বরিশালে ছেলেকে হত্যার অভিযোগে মা সহ ১০ জনকে আসামী করে মামলা

অক্টোবর ২৩ ২০১৭, ১৯:১৮

বানারীপাড়া প্রতিনিধিঃ বানারীপাড়ায় মায়ের পরকীয়া প্রেমে বাধা দেওয়ায় ছেলেকে বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করে হত্যা করার অভিযোগে মা সহ ১০ জনকে আসামী করে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।রোববার বরিশালের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন বরিশাল নগরীর কাটপট্রি রোড এলাকার তানজিলা।

আদালতের বিচারক মো. গোলাম ফারুক মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার জন্য বানারীপাড়া থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।মামলার আসামীরা হলেন বানারীপাড়া উপজেলার মাদারকাঠি গ্রামের শেখ আব্দুল মজিদের স্ত্রী ফেরদৌসী পারভীন রানু,তার ভাই বরিশাল বাস মালিক সমিতির নেতা জগলু হাওলাদার,বরিশালের শীতলাখোলা এলাকার মো. সহিদুর রহমান ও তার স্ত্রী ফাতেমাতুজ জোহরা ওরফে রেশমা।

এছাড়াও ৬ জনকে অজ্ঞাতনামা অঅসামী করা হয়েছে। আসামী ফেরদৌসী পারভীন রানু বাদী তানজিলার শাশুড়ী,জগলু হাওলাদার মামা শ্বশুর,সহিদুর রহমান ননদ জামাতা ও ফাতেমাতুজ জোহরা ওরফে রেশমা ননদ। এজাহার সূত্রে জানা গেছে বাদী তানজিলার শ্বশুর শেখ আ. মজিদ দীর্ঘ ১১ বছর ধরে পক্ষাঘাত গ্রস্থ

অবস্থায় শয্যাশায়ী।

সেই সুযোগে তার স্ত্রী ও বাদীর শাশুড়ী ফেরদৌসী পারভীন রানু পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হয়ে পড়েন।এছাড়া তিনি স্বামীর বিশাল সম্পত্তি থেকে ছেলেকে বঞ্চিত করে নিজে ভোগ দখল করার সুপরিকল্পনা করেন। মায়ের পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়ে তার ছেলে ওমর ফারুক বাবু বাধা দিলে তাকে নেশাগ্রস্থ বানিয়ে ঢাকার উত্তরায় মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র রি-লাইফ সেন্টারে ১৭ মাস আটকে রাখা হয়। গত ৭ অক্টোবর রানু তার ছেলেকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য সেখান থেকে রিলিজ করে পাবনা মানসিক হাসপাতালে নেওয়ার পথে টাংগাইলের মির্জাপুর রেল ক্রসিংপাড় হওয়ার পর ওমর ফারুক বাবুর শরীরে অভিযুক্তরা পুর্বপরিকল্পিত ভাবে বিষক্রিয়া ইনজেকশন পুশ করে হত্যা করে।

পরে উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের মাদারকাঠি গ্রামের বাড়িতে গোপনে বাবুর লাশ দাফন করার চেষ্টা করা হলে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠায়। এ ব্যপারে তখন থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছিলো।

Facebook Comments