বরিশালে খোলা মাঠে পরীক্ষা দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা

জুলাই ১৩ ২০১৭, ২২:৫৯

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তহীনতা আর উদাসীনতার কারণে চারটি শ্রেনি কক্ষ দখল করে রাখায় শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা দিতে হচ্ছে খোলা মাঠে অস্থায়ীভাবে নির্মিত টিনের ছাঁপড়ার নিচে। বৃষ্টির সময় শিক্ষার্থীরা পায়ের নীচে কাঁদার মধ্যে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হলেও বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই। এ ঘটনায় সর্বত্র তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলা সদরের ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমীর। সরেজমিনে দেখা গেছে, একটি শ্রেণি কক্ষে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের বিনামূল্যের বই ভর্তি করে আটকে রাখা হয়েছে। ছাত্রীদের কমন রুম দখল করে সেখানে বসবাস করছেন স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক রনজিত বাড়ৈ। প্রধানশিক্ষক যতীন্দ্র নাথ মিস্ত্রীর দখলে রয়েছে অপর একটি কক্ষ। আরেকটি কক্ষে রাখা হয়েছে স্কুলের ভাঙ্গাচুরা আসবাবপত্র। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই স্কুলের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের সমস্যা সমাধান করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর প্রচেষ্টায় সম্প্রতি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে প্রায় ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে স্কুলের জন্য নতুন ভবন বরাদ্দ করা হয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে ইতোমধ্যেই ঠিকাদারকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। নতুন ভবন বরাদ্দ হওয়ার পর পরই নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দরা স্কুলের পুরাতন দ্বিতল ভবনটি নামমাত্র মূল্যে বিদ্যালয় সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তুজা খানের

এক আত্মীয়র কাছে বিক্রি করে দেয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে পরবর্তীতে পিছনের তারিখ দিয়ে ভবন ভাঙ্গার রেজুলেশন করিয়ে তাতে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর করিয়ে নেয়া হয়। পুরাতন ভবন ভাংচুরের কাজ শুরু করার পর ও চারটি কক্ষ দখল করে রাখায় স্কুলের শ্রেণি কক্ষের সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। এরইমধ্যে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষাকে সামনে রেখে তরিৎগতিতে শ্রেনি কক্ষ সংকট মোকাবেলায় স্কুলের খোলা মাঠে অস্থায়ীভাবে টিনের ছাঁপড়া দিয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্কুলের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানায়, পরীক্ষা চলাকালীন সময় বৃষ্টি শুরু হলে ওই ছাঁপরার নিচেই মাঠের পানি ও কাঁদার মধ্যে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ও শিক্ষকদের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। অথচ স্কুলের চারটি শ্রেনি কক্ষ দখল করা না হলে এ সমস্যার সৃষ্টি হতো না। এ ব্যাপারে ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমীর প্রধানশিক্ষক যতীন্দ্র নাথ মিস্ত্রীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তুজা খান বলেন, শ্রেণিকক্ষ দখল করে রাখার বিষয়টি আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>