বরিশালে নদীর গর্ভে সড়ক, হুমকির মুখে বহু স্থাপনা

জুলাই ২৬ ২০১৭, ১৬:২০

নিউজ ডেস্কঃ বরিশাল জেলার মুলাদী উপজেলার রাক্ষুসী আড়িয়াল খাঁ নদীর রাক্ষুসী থাবায় পাল্টে যাচ্ছে নাজিরপুর ইউনিয়নের মানচিত্র। ইতোমধ্যে পশ্চিম তেরচরসহ পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দাদের যাতায়াতের জন্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একমাত্র কার্পেটিং সড়কটি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।
ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে ওই ইউনিয়নের চারটি ব্রীজ, তিনটি কালভার্ট, দুইটি স্কুল একটি বাজার ও ঐতিহ্যবাহী মীর কুতুব শাহ্ এর মাজার। এছাড়া উপজেলার জয়ন্তী নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে অতিসম্প্রতি তীব্র ভাঙ্গনের মুখে পরেছে নদীর তীরবর্তী ছবিপুর লঞ্চঘাট বাজার। গত কয়েকদিন পূর্বে বাজারের একমাত্র টলঘরের একাংশ নদীতে ভেঙ্গে পরেছে। এছাড়াও দেবে গেছে বাজার থেকে লঞ্চঘাটে যাওয়ার একমাত্র ব্রীজটি। ফলে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পরেছেন ভূক্তভোগীরা।
স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি সময়ে নৌ-মন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে সরকারের মোটা অংকের টাকা আত্মসাতের জন্য ওই এলাকার প্রভাবশালী এক ইঞ্জিনিয়ার নদী ড্রেজিংয়ের নামে অপরিকল্পিতভাবে জয়ন্তী নদীর মৃধারহাট বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করে অবাধে বিক্রি করেছেন। অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করায় নদীর তীরবর্তী ঐতিহ্যবাহী মৃধারহাট বাজারে ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও

জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ টিপু সুলতান বলেন, নদী ড্রেজিংয়ের সময়ে আমি নৌ-মন্ত্রীকে বলেছিলাম, আমরা বাঁধ চাই-নদী খনন চাইনা। তার পরেও একটি মহলের প্ররোচনায় নদী ড্রেজিংয়ের নামে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করায় আজ মৃধারহাট বাজারটি তীব্র ভাঙ্গণের মুখে পরেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আড়িয়াল খাঁ নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে পশ্চিম তেরচর, কুতুবপুর, পাতারচর ও ভাংগারমোনা গ্রাম। বর্তমান বর্ষা মৌসুমে নদীবেষ্টিত পশ্চিম তেরচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাংগারমোনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক, ঈদগাহ ময়দানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ গ্রামবাসীর কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ি ভাঙনের কবল থেকে রক্ষার জন্য ইতোমধ্যে একাধিকবার নদীপাড়ে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেও কোন সুফল মেলেনি। স্থানীয়রা জানান, অব্যাহত ভাঙনের কবলে ওই এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নদীতে সম্পূর্ন রূপে বিলিন হয়ে গেছে।
এ ব্যাপারে মুলাদী উপজেলা প্রকৌশলী প্রবীর কুমার পাল জানান, স্কুল স্থান্তরের জন্য ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ভাঙ্গন প্রতিরোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে গ্রাম, স্কুল ও বাজার রক্ষা করা সম্ভব হবেনা।

 

 

 

 

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>