বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে হেলিপ্যাড সুবিধাযুক্ত দেশের সর্ববৃহৎ লঞ্চ

এপ্রিল ০৬ ২০১৭, ১২:১৬

বরিশাল-ঢাকা নদীপথে এবার চালু হচ্ছে হেলিপ্যাডের সুবিধাসহ অত্যাধুনিক বিলাসবহুল সর্ববৃহৎ অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চ। এটাই অভ্যন্তরীণ নৌ-রুটের লঞ্চের সর্বশেষ আধুনিক সংযোজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া তিন তলা এই লঞ্চটিতে থাকছে লিফটের ব্যবস্থা।

নিজাম শিপিং লাইন লিমিটেড কোম্পানি সমুদ্রগামী বড় জাহাজের আদলে তৈরি করছে এ লঞ্চটি। এছাড়া ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এই কোম্পানি নির্মাণ করছে আরও ৩টি জাহাজ। ঈদুল ফিতরের আগেই চলাচলের উপযোগী করে নদীতে ভাসানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন কোম্পানির কর্তা ব্যক্তিরা।

বরিশালের দপদপিয়া এলাকায় কীর্তনখোলা নদীর তীরে অ্যাডভেঞ্চার শিপ বিল্ডার্স লিমিটেডের ডকইয়ার্ডে নির্মাণ করা হচ্ছে হেলিপ্যাডের সুবিধাসহ অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চটি। এছাড়া এই ডকইয়ার্ডে নির্মাণ কাজ চলছে ক্যাটারমান টাইপ ভ্যাসেল অ্যাডভেঞ্চার-৫ ও ৬। অন্যদিকে ঢাকার হাসনাবাদ বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে নির্মাণ কাজ চলছে অ্যাডভেঞ্চার-১০ লঞ্চের।

নির্মাণ কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম জানান, অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের নির্মাণ কাজ শেষে হলে দেশের সবচেয়ে বেশি যাত্রী ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ও আকারে বড় অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিলাসবহুল লিফট ও হেলিপ্যাডসম্পন্ন একমাত্র লঞ্চ হবে। রোগীদের জন্য লঞ্চে করোনারি কেয়ার ইউনিটের (সিসিইউ) ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এছাড়া লঞ্চটিতে থাকছে ৩ শতাধিক কেবিন। যাত্রীদের আকৃষ্ট করতে শপিং কর্নার, প্লে-গ্রাউন্ড, ফুড কোড এড়িয়া, কফি হাউজ এবং ওয়াইফাই সুবিধাসহ রাখা হচ্ছে বিভিন্ন বিনোদনের ব্যবস্থা।

নিরাপত্তার জন্য পুরো নৌযানটি সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে। থাকবে একজন কমান্ডারসহ সহস্র আনসার সদস্য। এছাড়া ৩০০টি লাইফ বয়া রাখা হয়েছে যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য।

প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম জানান, এছাড়া নির্মাণ হচ্ছে আরও ৩টি আধুনিক জাহাজ। যার মধ্যে ক্যাটারমান টাইপ

ভ্যাসেল রয়েছে দুটি। ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে দিনের বেলায় চলাচল করবে এ দুটি জাহাজ। সবগুলো জাহাজই নতুন লোহার পাত দিয়ে তৈরি। পাশাপাশি ক্যাটারম্যন জাহাজ দুটির ইঞ্জিন, প্রপেলারসহ সার্বিক সবকিছুই নতুন আমদানি করা হয়েছে। সব জাহাজেই আধুনিক গিয়ারবক্স, ইকোসাউন্ডার থাকবে, যেখানে ২শ মিটার সামনের নদীর গভীরতা মাপা যাবে।

তিনি বলেন, সবেচেয়ে নতুন বিষয় হলো হেলিকপ্টার জরুরি অবতরণের জন্য রাত্রীকালীন সার্ভিসের এমভি অ্যাডভেঞ্চার ৯ লঞ্চে রাখা হয়েছে হেলিপ্যাড, এটাই অভ্যন্তরীণ রুটের লঞ্চের সর্বশেষ আধুনিক সংযোজন।

প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম জানান, লঞ্চ থেকে নেমে ঢাকার সদর ঘাটে যানজটে পড়তে হয় যাত্রীদের। রোগী হলে তো হাসপাতালে পৌঁছার আগেই ২-৩ ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়। যানজটে আটকে থাকার কথা বিবেচনা করে অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চে রাখা হয়েছে হেলিপ্যাডের ব্যবস্থা। সরাসরি লঞ্চ থেকে রোগীদের যানজটের ভোগান্তি ছাড়াই নিয়ে যাওয়া যাবে হাসপাতালে।

পাশাপাশি লিফট, শপিং কর্নারের ব্যবস্থা থাকছে জাহাজটিতে। অন্যদিকে ঢাকায় তৈরি হচ্ছে রাত্রীকালীন সার্ভিসের জন্য এমভি অ্যাডভেঞ্চার-১০। সেখানেও রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া।

অন্যদিকে ক্যাটারম্যান টাইপ সার্ভিসের অ্যাডভেঞ্চার- ৫ ও ৬ এ বিলাসবহুল স্লিপিং চেয়ারের পাশাপাশি দুটি ভিআইপি কেবিন, যা দিবা সার্ভিসে কোনো নৌযানে নেই। এছাড়া যাত্রীদের যাত্রা এক ঘেয়ামি কাটাতে পুরো জাহাজের চারপাশে প্রশস্ত বারান্দা রাখা হয়েছে। আর খাবারের ক্যান্টিন তো থাকছেই। সবকিছু ঠিক থাকলে সরকারি নিয়ম মেনে এ লঞ্চ দুটি চার ঘণ্টার মধ্যে তার গন্তব্যে যাত্রী পৌঁছে দেবে।

নিজাম শিপিং লাইন লিমিটেড কোম্পানির মালিক নিজাম উদ্দিন জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে জাহাজগুলো ঈদের আগেই যাত্রীসেবায় নামানো সম্ভব হবে। সমুদ্রগামী বড় জাহাজের আদলে তৈরি হচ্ছে লঞ্চগুলো।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>