বরিশালে রিকসা চালক পিতার অকাল মৃত্যুতে দুই মেধাবী ছাত্রীর অনিশ্চিত ভবিষ্যত

আপডেট : June, 2, 2017, 7:07 pm

বাবা পেশায় একজন সামান্য রিকসা চালক হয়েও সর্বদা স্বপ্ন দেখেছেন তার দুই কন্যাকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার। সে অনুযায়ী দিনরাত হাঁড় ভাঙ্গা পরিশ্রম, বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ উত্তোলন ও ধারদেনা করে সংসার পরিচালনার পাশাপাশি দুই মেধাবী মেয়ের পড়াশুনার ব্যয়ভার বহন করেছেন রিতিমতো। তার বড় মেয়ে জেনিয়া আক্তার বরিশাল বিএম কলেজের অনার্স ইংরেজী তৃতীয়বর্ষের ছাত্রী ও ছোট মেয়ে শাম্মি আক্তার ইতি গৌরনদীর গেরাকুল বেগম আখতারুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর মেধাবী ছাত্রী।

সূত্রমতে, রিকসা চালক বাবার সন্তান হওয়ার সুবাধে নম্র, ভদ্র ও মেধাবী ছাত্রী হিসেবে দুই বোনের সুনাম পুরো এলাকা জুড়ে। তারা দুইবোন স্বপ্ন দেখেছিলো উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বাবার আর্থিক দৈন্যতার অভাব দূর করে দুঃখিনী মায়ের মুখে হাসি ফোঁটাতে। কিন্তু বিধিবাম হওয়ায় তাদের

স্বপ্ন আজ দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনিশ্চিত হয়ে পরেছে তাদের উচ্চ শিক্ষা নেয়ার স্বাদ। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়ার বেজহার নামক এলাকায় বৃহস্পতিবার দুপুর একটায় ব্যাটারীচালিত অটো রিকসা উল্টে ঘটনাস্থলেই তাদের বাবা (রিকসা চালক) আব্দুল হালিম সরদার (৪৫) নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে নিহতের লাশের জানাজা শেষে গেরাকুল গ্রামের পারিবারিক গোরস্তানে দাফন করা হয়।

এসময় বিলাপ করে নিহত রিকসা চালক হালিমের দুই কন্যা বলে, “আজ আব্বুর সাথে আমাদের স্বপ্নকেও কবর দেয়া হয়েছে”। তাদের গগন বিদায়ী বিলাপে ওই এলাকার আকাশ বাতাস ভাড়ি হয়ে ওঠে। পুত্র সন্তানহীন রিকসা চালক হালিমের স্ত্রী রেনু বেগম স্বামীর শোকে অনেকটা বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন। স্থানীয়রা জানান, দেশ-বিদেশের শিক্ষানুরাগী মহানুভব ব্যক্তি ও সরকারের সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারেন মেধাবী ছাত্রী জেনিয়া ও শাম্মি আক্তার ইতি।

Facebook Comments