বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ

মার্চ ০৯ ২০১৭, ০৯:৪৫

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন হয়েছে। শিক্ষার্থীরা পেয়েছে আংশিক আবাসন-সুবিধা। এখন পুরোদমে চলছে একাডেমিক কার্যক্রম। তারপরও পদে পদে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আবাসিক শিক্ষার্থীদের। ক্যাম্পাসে পয়োনিষ্কাশন-ব্যবস্থা না থাকায় পরিবেশদূষণে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। এ কারণে নাক চেপে হাঁটতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উন্নয়নকাজ দেখে তারা হতাশ। তবে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দাবি, নিয়ম মেনেই চলছে উন্নয়নকাজ। নালা নির্মাণ হবে প্রকল্প শেষে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে পাঁচতলাবিশিষ্ট দুটি প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে চালানো হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। নির্মাণাধীন আছে পাঁচতলা আরেকটি একাডেমিক ভবন। ইতিমধ্যে ছাত্রদের জন্য দুটি ও ছাত্রীদের জন্য একটি হল খুলে দেওয়া হয়েছে। ছাত্রীদের জন্য আরও একটি পাঁচতলা হল নির্মাণের কাজ চলছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তিনটি হল চালু হলেও সেখানে কোনো পয়োনিষ্কাশন-ব্যবস্থা নেই। তিনটি আবাসিক হলেই ময়লা-আবর্জনার গন্ধে ভেতরে ঢোকা দায়। ভবনগুলোর চারপাশ পয়োনিষ্কাশনের পানিতে সয়লাব।
নালা সমস্যা ছাড়াও এই হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত পড়ার টেবিল নেই। ইন্টারনেট সেবার সুবিধা নেই। নেই টিভি রুমে বসার ব্যবস্থাও। শিক্ষার্থীরা মেঝেতে বসে টিভি দেখেন।
কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের শিক্ষার্থী হাসিবুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, হলের চারপাশ দুর্গন্ধে ভরা। পয়োনিষ্কাশন-ব্যবস্থা না থাকায় সব ময়লা-আবর্জনা হলের চারপাশে জমা হচ্ছে। এতে পরিবেশ নোংরা হওয়ার পাশাপাশি দূষণও ছড়াচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘ড্রেনেজ ব্যবস্থা তো নেই-ই। রিডিং রুমে পর্যাপ্ত টেবিল-চেয়ারও নেই। টিভি রুমে টিভি দেখতে হয় মেঝেতে বসে।’

শেরেবাংলা হলের পঞ্চম তলায় থাকেন শিক্ষার্থী ফুয়াদ হাসান। তিনি অভিযোগ করেন, পাঁচতলা পর্যন্ত গন্ধে থাকা যায় না। অন্য সমস্যাগুলো পরে সমাধান হলেও হবে। সবার আগে পয়োনিষ্কাশন সমস্যার সমাধান হওয়া দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন।

একই হলের আরেক শিক্ষার্থী শোভন তালুকদার বলেন, ‘আমরা যারা হলে থাকি

তাদের সমস্যা সবচেয়ে বেশি। বিকেলের পর শহর থেকে আসার কোনো ব্যবস্থা নেই। কিন্তু ক্যাম্পাসে লাইব্রেরি নেই। ক্যাফেটেরিয়া নেই।’

রুমন গাজি, মো. রাজিব হায়দার, সুকান্ত বিশ্বাসসহ আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেও এসব সমস্যার কথা জানা গেছে।

জানতে চাইলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এস এম ইমামুল হক বলেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উন্নয়নকাজ দেখে তিনি হতাশ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলো, কিন্তু সেখানে মূল প্রকল্পের মধ্যে পয়োনিষ্কাশন-ব্যবস্থা নেই, এটা হতে পারে? তিনি বলেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নালা করার কথা। কিন্তু তারা না করায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
উপাচার্য আরও বলেন, এখনো বেশ কয়েকটি উন্নয়নকাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর নেই। তবে রিডিং রুমসহ অন্য সমস্যা সমাধানে শিগগির ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম  বলেন, মূলত ২০০৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প অনুমোদন হলেও ভূমি অধিগ্রহণসহ নানামুখী সমস্যার কারণে কাজ শুরু হয়েছে ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে। সে কারণে মনে হচ্ছে কাজ পিছিয়ে আছে। বাস্তবে অনেকটা কাজ এগিয়ে আছে। তবে প্রকল্পের সঙ্গে পয়োনিষ্কাশনের পরিকল্পনা ধরা হয়নি। তাই পয়োনিষ্কাশনের নালা করা হয়নি। তিনি বলেন, নিচু জমিতে প্রকল্প হওয়ায় দুই বছর আগে নালা নির্মাণ করলে তা টেকসই হবে না। প্রকল্প শেষে স্থায়ী নালা নির্মাণ করা হবে। তখন সমস্যা থাকবে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর এই সময়ের মধ্যে দুটি একাডেমিক, একটি প্রশাসনিক, দুটি হলসহ মাত্র ছয়টি ভবন নির্মাণকাজ শেষ করেছে। বাকিগুলো এখনো অসম্পূর্ণ অবস্থায় আছে। এগুলো হলো গ্রন্থাগার ভবন, একটি হল, দুটি ডরমিটরি ভবন, ক্যাফেটেরিয়া ভবন ও উপাচার্য ভবন।

সূত্রঃপ্রথম আলো

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>