বরিশালে পুত্রবধূর আঘাতে শাশুড়ী ধরাশায়ী

আপডেট : July, 13, 2017, 10:39 pm

বরিশাল অফিসঃ আগৈলঝাড়ায় দর্জাল পুত্রবধূর পুতার (সিল-নুরি) আঘাতে শাশুড়ীর গুরত্বর জখমের খবর পাওয়া গেছে। পুত্রবধূর পুতার আঘাতে অল্পের জন্য প্রানে বেঁচে গেছেন শাশুড়ী। এ ঘটনায় পুলিশ সরেজমিন পরির্দশন করলেও আসল ঘটনা চাপা পরেছে স্থানীয় মোড়লদের জন্য। সরেজমিন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার পশ্চিম বাগধা গ্রামের মৃত বুদ্ধিশ্বর মজুমদার এর ছেলে ননী গোপাল মজুমদার দীর্ঘ ৬ বছর পূর্বে নাটকীয় ভাবে বৈঠাকাটা কদমবাড়ী গ্রামের সুরেন বিশ্বাসের মেয়ে সেবিকাকে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছু দিনের মধ্যেই শশুর-শাশুড়ীর ও পরিবারের লোকদের অবাধ্য হয়ে সংসারের কর্তৃত্ব হাতে নিয়ে ইচ্ছেমত রাম-রাজত্ব শুরু করে পুত্রবধূ সেবিকা। কর্মের তাগিদে সেবিকার স্বামী ননী গোপাল ঢাকায় থাকলেও গত দু-বছর পূর্বে তার পিতা বুদ্ধিশ্বর মারা যাওয়ার পর বিধবা বৃদ্ধা মাতা সন্ধ্যা মজুমদারের উপর নিরব নির্যাতন শুরু করে ওই দর্জাল পুত্রবধূ। গত ৭ জুলাই শনিবার গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় শাশুড়ীকে পুত্রবধূ সেবিকা পুতা দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এতে গুরুতর জখম হলেও এ যাত্রায় প্রাণে বেঁচে যায় বৃদ্ধা সন্ধ্যা মজুমদার। গুরুতর আহত বৃদ্ধা সন্ধ্যা’র ডাক

চিৎকারে পাশের লোকজনের সহায়তায় কিছুটা সুস্থ্য হলেও ওই বৃদ্ধাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে দেয়নি ওই গৃহবধূ সেবিকা ও তার কয়েকজন অনুসারী। ঘটনাটি জানাজানি হলে পরেরদিন রবিবার পুলিশের এসআই শাহজাহান সরেজমিনে পরিদর্শন করলেও কয়েক স্থানীয় মোড়লের জন্য আসল ঘটনা ভিন্নখাতে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গৃহবধূর এমন অপরাধকে পারিবারিক ও তুচ্ছ ঘটনা বলে আখ্যায়িত করছেন ওই বাড়ির কথিত কয়েক মোড়ল। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে স্থানীয় সুরঞ্জিত বল্লভ নামের এক যুবক লাঞ্চিত হয় কথিত এক মোড়লের হাতে। আহত বৃদ্ধা সন্ধ্যার কাছে এ বিষয় জানতে চাইলে তার চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ দেখা গেলেও দর্জাল পুত্রবধূর ভয়ে বলেন “তেমন কিছুই হয়নি বাবা”! এ বিষয়ে স্থানীয় বাগধা ইউপি সদস্য মোঃ মিন্টু মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। ঢাকায় অবস্থানরত বাগধা ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাবুল ভাট্টি সাংবাদিকদের বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি, শিঘ্রই এ ঘটনার দৃষ্টান্ত মূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান ।

Facebook Comments