাইফুল ইসলাম রুস্তুম হাওলাদার। সরকারের রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট টিপু সুলতানের কাছে এলাকাবাসী তুলে ধরেন। পরবর্তীতে তিনি (সাংসদ) বছরের শুরুতেই খেয়াঘাটটি ভেদুরিয়া গ্রামের মজিদ মুন্সীর পুত্র আব্দুস সালাম মুন্সীর নামে ইজারা দেয়ার জন্য ডিও লেটারের মাধ্যমে চরকালেখান ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের কাছে সুপারিশ করেন। সেই মোতাবেক ওই ইউনিয়নের নয়জন ইউপি সদস্য জনস্বার্থে সংসদ সদস্যর সুপারিশ গ্রহণ করে একটি রেজুলেশনের মাধ্যমে ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মোহসীন উদ্দিন খানের কাছে উপস্থাপন করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে

একাধিক ইউপি সদস্যরা বলেন, সংসদ সদস্যর সুপারিশ এবং ইউনিয়ন পরিষদের সিদ্ধান্তকে উপক্ষো করে রহস্যজনক কারণে ইউপি চেয়ারম্যান খেয়াঘাট ইজারার সিদ্ধান্ত বাতিল করেন। পরবর্তীতে তার একক সিদ্ধান্তে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বির্তকিত সাবেক ইজারাদার ও সাবেক এক সর্বহারা নেতার নেতৃত্বে এলাকার কতিপয় চিহ্নিত মাস্তানদের মাধ্যমে ঘাট পরিচালনা করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে চরম উত্তেজনা দেখা দিলে নিরিহ গ্রামবাসীর পক্ষে আব্দুস সালাম মুন্সী এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
সূত্রমতে, সেই মোতাবেক জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার সহকারী পরিচালক তদন্তপূর্বক নীতিমালা অনুযায়ী খেয়াঘাটটি ইজারা প্রদানসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে অবহিত করার জন্য মুলাদী উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্দেশ প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আতাহার মিয়া বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ ওই ঘাটটি ইজারা না দেয়া পর্যন্ত সরকারীভাবে ওই ইউনিয়নের তহশিলদার আবুল কাশেমের মাধ্যমে খাস কালেকশন করে সমূদয় অর্থ সরকারী কোষাগারে জমা দেয়া হচ্ছে।
রবিবার দিনভর সরেজমিনে দেখা গেছে, সাবেক ইজারাদার সাইফুল ইসলাম রুস্তুম হাওলাদার, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের চাচা মতি খান, স্থানীয় আবক্ষাস হাওলাদার ও সম্প্রতিসময়ে ক্রসফায়ারে নিহত আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার এবং সর্বহারা নেতা কালাম সরদারের ভাই রুস্তুম সরদারের নেতৃত্বে তাদের ভাড়াটিয়া মাস্তানরা যাত্রী জিম্মি করে খেয়াঘাটের ইজারা আদায় করছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বক্তব্যের সূত্রধরে সংশ্লিষ্ট তহশিলদার আবুল কাশেমের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, খেয়াঘাটের ইজারা আদায় সম্পর্কে আমার কিছুই জানা নেই। আমি কোনদিন খেয়াঘাটের ইজারা আদায় করিনি।
স্থানীয় আব্দুস সালাম মুন্সী জানান, তাকে খেয়াঘাট ইজারা দেয়ার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যর সুপারিশ ও তার পক্ষে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যদের রেজুলেশনের ভিত্তিতে তিনি গত ১৩ এপ্রিল ব্যাংকের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ব্যাংক হিসাব নাম্বারে পূর্বের ইজারার টাকা জমা দিয়ে খেয়াঘাট দখল করেন। সালাম মুন্সী অভিযোগ করেন, এ ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আতাহার মিয়া মোবাইল ফোনে তাকে ঘাট ছাড়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদর্শন করেন।
হুমকির অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আতাহার মিয়া বলেন, আগামী সাতদিনের মধ্যে তদন্ত সাপেক্ষে ওই খেয়াঘাটের সকল সমস্যা সমাধান করা হবে।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>