বরিশালে প্রচন্ড তাপদাহ আর লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

মে ২১ ২০১৭, ০৮:৪১

বরিশালে প্রচন্ড তাপদাহ ও বিদ্যুৎ এর লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত করে তুলেছে জনজীবন।লোডশেডিং এর কারণে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। ব্যাবসা-বাণিজ্যসহ অফিসগুলোতে দেখা দিয়েছে কাজ কর্মের স্থবিরতা। অতিরিক্ত গরমে কারণে অসুখ-বিসুখ ছড়িয়ে পড়ছে।

বরিশাল নগরীর প্রাণকন্দ্রে হলো সদর রোড, চকবাজার, হাটখোলা, ফজলুল হক এভিনিউসহ সংলগ্ন সড়কগুলো। সরকারি গুরুত্বর্পূণ প্রতিষ্ঠান , ব্যাংক-বীমা এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো এ সড়কগুলোর মধ্যেই। বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জ ৩৩ কেভি সঞ্চালন কন্দ্রে থেকে ওই এলাকাগুলোয় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কিন্তু তার পরও উল্লেখতি এলাকাগুলো থাকছে বিদ্যুৎহীন। ফলে ওইসব এলাকার অফিস -আদালত, ব্যাংক-বীমাসহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর র্কাযক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

একই সময়ে বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল নগরীর কাশীপুর এলাকায় ৩৩ কেভির অপর সঞ্চালন কেন্দ্রের কয়েকটি ফিডার।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ১৮ ঘণ্টা এভাবে বরিশাল নগরীর অর্ধেকের বেশি এলাকায় একযোগে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকা সম্প্রতি নিয়মিত ঘটনায় পরিনত হয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে চলমান মৃদু তাপপ্রবাহরে সঙ্গে এমন ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাট জনজীবনকে দুঃসহ করে তুলছে।  নগরীর ফিডারগুলোতে এক-দেড় ঘণ্টা লোডশেড করে ফের এক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ দেয়া হলেও নগরীর বাইরের অবস্থা আরও খারাপ বলে জানা গেছে।

ওইসব এলাকায় বিদ্যুৎ মাঝে মাঝে আসে বলে গ্রাহকরা জানিয়েছেন। বিদ্যুৎ বিভাগের র্কমর্কতারা বলছনে, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার অর্ধেক সরবরাহ পাওয়ায় এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যুতের বরিশাল গ্রিড স্টেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইমতিয়াজ আহম্মেদ বিদ্যুৎ সংকটের কথা স্বীকার করে বলছেনে, সম্প্রতি ভৈরবে একটি টাওয়ার ধসে পড়ায় জাতীয় গ্রিড থকেে সরবরাহ করা হচ্ছে চাহদিার অর্ধেক।

তাছাড়া আসন্ন রমজানে সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রসহ সংশ্লিস্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কার কাজ চলায় উৎপাদন কমে গেছে। এসব কারণে লোডশেডিং আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। রমজান মাস শুরুর আগেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী দাবি করনে।
বরিশাল রূপাতলী গ্রিড স্টেশন সূত্রে জানা গেছে,

এ গ্রিডের আওতাধীন বরিশাল ও ঝালকাঠি জেলার ৩০ ফিডারে বিদ্যুতের চাহিদা পিক আওয়ারে (সন্ধা ৬টা থকেে রাত ১২টা) ১২০ মেগাওয়াট এবং অফপিক আওয়ারে (রাত ১২টা থকে-সন্ধা ৬টা) ৯৫ মেগাওয়াট। কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে পিকআওয়ারে ৬০ থকেে ৬৫ মেগাওয়াট এবং অফপিক আওয়ারে ৫০ থকেে ৫৫ মেগওয়াট। চাহিদার বিপরীতে অর্ধেক সরবরাহের কারণে ওই ফিডারগুলোয় ঘুরিয়ে- ফিরিয়ে এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং দেয় হচ্ছে।
গ্রিডের এক দায়িত্বশীল র্কমর্কতা নাম প্রকাশ না করার র্শতে বলছেনে, বিদ্যুৎ বিভাগের উচ্চর্পযায় থেকে রমজানের আগে সব উৎপাদন কেন্দ্র ও সরবরাহ প্রতিষ্ঠানে সংস্কার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যাতে করে রমজানে বিদ্যুৎ সংকট অসহনীয় পর্যায়ে না পৗেঁছে।

তাই সংস্কার কাজ চলায় স্থানীয় উৎপাদন কন্দ্রেগুলোয় বিদ্যুতের উৎপাদন অর্ধেকে কমে গেছে। এর উদাহরণ টেনে ওই র্কমর্কতা বলনে, ভোলার শাহবাজপুর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে আগে প্রতিদিন ১৯০ মগোওয়াট বিদ্যুৎ দেয়া হতো বরিশাল গ্রিডে। গত এক সপ্তাহ ধরে ভোলা থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে ৩০ থেকে ৩২ মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ বিভাগের সরবরাহের দাবির তুলনায় লোডশেড হচ্ছে অনকে বেশি এবং আকাশে মেঘ হলেই বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে পলাশপুর ৩৩ কেভি স্টেশনের এক সুইচর্বোড অ্যাটেনডেন্ট নাম প্রকাশ না করার র্শতে বলেছেন, খুঁটির সঙ্গে বজ্রনিরোধ যন্ত্রগুলো বহু বছর আগে চুরি হয়ে গেছে। তাই বজ্রপাতে মহা বিপর্যয়ের আশঙ্কায় মেঘ হলেই বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেয়ার নিরদেশ রয়েছে।

তাছাড়া বহু পুরনো জরার্জীণ সরবরাহ লাইন সামান্য ঝড়োবাতাসে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ঝড়ের পরও র্দীঘ সময় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকে। ওই র্কমর্কতা বলেন, আমানতগঞ্জ ও কাশীপুর ৩৩ কেভির স্টেশনের যে কোনো একটি বন্ধ হলে অপরটি দিয়ে নগরীর সব ফিডার একসঙ্গে চালু রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু বহু বছরের পুরনো সরঞ্জামগুলোর ওভারলোড নেয়ার সার্মথ্য না থাকায় লোডশেডিং দিতে তারা বাধ্য হচ্ছেন।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>