মাঠের মাঝখানে সেতু!

মে ২১ ২০১৭, ১৬:০৬

‘রাস্তা না কইরা সেতু বানাইছে। এই সেতু কোনো কামে আইবে না। তয় দিনকালে (গ্রীষ্মকাল) দুই-চারজন কোলা (খেত) দিয়া হাইটা ওই সেতু দিয়া যাইবে-আইবে। বর্ষাকালে শিয়ালও ওই সেতু দিয়া আইবে-যাইবে না।’ কথাগুলো বলছিলেন বরিশাল বিভাগের  পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার ভরিপাশা গ্রামের কৃষক মোশারেফ হোসেন।

ওই এলাকায় খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে, যার দুই পাশে ফসলি জমি। সেতুর আধা কিলোমিটারের মধ্যে কোনো সড়ক নেই।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু/ কালভার্ট প্রকল্পের আওতায় ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের বরাদ্দে ৩৬ ফুট দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয় ২৯ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। নির্মাণের দায়িত্বে ছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাসেল সিকদার এন্টারপ্রাইজ। গত বছরের শেষের দিকে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়। তবে সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হয়নি। এপ্রিল পর্যন্ত ৭ লাখ ২০ হাজার টাকার বিল দেওয়া হয়েছে।

উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়ন সংলগ্ন পশ্চিম পাশে আলোকী নদী উত্তর-দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত। ওই নদী থেকে পূর্ব দিকে একটি সরু খাল প্রবাহিত হয়েছে। এটিকে মল্লিকডুবা ও ভরিপাশা গ্রামের মধ্যবর্তী সীমানা খাল বলা হয়। দুই গ্রামের পশ্চিম পাশের শেষ সীমানায় ওই খালের ওপরই উত্তর-দক্ষিণমুখী সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, খালের পাশ দিয়ে ফসলি জমি। সেতুর দুই পাশে কোনো সড়ক নেই। মাটি থেকে সেতুর উচ্চতা সাত-আট ফুট। সেতুর উত্তর

পাশে অল্প মাটি ফেলা হয়েছে, দক্ষিণ পাশে পুরোপুরি ফাঁকা।

ভরিপাশা গ্রামের মাদ্রাসাশিক্ষক মো. ইব্রাহিম (৩০) বলেন, সড়ক ছাড়াই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। আধা কিলোমিটারের মধ্যে সেখানে কোনো সড়ক নেই। ফলে এই সেতু এলাকাবাসীর কোনো উপকারে আসবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার কয়েকজন বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু/ কালভার্ট প্রকল্পের আওতায় কেশবপুর ইউনিয়নে বেশ কয়েকটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। অন্য ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ স্থান বাদ দিয়ে কেশবপুর ইউনিয়নের অগুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রাধান্য পেয়েছে। আর এর পেছনে ভূমিকা রেখেছেন অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, যার বাড়ি এ ইউনিয়নেই।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. রাসেল সিকদার বলেন, দরপত্র অনুযায়ী সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সামনে সংযোগ সড়কও নির্মাণ করা হবে। সেতুর দুই পাশে সড়ক আছে কি না তা তাঁদের বিবেচ্য নয়।

বাউফল পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুল লতিফ খান আক্ষেপের সুরে বলেন, বাউফল সরকারি কলেজের সামনে খালের ওপর সেতুটি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ ওই সেতু দিয়ে এলাকার লোকসহ কয়েক শ শিক্ষার্থী প্রতিদিন যাতায়াত করেন। বিষয়টি নিয়ে পত্রিকায় লেখালেখিও হয়েছে। অথচ সেখানে সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে না। যেখানে কোনো সড়কই নেই, সেখানে নির্মিত হচ্ছে সেতু! জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিকল্পিতভাবে সেতু নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, পিআইও রাজিব বিশ্বাস বলেন, তিনি এখানে যোগ দেওয়ার আগেই এ সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি আর কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>