বরিশালে চাল কেলেঙ্কারির মূল হোতারা অধরা

আপডেট : May, 10, 2017, 1:00 pm

খান রফিকঃ বরিশাল খাদ্য অধিদফতরে চাল কেলেঙ্কারির ঘটনায় র‌্যাবের হাতে আটক পাঁচজনের মধ্যে দুই কর্মকর্তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে চতুর্থ শ্রেণীর তিন কর্মচারীকে। অভিযোগ রয়েছে, আটকের পর মুক্ত হওয়া দুই কর্মকর্তাই হলেন বরিশাল খাদ্য অধিদফতরে চাল নিয়ে নয়ছয় করার মূল হোতা। তাদের নেতৃত্বেই বিভিন্ন সময়ে গুদাম থেকে চাল পাচার হতো বলে খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এদিকে চাল কেলেঙ্কারির কারণ উদ্ঘাটনে মঙ্গলবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক। চাল কেলেঙ্কারিতে জড়িত এক কর্মকর্তাকে এ তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করায় তদন্ত কমিটির কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। সোমবার দুপুরে বরিশাল খাদ্য অধিদফতরের গুদাম থেকে পাচারের সময় ২০ টন চাল জব্দের পর এর সঙ্গে জড়িত সন্দেহে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মশিউর রহমান, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন, দারোয়ান শাহাবউদ্দিন, আরিফুর রহমান ও হুমায়ন কবীরকে আটক করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে

সন্ধ্যায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মশিউর রহমান ও উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুনকে ছেড়ে দেয়া হয়। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শাহ মোঃ আওলাদ হোসেন জানান, র‌্যাব-৮ সোমবার রাতে খাদ্য বিভাগের তিন কর্মচারীকে থানায় সোপর্দ করে এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করে। গ্রেফতার তিন কর্মচারীকে মঙ্গলবার আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালত তাদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেয়।

খাদ্য বিভাগের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা জানান, উপজেলা খাদ্য গুদামে ভিজিএফ-ভিজিডি এবং বিভিন্ন প্রকল্পের চাল কালো বাজারে ক্রয় করার মূল হোতা হচ্ছেন উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আবদুলাহ মামুন। তাকে দাফতরিক সহায়তা দিয়ে এসেছেন জেলার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমান। জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আঁতাত করে চাল ক্রয়-বিক্রয় করে খাদ্য অধিদফতরে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা অবৈধ উপর্জন হয়। অবৈধ টাকা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খাদ্য অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এমনকি সর্দারের মধ্যেও বিরোধ বাধে। বঞ্চিত গ্রুপ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দেয়ায় সোমবার ২০ টন চাল জব্দ করে র‌্যাব।

 

Facebook Comments