বরিশালে নৌকার প্রার্থীকে হারিয়ে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করেছেন এমপি পংকজ!

মেহেন্দিগঞ্জে সংবাদ সম্মেলনে এমপি পংকজ নাথের দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মইদুল।আজ ই-মেইলের মাধ্যমে প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানিয়েছেন, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যার কারনে গত নির্বাচনে মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা আসন থেকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী পঙ্কজ নাথ এমপি নির্বাচিত হন। নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য একের এক বিতর্কিত কর্মকান্ড করে যাচ্ছেন এমপি পংকজ। আমরা মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেছি। নদী বেষ্টিত এ অঞ্চলের নিরিহ মানুষের উপর গত সাড়ে তিন বছরে স্থানীয় এমপি পঙ্কজ নাথ তার রাম রাজত্ব কায়েম করতে গিয়ে অসংখ্য মানুষের উপর হামলা, মামলা, জেল, জুলুম চালিয়েছেন। জমি দখল, সরকারী অর্থ লুটপাট, টিআর, কাবিখা, কাবিটা ও ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পসহ সকল পর্যায়ে দুর্নীতির চরম পর্যায়ে পৌছে দিয়েছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, পৌর ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন এমপি পঙ্কজ নাথ’র বিতর্কিত কর্মকান্ড প্রতিহত করায় সে জামায়াত-বিএনপি’র সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা স্বেচ্ছাসেবক লীগ গঠন করে তার রাম রাজত্ব কায়েম করে আসছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও আওয়ামী লীগের বরিশাল জেলা ও মহানগর শাখা আয়েজিত বিশেষ বর্ধিত সভায় এ নিয়ে বিষোদগার করা হয়েছে। বিশেষ বর্ধিত সভা স্থলের সামনে এমপি পঙ্কজ নাথ’র কালো থাবায় মেহেন্দিগঞ্জের একাধিক আওয়ামী লীগ কর্মী পঙ্গুত্ব বরন করে বিচারের আশায় বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপির শরনাপন্ন হয়েছিলেন। তিনি হৃদয় বিদারক দৃশ্য দেখে হতবাক হয়েছেন। সম্প্রতি শান্ত জনপথকে মেহেন্দিগঞ্জের ইতিহাসে সবচেয়ে কালো অধ্যায় রচিত করেছে এমপি পঙ্কজ নাথ। সাবেক এমপি মইদুল ইসলাম বলেন, বিগত ইউপি নির্বাচনগুলোতে এমপি পঙ্কজ নাথ দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তার সমর্থিত বিএনপি কিংবা জামায়াতের লোকদের স্বেচ্ছাসেবক লীগ বানিয়ে বিজয়ী করেছেন। এমপি পঙ্কজ নাথ সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জনগনের কল্যানে কাজ করছেন এমন লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। তা ঢাকা মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছু নয়। প্রধানমন্ত্রী’র একটি আদেশও এমপি পঙ্কজ নাথ পালন করেননি। মেহেন্দিগঞ্জের শান্ত জনপথকে এমন ভাবে কলঙ্কিত করছে এমপি পঙ্কজ নাথ যার প্রভাব পড়ছে আওয়ামী লীগের উপর। গত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিপক্ষে তার নিজস্ব প্রার্থী দল থেকে একাধিকবার বহিষ্কৃত বাহাউদ্দিন ঢালীকে তিনি ক্ষমতার জোরে চেয়ারম্যান

বানিয়েছেন। একই অবস্থা করেছেন তিনি হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউপি’র নির্বাচনে। সেখানে নৌকার প্রার্থীকে হারিয়ে তিনি ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করেছেন। প্রশাসনকে তিনি ন্যাঙ্কারজনক ভাবে নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করিয়েছেন। যা প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধাচারন করা ছাড়া আর কিছুই নয়। মইদুল ইসলাম বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে নিজের অপকর্ম ঢাকতে গিয়ে মনোনয়ন বানিজ্যের কথা বলেছেন। গত ২৩ মে মেহেন্দিগঞ্জের ১১নং চাঁনপুর ইউনিয়নে যেভাবে ন্যাঙ্কারজনক ভাবে এমপি পঙ্কজ নাথ নৌকাকে পরাজিত করেছেন আর দাবী করেছেন মনোনয়ন বানিজ্যের। ঐ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রব কাঞ্চন সিপাহী যিনি ছিলেন বর্ষিয়ান আওয়ামী লীগ নেতা। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর তাকে যখন আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র সুপারিশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রার্থী দিয়েছিলেন, তখনো সে তার বিরুদ্ধে এই বহিষ্কৃত বাহাউদ্দিন ঢালীকে দাঁড় করিয়ে ছিলেন। বরিশাল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মইদুল ইসলাম বলেন, মেহেন্দিগঞ্জের বিগত ৮টি ইউপি’র নির্বাচনে এমপি পঙ্কজ নাথ ৫টিতে বিদ্রোহী প্রার্থী দিয়েছিলেন। এরমধ্যে দড়িরচর খাজুরিয়ায় রাতের আধারে কেন্দ্র দখল ও জাঙ্গালিয়া ইউপিতে নৌকার প্রার্থীর বিজয়ী কেন্দ্রের রেজাল্ট শিট ছিনিয়ে নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীকে বিজয়ী করেন। জেলা পরিষদের মেহেন্দিগঞ্জের ৫টি ঘাট পৌর আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সহ-সভাপতি ফিরোজ গোলদার ওপেন টেন্ডারে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে পেয়েছেন এবং পাতারহাটের ঘাটটি গত বছর ৯০ হাজার টাকার স্থলে এ বছর সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকায় তিনি পেয়েছেন। এভাবে চলতি বছর জেলা পরিষদের বিভিন্ন ঘাট বাবদ রাজস্ব আয় বেড়েছে গত বছরের চেয়ে ৬২ লাখ টাকা। কিন্তু পরিতাপের বিষয় এমপি পঙ্কজ নাথ আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে মেহেন্দিগঞ্জের ওই ঘাটগুলোকে দখল করে বিএনপি-জামায়াতের লোকজন দিয়ে পরিচালনা করছে। মইদুল দাবি করেছেন এমপি পঙ্কজ নাথ রাজনৈতিক ভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। তা না হলে গত ২১ মে রাতে চাঁনপুরের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মাহে আলমের (আলম ঢালী) সর্বশেষ উঠান বৈঠক শেষে আমি উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও আমার সাথে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র আলহাজ্ব কামাল উদ্দিন খান, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাব আহমেদসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ফেরার পথে এমপি পঙ্কজ উপস্থিত থেকে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা আমাদের উপর হামলা চালায়। মইদুল দাবি করেন বিহঙ্গ পরিবহনে আমার বা আমার পরিবারের কোনো গাড়ি নেই।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>