বরিশালে ডাবল মার্ডার

জুন ০৮ ২০১৭, ২২:৩৩

বরিশালের  মুলাদী উপজেলার সফিপুর এলাকার জয়ন্তী নদী থেকে এক গৃহবধূ এবং একই উপজেলার চরপদ্মা গ্রাম থেকে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আর পুলিশ জানিয়েছে দুইজনই হত্যাকান্ডের শিকার। নিহত গৃহবধূ সাথী (১৮) হচ্ছে মুলাদীর সফিপুর গ্রামের রাজিব আকনের স্ত্রী এবং  ফরিদপুরের শ্যামপুর গ্রামের রাঙ্গা বেপারীর মেয়ে। নিহত যুবক সিদ্দিক (২৫) কালকিনি ভূরঘাটার বাসিন্দা সে ওই গ্রামে বেড়াতে এসেছিল। সফিপুরের বাসিন্দারা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার নদীতে লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। লাশটি সফিপুরের রাজিবের স্ত্রী বলে সনাক্ত করা হয়। লাশের গলায় ফাঁস এবং বুকে ভারী বস্তু দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশের ধারণা হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলে দেয়া হয়। থানা সূত্র থেকে জানা গেছে, রাজীব এক সপ্তাহ পূর্বে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করে। তাতে উল্লেখ করা হয় তার স্ত্রী সাথী ৩০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে রাজিব এ হত্যাকান্ড সংঘটিত করেছে। হত্যাকান্ড থেকে রক্ষা পেতে রাজিব আগেভাগে সাথীর বিরুদ্ধে সাধারন ডায়েরী করে। স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, ২০০৯

সালে রাজিবের পিতা জাকির আকন ওই গ্রামের কুদ্দুস আকনের স্ত্রীকে হত্যা করে। এ ঘটনায় জাকির ও তার ছেলে রাজিবের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ওই সময় রাজিব শ্যামপুর গ্রামে গিয়ে আত্মগোপন করে। আত্মগোপনে থাকাকালীন রাজিবের সাথে সাথীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত সাত মাস পূর্বে রাজিব বিয়ে করে সাথীকে বাড়িতে নিয়ে আসে। একই দিন মুলাদীর চর পদ্মা গ্রামের একটি বাগানের ভিতর মাটির মধ্যে অর্ধেক ঢুকানো অবস্থায় সিদ্দিকের লাশ এলাকাবাসী দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন সম্প্রতি সিদ্দিক তার আত্মীয় চর পদ্মা গ্রামের হাকিম গোমস্তার বাড়িতে বেড়াতে আসে। এ সময় তার সাথে ওই গ্রামের এক মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এতে ক্ষুব্ধ হয় মেয়ের স্বজনরা। ধারনা করা হচ্ছে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে সিদ্দিককে কুপিয়ে হত্যার পর লাশ ওই বাগানে মাটির ভিতরে ঢুকিয়ে রাখা হয়। ওসি মতিউর রহমান জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত ২টি লাশ হত্যাকান্ডের শিকার। এ ঘটনায় উভয়ের পরিবার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। লাশ শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

Facebook Comments