বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে ঝুঁকি নিয়েই চলছে নৌযান!

মে ২৭ ২০১৭, ০০:৫৬

লিটন বাশার,অতিথি প্রতিবেদকঃ কোনো প্রকার মনিটরিং ছাড়াই দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে বেপরোয়া নৌযান চলাচল করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মেঘনার ডেঞ্জার জোন থেকে শুরু করে ঢাকা-বরিশাল রুটে নৌযান চলাচল করছে ইচ্ছেমাফিক।

প্রায় প্রতি বছর বর্ষা ও ঈদ মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলে নৌ-দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর পরই বিআইডব্লিউটিএ ও নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরসহ নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় নানা তত্পরতা শুরু করে। পরবর্তীতে সবকিছু থমকে দাঁড়ায়।

নৌযান মালিকরা ইচ্ছে অনুযায়ী নৌযান পরিচালনা করতে থাকেন। ১৫ মার্চের পর মেঘনার ডেঞ্জার জোনে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নিয়ম থাকলেও লঞ্চ মালিকরা তার তোয়াক্কা করেন না। দৌলতখান-আলেকজান্ডার, মনপুরা-হাতিয়া, বেতুয়া-তজুমদ্দিন-ইলিশা-মজু চৌধুরীর হাট মীর্জাকালু ও হাকিমউদ্দিনসহ বিভিন্ন রুটে চলছে অবৈধ একতলা লঞ্চ।

এসব রুটে এ মৌসুমে বিআইডব্লিউটিসি’র সি-ট্রাক চলাচলের কথা থাকলে তা কৌশলে বিকল দেখিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে একতলা লঞ্চ ও ইঞ্জিনচালিত ট্রলার।
টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন রুটে চলাচলকারী বড় নৌযান হিসেবে পরিচিত কেয়ারি সিন্দাবাদ, সন্দ্বীপ, কুতুবদিয়া জাহাজগুলো দক্ষিণাঞ্চলের ডেঞ্জার জোনে ইতোপূর্বে পরিচালনা করা হতো। গত কয়েক বছর যাবত্ এসব নৌযান আর দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথে দেখা যাচ্ছে না। বিআইডব্লিউটিসি এসব রুটে পর্যাপ্ত সি-ট্রাক সচল থাকার দাবি করলেও বাস্তবে ইজারাদার তা বিকল দেখিয়ে ইচ্ছামাফিক ছোট নৌযান পরিচালনা করে আসছে। মানুষ বাধ্য হয়ে অবৈধ নৌযানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় না থাকার সুযোগে প্রভাবশালী নৌযান মালিকরা এ মৌসুমে যাত্রীদের জিম্মি করেই হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল অর্থ। শুধু মেঘনার ডেঞ্জার জোন নয়, অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই করে ঢাকা-বরিশাল রুটে রোটেশন পদ্ধতিতে চলাচল করছে প্রভাবশালী মালিকদের দোতলা লঞ্চ।
ঢাকা ও বরিশাল উভয় প্রান্ত

থেকে বিআইডব্লিউটিএ’র রুট পারমিট অনুযায়ী প্রতিদিন ৭টি করে লঞ্চ ছাড়ার কথা থাকলেও যাত্রীদের জিম্মি করে ঢাকা ও বরিশাল প্রান্ত থেকে ৪ থেকে ৫টি লঞ্চ পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে যাত্রী দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।

যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি দক্ষ মাস্টার, সুকানি ও ড্রাইভার ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে এ অঞ্চলের নৌপথে লঞ্চ চলাচল করছে। বিআইডব্লিউটিএ’র হিসাবমতে দক্ষিণাঞ্চলে নৌ-রুট ৮৮টি। এর মধ্যে ঢাকার সাথে সরাসরি নৌযান চলাচল করে ৪২টি রুটে। বাকি অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে চলে এমএল টাইপের একতলা ছোট লঞ্চ।

সরকারি হিসাবমতে প্রতিদিন নৌপথে এ অঞ্চল থেকে যাতায়াত করে প্রায় দু’ লাখ যাত্রী। এসব রুটে শতাধিক লঞ্চের ফিটনেস সার্টিফিকেট রয়েছে বলে বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়।

সেখানেও ট্যাক্স ফাঁকির জন্য যাত্রী পরিবহন কম দেখানো হয়। ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী সুরভী-৭ লঞ্চে বয়া আছে ১০৭টি। যাত্রী ধারণক্ষমতা ১২৫০ জন।

নিয়ম অনুযায়ী ৪ জন যাত্রীর জন্য একটি করে বয়া থাকার কথা। কাগজে-কলমের হিসেবে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও বাস্তবের সাথে এর কোনো মিল নেই। নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে এমএল টাইপের একতলা লঞ্চগুলো চলাচল করছে এ অঞ্চলে বড় নদীতে।
অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী শতাধিক লঞ্চের মধ্যে অর্ধেক লঞ্চেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মাস্টার-ড্রাইভার নেই। লঞ্চগুলো চালায় খালাসি ও হেলপাররা। ফিটনেস নেওয়ার সময় অভিজ্ঞ চালক ও মাস্টারদের সনদ দেখিয়ে রুট পারমিট নেওয়া হয়। খালাসি ও হেলপাররা লঞ্চ পরিচালনা করায় একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটে। লঞ্চের নির্মাণ ত্রুটি ও অদক্ষ মাস্টার-ড্রাইভার দ্বারা লঞ্চ চালাতে গিয়ে অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষ নির্বিকার। নেভিগেশনের অনুমোদন না থাকলেও রাতের অন্ধকারে নৌপথে বেপরোয়া পণ্যবোঝাই নৌযান চলাচল করতে গিয়ে ঘটছে দুঘর্টনা।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>