বরিশালে মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারের উপর মুজাহিদ কমিটির নেতার হামলা

আপডেট : June, 6, 2017, 5:23 pm

বরিশালের মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারের উপর হামলা চালিয়েছে দূবৃত্তরা। জমি জবর দখলকরাকে কেন্দ্র করে এ হামলায় মুক্তিযোদ্ধাসহ পরিবারের ৪ সদস্য আহত হয়েছে। আহত মুক্তিযোদ্ধাকে গুরুত্বর অবস্থায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন আহত মুক্তিযোদ্ধা আয়েন আলী ফকির’র উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। তার মাথা থেতলে দেয়া হয়েছে।
বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের বাদলপাড়া গ্রামে সংগঠিত ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ ওই এলাকার মুক্তিযোদ্ধরা। দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবী দাবী জানিয়েছেন তারা।
এদিকে এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৬ জুন) স্থানীয় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আহত মুক্তিযোদ্ধার ছেলে মিজানুর রহমান বাদী হয়ে এক সময়ের জামায়াত নেতা ও বর্তমান মুজাহিদ কমিটির নেতা পরিচয়ধারী জাকির হোসেন খানসহ নামধারী ৫ জনসহ অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জনকে আসামী করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, এক সময়ে জামায়াত নেতা হিসেবে পরিচিত ও বর্তমানে গাঢাকা দিতে মুজাহিদ কমিটির সাথে সংযুক্ত মো. জাকির হোসেন খান’র বিরুদ্ধে বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের সহজ-সরল ব্যক্তিদের জমি দখলে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
দীর্ঘ দিন ধরে চলমান এসকল কর্মকান্ডের কারণে তিনিসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে থানা ও আদালতে একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও অদৃশ্য ক্ষমতার দাপটে বহাল তবিয়াতে আছে তিনি। মো. জাকির হোসেন ও তার সহযোগীদের দখল দারিত্বে শিকার ওই বাদলপাড়া গ্রামের শাহিন ফকির, সেরালী জমাদ্দার, নাসির জমাদ্দার, রুস্তুম খান, মোশারফ হাওলাদারের, খাদিজা বেগম, মন্টু সিকদারসহ অসংখ্য পরিবার এমননি অভিযোগ করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রীতি জমি দখলে বাধা দিতে গিয়ে ওই দখলদার ও তার দলবলের হামলার শিকার হয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা আয়েন আলী ফকির ও তার পরিবার।
ঘটনা সূত্রে জানাগেছে, মুক্তিযোদ্ধা আয়েন আলী ফকির’র পূত্র ও বরিশাল সিভিল সার্জন অফিসের

স্টাফ মিজানুর রহমান’র বাদলপাড়া মৌর্জার জিএল ৯৩ এর ৫৮৮ খতিয়ানের ৩২ শতাংশ জমি ক্রয় সূত্রে মালিক। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে জবর দখল করে ওই জমি’র গাছ কেটে নেয়া থেকে শুরু করে পুকুরের মাছ লুটে নেয় মো. জাকির হোসেন খান।
এরই সূত্র ধরে গত ৩ জুন বেলা ১১ টায় মিজানুর রহমানের জমির মাটি কেটে পূর্নাঙ্গ ভাবে সম্পূর্ন জমি দখলের চেষ্টা করে মো. জাকির হোসেন খান ও তার দলবল। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা আয়েন আলী ফকির এর বাধা দেয়। এতে মো. জাকির হোসেন খান’র ভাইয়ের ছেলে কবির হোসেন খান ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওই মুক্তিযোদ্ধার মাথায় আঘাত করে। মুক্তিযোদ্ধাকে বাচাতে গিয়ে হামলার শিকার হন তার ভাই কাজেম আলী ফকির, ভাইয়ের স্ত্রী সুরমা বেগম ও মিজানুর রহমানের স্ত্রী বিথি বেগম।
পরে এলাকাবাসী হামলাকারীদের প্রতিরোধে এগিয়ে আসলে দুবৃত্তরা পালিয়ে যায় বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাউছেল আলম খান লাল।
তিনি বলেন, ইতিপূর্বে এলাকায় জাকির হোসেন ও তার লোকজনের জমি দখল নিয়ে বিচার-শালিসিসহ হামলা-মামলার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু তাদের প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে মুক্তিযোদ্ধার ছেলে মিজানুর রহমান থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থান তদন্ত করে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহন করেন। ওই মামলায় মো. জাকির হোসেন খান, শুক্কুর আলী খান, তারেক খান, কবির হোসেন খান ও কাওছার হোসেন খানসহ ১০/১২ জন অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে।
এ ব্যপারে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. আজিজুর রহমান জানান, মুুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারের উপর হামলা চালানোর বিষয়টি সঠিক। তাই থানায় দাখিলকৃত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গন্য করে এসআই হাবিবুর রহমানকে দ্রুত তদন্তসহ আসামী আটকের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

Facebook Comments