বরিশালে সুস্থ রোগীর দু,বার এক্সরে!

মে ২৩ ২০১৭, ২৩:২৮

বানারীপাড়া প্রতিনিধি: বানারীপাড়ায় ষষ্ট শ্রেণির এক ছাত্রীর ভালো পায়ে দুবার এক্সরে করানোর ঘটনা নিয়ে ওই ছাত্রীর দরিদ্র পিতা ও স্বাস্থ্য সহকারী রফিকের সাথে বাকবিতন্ডার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে ২২ মে সোমবার বেলা ১১ টার দিকে পৌর শহরের মৃধা মার্কেটের রাস্তার পাশে বসে চা বিক্রি করা মোঃ নুর আলম তার মেয়ে বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ট শ্রেণির ছাত্রী মনিকে নিয়ে ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। ওই সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমার্জেন্সিতে থাকা স্বাস্থ্য সহকারী (সেকমো) রফিক ডাক্তারের চেয়ারে বসা ছিলেন। নিরক্ষর দরিদ্র চা দোকানী নুরআলম তার কাছে গিয়ে মেয়ের পায়ের ব্যথার কথা বললে রিপন তাকে এক্সরে করাতে বলে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স লাগোয়া মনোয়ারা ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ২০০ টাকায় একটি এ্যানালগ এক্সরে করান ওই দরিদ্র পিতা। এক্সরের নেগেটিভ এনে রিপনের কাছে দিলে সে নুরআলমকে বলে আপনার মেয়ের পায়ের দুটি আঙ্গুল ভাঙ্গা দেখা যাচ্ছে এবার একটি ডিজিটাল এক্সরে করিয়ে নিয়ে আসেন। তার পরেও ওই রফিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকা কোন এমবিবিএস ডাক্তারের স্বরণাপন্ন হয়নি। পরে তার কথা মতো ৫০০ টাকা দিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স লাগোয়া ইউনাইটেড ডায়াগনস্টিক সেন্টার দিয়ে একটি ডিজিটাল এক্সরে করান ওই ছাত্রীর পিতা। এক্সরে করানোর সময় ওই সেকমো ইউনাইটেড সেন্টারের টেকনিশিয়ানকে ফোনে বলেন যে পায়ে ব্যাথা নেই সেই পায়েরও এক্সরে করে দাও। ডিজিটাল এক্সরে করে আনার পরে নেগেটিভ দেখে রিপন বলে না কোন সমস্যা

নেই। তখন নুরআলম কেন তাকে দিয়ে দুবার এক্সরে করানো হলো জিজ্ঞেস করলে রফিক ক্ষিপ্ত হয়ে ওই দরিদ্র পিতাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়তে বলেন। এনিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। তখন এ্যানালগ এক্সরে করা টেকনিশিয়ানকে নুরআলম ডেকে আনেন আপনার করা এক্সরে হয়নি এবং পায়ের দুটি আঙ্গুল ভাঙ্গা উঠেছে। একথা শুনে রফিক বলে না ওটাও ঠিক আছে। তবে কেন কিসের জন্য দরিদ্র এই লোকটিকে দিয়ে দুবার এক্সরে করানো হলো এ প্রশ্নের কোন উত্তরে রফিক বলে দরকার হলে ৫ বার করাবো। দরিদ্র চা দোকানীর কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায় তখনও রিপন এমার্জেন্সি রুমের ডাক্তারের চেয়ারে বসা আছে। অভিযোগের সব বিষয় তার কাছে জিজ্ঞেস করলে সে সংবাদকর্মীদের উপরে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই দরিদ্র পিতাকে হুমকি দিয়ে বলে হাইকোর্টে যাও আমার বিরুদ্ধে মামলা করো, দেখি আমাকে কেকি করতে পারে। এই রফিকের বর্তমান কর্মস্থল বাইশারী ইউনিয়নে। সে ওখানে না গিয়ে ডেপুটিশনে বানারীপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে দরিদ্র রোগীদের জিম্মি করে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করছে। এছাড়াও এই সেকমো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকাকালীন সময় এমার্জেন্সী রুমের ডাক্তারের চেয়ারে বসে প্রতিনিয়ত প্রেসক্রিপশন করে যাচ্ছে। কখনও হার্টর রোগীকে ডায়রিয়ার সেলাইন বা ইনজেকশন লিখে দিচ্ছেন। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা অফিসার (টিএইচ)’র কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এক্সরে করার কোন বিষয় হলে তাকে অবশ্যই এমবিবিএস ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হতে হবে।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>