বরিশালে ঠিকাদারের গাফিলতি, মানুষের ভোগান্তি

আগস্ট ২২ ২০১৭, ১১:৪৮

খালের ওপর সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু এর দুই পাশে মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়নি। বাঁশের সাঁকো তৈরি করে এলাকাবাসী ওই সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করছে। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। গত মঙ্গলবার ওই সাঁকো থেকে পানিতে পড়ে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত দুই মাসে সেখানে আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন।

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ইল্লা-বাকাই খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুর পাশে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্মাণাধীন সেতুর পাশে ঠিকাদার বিকল্প সড়ক তৈরি করেননি। সেতু নির্মাণ শেষে দুই পাশে মাটি না দেওয়ায় এটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ২০১৬-১৭ অর্থবছরে গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ইল্লা-বাকাই খালের উমেদ আলী বাজারসংলগ্ন এলাকায় ৩০ ফুট দীর্ঘ সেতু নির্মাণে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ২৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। মার্চে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কার্যাদেশ পায় মেসার্স তামিম এন্টারপ্রাইজ। জুনের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার কথা ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা যায়, নির্মাণাধীন সেতুর পাশে বিকল্প পথ তৈরি না করায় প্রথম থেকেই পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এই সেতু পার হয়ে বাদুড়তলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাদুড়তলা মহিলা নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মক্তবে শিশুরা পড়তে যায়। সেতুর দুই পাশে মাটি না দেওয়ায় শিশুরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছিল না। পরে জুনের মাঝামাঝি এলাকার লোকজন নিজ খরচে সেতুর দুই পাশে বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করেন।

গত বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়,

ইল্লা-বাকাই খালের উমেদ আলী বাজারসংলগ্ন স্থানে খালের মাঝখানে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। প্রায় ৬০ ফুট চওড়া খালের মাঝখানে ৩০ ফুট দীর্ঘ সেতু। দুই পাশে বাঁশের সাঁকো দিয়ে লোকজন সেতুর ওপর দিয়ে যাতায়াত করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত মঙ্গলবার ডুমুরিয়া গ্রামের সৌদিপ্রবাসী মিজানুর রহমানের ছেলে মনজুরুল কাজী (৬) বিদ্যালয়ের যাওয়ার পথে সাঁকো থেকে পড়ে পানিতে ডুবে মারা যায়। সেতুর উত্তর পাশেই তাদের বাড়ি। ওই বাড়িতে গিয়ে কথা হয় মনজুরুলের দাদা আকবর আলী কাজীর সঙ্গে। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘সেতুর ঠিকাদার মোর সব কাইয়া নিছে। মুই মোর পোলারে কী জবাব দিমু।’

ডুমুরিয়া গ্রামের মো. হাবিবুর রহমান ও পার্শ্ববর্তী ইল্লা গ্রামের নুর আলম সরদার বলেন, ঠিকাদার ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে সেতু নির্মাণকাজে অনিয়ম, দুর্নীতি ও গাফিলতি করেছেন। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও কাজ হয়নি।

উমেদ আলী বাজার জামে মসজিদের ইমাম মো. নাসির উদ্দিন বলেন, সাঁকো পার হতে গিয়ে গত কয়েক মাসে ৩০টির বেশি দুর্ঘটনা
ঘটেছে। এতে তিনিসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

এসব অভিযোগ সম্পর্কে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তামিম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আফজাল হোসেন বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ এসেছে। কিন্তু আমি ঠিকাদার নই। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছেন স্থানীয় ঠিকাদার আবদুল আজিজ ও আবদুল মজিদ হাওলাদার।’

আবদুল আজিজের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি নই, কাজটি করেছেন মজিদ হাওলাদার।’ আর মজিদ হাওলাদারের মুঠোফোনে ফোন দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

পিআইও মো. হানিফ শিকদার বলেন, ‘ওই বিষয়ে আমার কাছে কেউ অভিযোগ করা হয়নি। বরং আমি উদ্যোগী হয়ে ঠিকাদার আফজাল হোসেনকে চাপ সৃষ্টি করেছি বালু ভরাট করে দেওয়ার জন্য। এ নিয়ে আমার সঙ্গে ঠিকাদারের ঝগড়া হয়েছে।’

Facebook Comments