বরিশালে নদী ভাঙ্গনরোধে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

বর্ষা মৌসুমের আগেই জেলার বিভিন্নস্থানে এবারও নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে রাস্তাঘাট, ফসলি জমি, বসতভিটাসহ বহু স্থাপনা। হুমকির মধ্যে রয়েছে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু, বিমানবন্দর এলাকা, নগরীর বেলতলা সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, চরবাড়িয়া, চরমোনাই, হিজলার চরআবুপুর এলাকার বহু রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজসহ নানা স্থাপনা। সূত্রমতে, প্রতিবছর বর্ষায় নদী তীরের মানুষ ভিটেবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার পর তাদের কপালে জোটে কেবল সাহায্যের আশ্বাস। বাস্তবে ক্ষতিগ্রস্থরা কিছুই পায়না। নদীতীরে বাঁধ নির্মাণ না করা, সময়মতো বাঁধ সংস্কার না করা ও অপরিকল্পিতভাবে নদী ড্রেজিং করাসহ বিভিন্ন কারণে ভাঙন দিনে দিনে প্রকোব আকার ধারণ করেছে। নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ ও ভাঙন ঝুঁকির মধ্যে থাকা মানুষের সাথে আলাপ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সারাবছরই দক্ষিণাঞ্চলের নদী শাসন ও ভাঙনরোধে কাজ চলমান থাকে। নতুন আরও বেশ কয়েকটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক প্রকৌশলী জানান, নদীবেষ্টিত এ অঞ্চলে প্রায় সারাবছরই কম-বেশি নদীভাঙন অব্যাহত থাকে। এরমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ও অতিরিক্ত ভাঙনকবলিত এলাকাগুলো চিহ্নিত করে কাজ করা হয়।

সূত্রমতে, ২০১৫ সালে জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রবল ভাঙন কবলিত ২৬ পয়েন্টকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওইসব এলাকার ভাঙন প্রতিরোধে প্রাক্কলিত ব্যয় উল্লেখ করে ১১টি প্রকল্পের প্রস্তাব অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দাখিল করা হয়েছে। এরমধ্যে বেশিরভাগই উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাবের (ডিপিপি) আওতাধীন। পাশাপাশি কিছু রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (সিসিটিএফ)’র আওতাধীন। এসব প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে হাজার কোটি টাকার ওপরে। সূত্রে আরও জানা গেছে, ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রকল্পের যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েরটির যাচাই-বাছাই চলমান রয়েছে।

এসব প্রকল্পের মধ্যে একটি পরিকল্পনা কমিশনে ও একটি প্রি-একনেক সম্পন্ন করেছে। প্রি-একনেক সম্পন্ন করা কীর্তনখোলা নদীর ভাঙন

থেকে নগরীর বেলতলা ফেরিঘাট ও চরবাড়িয়া এলাকা রক্ষা প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৮০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের গৃহীত অপর নদী ভাঙনরোধ প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বরিশাল বিমানবন্দর ও তৎসংলগ্ন সুগন্ধা নদীর ভাঙন থেকে মীরগঞ্জ ফেরিঘাট ও বাজার রক্ষা এবং একই এলাকার আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙন থেকে আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজসহ মূল্যবান এলাকা রক্ষা প্রকল্প।

এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৬৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা।  সুগন্ধা নদীর ভাঙন থেকে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর (দোয়ারিকা সেতু) রক্ষা প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। বাবুগঞ্জের সন্ধ্যা নদীর ভাঙন থেকে রমজানকাঠী গ্রামবাংলা বিদ্যাপিঠ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাইক্লোন সেল্টার, মসজিদ, মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকা রক্ষা প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ কোটি আট লাখ টাকা। মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার উলানিয়া-গবিন্দপুর রক্ষা প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৯৫ কোটি টাকা। মুলাদী উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রাম কয়লা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। এসব প্রকল্পের বাইরেও অনেক ভাঙন কবলিত এলাকা রয়েছে। সেইসব এলাকাসহ প্রস্তাবিত এলাকার প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন হওয়ার আগেই নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ তাদের ভিটেবাড়ি, রাস্তাঘাট, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং ফসলি জমি বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। এ ব্যাপারে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবু সাঈদ বলেন, গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে নির্ধারণ করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্পের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। প্রত্যেকটিরই অগ্রগতি রয়েছে। অনুমোদন হলে কাজ শুরু করা হবে। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (সিসিটিএফ)’র অর্থায়নে জেলার বিভিন্নস্থানে ছয়টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। যার বেশ কয়েকটি শেষের পথে। তিনি আরও বলেন, বর্ষাকাল আসন্ন হওয়ায় তারা আপদকালীন ব্যবস্থা গ্রহণেরও প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>