বরিশালে ৪ পৃথক মামলায় দম্পত্তিসহ ৪ জনের কারাদন্ড ও অর্থদন্ড

চেক প্রতারনার অভিযোগে দায়ের করা পৃথক ৪টি মামলায় স্বামী-স্ত্রীসহ ৪ জনকে পৃথক মেয়াদে কারাদন্ড ও অর্থদন্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার যুগ্ম জেলা জজ ৩য় আদালতের বিচারক এসএম আশিকুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে ১ জনকে ১ বছর কারাদন্ড এবং ৩ জনকে ৬ মাস করে কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া প্রত্যেককে চেকের সমপরিমান টাকার অর্থদন্ড দেয়া হয়েছে। দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন নগরীর পশ্চিম বগুড়া রোডের রিজিয়া মঞ্জিলের নজরুল ইসলাম খোকন ও তার স্ত্রী জেনিয়া শারমিন ইতি, অক্সফোর্ড মিশন রোড সিকদার বাড়ির হুমায়ুর কবির ও বানারীপাড়া বাসার এলাকার সালাম হাওলাদার। আদালত সূত্র জানায়, ঝালকাঠি আরামবাগ এলাকার জাহিদ হোসেন খান তার ভগ্নিপতি নজরুল ইসলাম খোকনের ব্যাংক এ্যাকউন্টে সাড়ে ৭ লক্ষ টাকা দেয়। পরে জাহিদ টাকা ফেরত চাইলে ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর জাহিদকে ওই পরিমান টাকার চেক দেয় নজরুল। একই বছর ২২ নভেম্বর জাহিদ চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে তা ডিসঅনার হয়। এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারী ভগ্নিপতির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন জাহিদ। আদালত ১ জনের সাক্ষ্যগ্রহন শেষে গতকাল ১ বছরের কারাদন্ড ও চেকের সমপরিমান সাড়ে ৭ লক্ষ টাকা অর্থদন্ডের রায় ঘোষণা করেন। অপর মামলায় জাহিদ হোসেন খান তার বোন নজরুল ইসলাম খোকনের স্ত্রী জেনিয়া শারমিন ইতির ব্যাংক এ্যাকাউন্টে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা দেয়। পরে টাকা ফেরত চাইলে ইতি ২০১৫ সালের ২৫ অক্টোবর ওই পরিমান টাকার চেক দেয়। ২৩ নভেম্বর চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে তা ডিসঅনার হয়। ২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারী বোন ইতির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে

জাহিদ। আদালত ১ জনের সাক্ষ্যগ্রহন শেষে গতকাল ৬ মাসের কারাদন্ড ও চেকের সমপরিমান সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা অর্থদন্ডের রায় ঘোষণা করেন। এছাড়া নগরীর অক্সফোর্ড মিশন রোডের মৃত হেদায়েত আলী খানের ছেলে হুমায়ুন কবির অগ্রণী ব্যাংক বরিশাল শাখা থেকে ১ লক্ষ টাকা ঋণ নেয়। ঋণের টাকা পরিশোধ না করায় তার কাছে ব্যাংকের ১ লক্ষ ১৪ হাজার ৯৪৪ টাকা পাওনা হয়। ব্যাংক বিভিন্ন সময় তলব তাগাদা দিলে একই বছর ১১ নভেম্বর ব্যাংক বরাবরে ওই পরিমান টাকার চেক দেয় হুমায়ুন। একই দিনে চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে তা ডিসঅনার হয়। এ ঘটনায় ১৮ ডিসেম্বর মামলা দায়ের করেন ব্যাংকের ম্যানেজার আনোয়ারুল হক। আদালত ১ জনের সাক্ষ্যগ্রহন শেষে গতকাল ৬ মাসের কারাদন্ড ও চেকের সমপরিমান সাড়ে ১ লক্ষ ১৪ হাজার ৯৪৪ টাকা অর্থদন্ডের রায় ঘোষণা করেন। অপরদিকে বানারীপাড়া আলী আহাম্মদ হাওলাদারের ছেলে সালাম হাওলাদার ব্র্যাক ব্যাংক থেকে ৩ লক্ষ টাকা ঋণ নেয়। ঋণের কয়েক কিস্তি পরিশোধের পর কিস্তি দেয়া বন্ধ করে দিলে তার কাছে ব্যাংকের ২ লক্ষ ১৫ হাজার ৫৬ টাকা পাওনা হয়। ব্যাংক বিভিন্ন সময় তলব তাগাদা দিলে ২০১৪ সালের ৯ আগস্ট নভেম্বর ব্যাংক বরাবরে ওই পরিমান টাকার চেক দেয় সালাম। ৪ সেপ্টেম্বর চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে তা ডিসঅনার হয়। এ ঘটনায় ১২ অক্টোবর মামলা দায়ের করেন ব্র্যাক ব্যাংক বরিশালের সহকারি ম্যানেজার কাইয়ুম ঢালি। আদালত ১ জনের সাক্ষ্যগ্রহন শেষে গতকাল ৬ মাসের কারাদন্ড ও চেকের সমপরিমান সাড়ে ২ লক্ষ ১৫ হাজার ৫৬ টাকা অর্থদন্ডের রায় ঘোষণা করেন।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>