বরিশাল-ঢাকা নৌরুটের যাত্রীদের জিম্মি দশার অবসান

এপ্রিল ০৬ ২০১৭, ১১:১৪

দিবা ও রাত্রিকালীন সার্ভিসে আসছে বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটে নতুন ৫ লঞ্চ

বরিশাল : বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটে সংযোজন হতে যাচ্ছে দিবা ও রাতের সার্ভিসে বিলাসবহুল ৫ লঞ্চ। পাশাপাশি এগুলো আসন্ন ঈদ-উল ফিতরের আগেই চলাচলের উপযোগী করে নদীতে ভাসানো হবে বলে দাবী করেছেন বরিশালে দুটি শিপ বিল্ডার্স কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের কর্তাব্যক্তিরা। তাদের দাবী অনুযায়ী এ লঞ্চগুলো সর্বোকালের সর্বাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ও আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর হবে।

আর এই ৫ টি বিলাসবহুল লঞ্চ যাত্রীবহন করা শুরু করলে বরিশাল-ঢাকা নৌরুটের লঞ্চ যাত্রীদের জিম্মি দশা কিছুটা হলেও কমবে বলে দাবী করেছেন তারা।

কীর্তনখোলার নদীর দপদপিয়া পযেন্টে অ্যাডভেন্সার শিপবিল্ডার্স নামে একটি জাহাজ নির্মান ইয়ার্ডে তৈরি হচ্ছে ৩ টি আধুনিক জাহাজ। যার মধ্যে ক্যাটারমান টাইপ ভ্যাসেল রয়েছে ২ টি। ঢাকা-বরিশাল নৌ রুটে দিনের বেলায় চলাচল করবে এ দুটি জাহাজ। আর ৩ শত ফিটের ওপরের দৈর্ঘ্যরে অপর জাহাজটি চলবে রাত্রীকালিন সার্ভিসে। পাশাপাশি আড়াই’শ ফুটের ওপরে দৈর্ঘ্য এই কোম্পানিরই আরো ১ টি জাহাজ ঢাকার একটি শিপইয়ার্ডে তৈরি হচ্ছে। এ চারটি জাহাজই ঈদের আগে বরিশাল-ঢাকা রুটে দিবা-রাত্রিকালীন সার্ভিসে সেবা দিতে নামানো হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও অ্যাডভেন্সার শিপিং এর স্বত্ত্বাধিকারী মোঃ নিজাম উদ্দিন।

নদীপথে মাত্র ৪ ঘণ্টায় বরিশাল থেকে ঢাকা!

তিনি বলেন, সবগুলো জাহাজই নতুন লোহার পাত দিয়ে তৈরি। পাশাপাশি ক্যাট্যারম্যন জাহাজ দুটির ইঞ্জিন, প্রপেলারসহ সার্বিক সবকিছুই নতুন আমদানি করা হয়েছে। সব জাহাজ গুলোতেই আধুনিক গিয়ারবক্স, ইকোসাউন্ডার থাকবে, যেখানে ২ শত মিটার সামনের নদীর গভীরতা মাপা যাবে। পাশাপাশি এগুলোতে আধুনিক ওয়াইফাই

জোন সুবিধা, ডেকরেশন, কেবিন ও আলোকসজ্জায় নতুনত্ব, প্রশস্ত বারান্দা, আধুনিক অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা, প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা, ক্যান্টিন থাকছে।

তিনি বলেন, সবেচেয়ে নতুন বিষয় হলো ছোট টাইপ হেলিকপ্টার জরুরী অবতরণের জন্য রাত্রীকালিন সার্ভিসের এম ভি অ্যাডভেন্সার ৯ এ রাখা হবে হেলিপ্যাড, এটাই আভ্যন্তরীন রুটের লঞ্চের সর্বোশেষ আধুনিক সংযোজন। পাশাপাশি লিফট, সপিং কর্ণারের ব্যবস্থা থাকছে জাহাজটিতে। অপরদিকে ঢাকায় ও তৈরি হচ্ছে রাত্রীকালিন সার্ভিসের জন্য এম ভি অ্যাডভেন্সার ১০। সেখানেও রয়েছে আধুনিকতার ছোয়া। ক্যাটারম্যান টাইপ সার্ভিসের অ্যাডভেন্সার ৫ ও ৬ এ বিলাসবহুল স্লিপিং চেয়ারের পাশাপাশি, ২ টি ভিআইপি কেবিন। যা দিবা সার্ভিসে কারো নেই।

এছাড়া যাতে যাত্রীদের খারাপ না লাগে সেজন্য পুরো জাহাজের চারিপাশে প্রশস্ত বারান্দা রাখা হয়েছে। আর খাবারের ক্যান্টিন তো থাকছেই। সবকিছু ঠিক থাকলে সরকারী নিয়ম মেনে এ লঞ্চদুুটি সাড়ে চার থেকে পাঁচ ঘন্টার মধ্যে তার গন্তব্যে যাত্রী নিয়ে যাবে।  এফবিসিসিআই’র পরিচালক ও অ্যাডভেঞ্জার শিপইয়ার্ডের মালিক নিজাম উদ্দিন জানান, বরিশালে জায়গার ভাড়া ও শ্রমিকের মজুরি কম। সব মিলিয়ে এখানে জাহাজ নির্মাণ খরচ কম। দক্ষ শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় খুব সহজেই আধুনিক জাহাজ নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে।

অপরদিকে কীর্তনখোলা নদীর বেলতলায় বাগেরহাট শিপবিল্ডার্স নামক ইয়ার্ডে তৈরি হচ্ছে কীর্তনখোলা লঞ্চ কোম্পানির নতুন জাহাজ কীর্তনখোলা ১০। এটি ৩০৫ ফুট দীর্ঘ ও ৫৯ ফুট প্রস্থ বিশাল একটি জাহাজ। এ জাহাজটিও ঈদের আগেই যাত্রীসেবায় নামানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মোঃ রিয়াজুল করিম। আর লঞ্চের মালিক মঞ্জুরুল আহসান ফেরদৌস জানান, নতুন নৌযানটিতে লিফট ছাড়াও থাকছে নাব্যতা পরিমাপক ইকোসাউন্ডার, স্যাটেলাইট টিভি সংযোগ এবং একাকী (সিঙ্গেল) নারী, পুরুষ ও ছাত্রীদের জন্য পৃথক জোন।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>