বরিশালে প্রশ্নপত্র ছাড়াই পরীক্ষা সম্পন্ন

আপডেট : July, 11, 2017, 11:24 pm

শামীম আহমেদ, বরিশাল: প্রশ্নপত্র ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে বোর্ডের পরীক্ষা। এমনকি ওই পরীক্ষায় নম্বরও দিয়ে দিয়েছেন পরীক্ষা নেয়া শিক্ষকেরা। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত বেসিক ট্রেড কোর্সের (৩ থেকে ৬ মাস মেয়াদী) কম্পিউটার অফিস এপ্লিকেশন বিষয়ের পরীক্ষায় এ ঘটনা ঘটিয়েছে বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কেন্দ্র। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতেও কারিগরি বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা গ্রহণে অনিয়মের এই ধারা অব্যাহত থাকবে। গত ১৬ জুন সারাদেশে একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
সূত্রমতে, বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কেন্দ্রের মুল দায়িত্বে ছিলেন পদাধিকার বলে অধ্যক্ষ ইঞ্জিয়ার আব্দুল জব্বার। আর সচিব ছিলেন কম্পিউটার বিভাগের প্রধান মুশফিকুর রহমান। তারা কোনরূপ প্রশ্নপত্র ছাড়াই ভাইবা (মৌখিক) পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। অথচ কারিগরি বোর্ডের পরীক্ষা গ্রহণ নীতিমালা ও নির্দেশনায় বোর্ড থেকে প্রেরিত লিখিত প্রশ্নের আলোকে ভাইবা পরীক্ষা নেয়ার সুষ্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। যদিও একযোগে অনুষ্ঠিত বরিশালের অপর দুটি পরীক্ষাকেন্দ্র বরিশাল সরকারী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র শিক্ষা (টিটিসি) প্রশ্ন কারিগরি শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক অনলাইনে প্রদত্ত প্রশ্নে ভাইবা পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। এ সংবাদ ফাঁস হয়ে যাওয়ায়, প্রশ্নপত্র ছাড়া যেসব পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন তারা আমেজে থাকলেও আক্ষেপ করেছেন যারা বোর্ড নির্ধারিত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছেন।
সূত্রমতে, প্রশ্নপত্র ছাড়াই ভাইবা পরীক্ষা দিয়েছেন এবং যথারীতি পরীক্ষায় উত্তীর্ণের মার্ক পেয়েছেন এমন পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৯৫ জন। এরা প্রত্যেকে বরিশাল

পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার বিভাগের প্রধান ইঞ্জিনিয়ার মুশফিকুর রহমানের আশির্বাদে এমন সৌভাগ্যবান হয়েছেন। প্রশ্নপত্র ছাড়া পরীক্ষা দিয়ে পাসের মার্ক পেয়েছেন কারিগরি শিক্ষাবোর্ড অনুমোদিত আটটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, বরিশাল পুলিশ লাইন রোডের বিএসআইটি, হাসপাতাল রোডস্থ জেলা ভিত্তিক মহিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কাশিপুর আনসার ও ভিডিপি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বরিশাল সমাজ সেবা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাগধা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, স্বদেশ কম্পিউটার প্রশিক্ষণ একাডেমী, বাটাজোর ইউনিয়ন ইনফরমেশন এন্ড সার্ভিস সেন্টার এবং বাবুগঞ্জ শমসুদ্দিন মুন্সি টেকনিক্যাল স্কুল।
এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা সরাসরি কিছুই স্বীকার করতে চাননি। তবে জানিয়েছেন, ভাইবা পরীক্ষায় বোর্ডের কোন প্রশ্নের দরকার হয়না। কেন্দ্রের শিক্ষকরা যা জিজ্ঞেস করেছেন তা বোর্ড প্রশ্নের চেয়ে কঠিন ছিলো। কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী ভাইবা পরীক্ষার প্রশ্ন পরীক্ষা শুরু হবার কিছুক্ষণ পূর্বে বোর্ড তাদের নিজস্ব ই-মেইল থেকে স্ব-স্ব কেন্দ্রের ই-মেইলে প্রেরণ করে থাকে। সেই প্রশ্ন ডাউনলোড করে প্রিন্ট দিয়ে ভাইবা পরীক্ষা নেয়ার কথা।
টিটিসি ও টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র এই নিয়মানুযায়ী বোর্ড কর্তৃক প্রেরিত লিখিত প্রশ্নে ভাইবা পরীক্ষা গ্রহণ করলেও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ তা করেননি। তারা নিজেদের ইচ্ছেমত পরীক্ষা গ্রহণ করে মার্ক দিয়ে বোর্ডে প্রেরণ করেছে।
এ ব্যাপারে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পরীক্ষা নেয়ার দায়িত্বে থাকা কম্পিউটার বিভাগের প্রধান ইঞ্জিনিয়ার মুশফিকুর রহমানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্ঠা করা হলেও তিনি ফোন রিসিফ না করায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Facebook Comments