বরিশাল মহাশ্মশানে পালিত হল দিপালী উৎসব

অক্টোবর ১৯ ২০১৭, ১৫:২৩

বরিশালের কাউনিয়া এলাকার দেড়শতাধিক বছরের পূরোনো মহাশ্মশানে ঐতিহ্যবাহী শ্মশান দিপালী উৎসব শুরু হয়েছে। প্রতিবছরের ন্যায় বুধবার সন্ধ্যায় ভূত চর্তুদশ ত‌িথিত‌ে মহশ্মশানে প্রিয়জনের স্মৃতির উদ্দেশ্যে মোমবাতি প্রজ্জলনের মধ্যে এই উৎসব শুরু হয়।

যা ধর্মীয় রীতি নিতীর মধ্যদিয়ে চলবে মধ্যরাত অবধ‌ি চল‌বে। মৃতের স্বজনরা জানান, তারা পূর্বপুরুষদের স্মৃতিতে প্রার্থণা করছেন আজ। প্রিয়জনের স্মৃতিতে মোমের আলো জ্বালানো ছাড়াও সমাধিতে তার প্রিয় খাদ্য সহ নানা উপাচার ও ফুল দিয়ে সমাধি সাজিয়ে তোলা হয়। পাশাপাশি দিপালীর সময় মৃত ব্যক্তির পছন্দ‌ের উপকরণ দ‌িয়ে পূজার ডাল‌িও সাজিয়ে থাকেন অনেকে।

 প্রিয়জনের স্মৃতির উদ্দেশ্যে দীপ জ্বেলে দেয়ার এই রেওয়াজ চলছে প্রায় দেড়শো বছরেরও অধিক সময় ধরে। প্রতিবছর পঞ্জিকা অনুসারে ভূত চতুদর্শীর পূণ্য তিথিতে আয়োজন করা হয় এই উৎসবের। এ বছর পঞ্জিকা অনুসারে মঙ্গলবার ও বুধবার দুই দিন পালিত হবে এ উৎসব। তবে মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে তিথির সময় শুরু হওয়ায় মূল উৎসব হচ্ছে আজ।

মহাশশ্মাণ রক্ষা কম‌িটির সভাপতি মান‌িক মুখার্জী জানান, প্রায় পৌনে দুশো বছর ধরে এই উৎসব চলছে। শ্মশানে আগতদের সেবা ও নিরাপত্তা প্রদানে নিয়োজিত রয়েছেন ১শত সেচ্ছাসেবকে র‌্যাব-পুলিশসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। রয়েছে ২০ টির

অধিক সিসি ক্যামেরা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, আলোকসজ্জা ও মাইকের ব্যবস্থা।

সব মিলিয়ে দর্শনার্থী ও স্বর্গীয় আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করতে যারা এ শ্মশানে আসছেন তাদের কোন ধরনের কষ্ট যাতে না হয় সে লক্ষে সর্বদা মনিটরিং করা হচেছ। শশ্মাস ঘুরে দেখা যায়, সমাধি সৌঁধে দীপ জ্বালিয়ে মৃত ব্যক্তির ছবি ফুল চন্দন দিয়ে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে সমাধির ওপর। প্রিয়জনের উদ্দেশ্যে খাবার-দাবারও দেয়া হয়েছে অনেক সমাধীতে। সেই সাথে জালিয়ে দেয়া হচ্ছে ধূপ ও ধুপকাঠি। বরিশাল মহাশশ্মান। বরিশাল নগরীর লাকুটিয়া খাল ঘিরে প্রায়  ৪ একর জায়গা নিয়ে দেড়শো বছরের প্রাচীন, দেশের অন্যতম বৃহৎ মহাশ্মশান। বরিশাল নগরীর স্থাপনের কিছু পড়েই নগরীর সিটি কর্পোরেশনের কাউনিয়া এলাকায় স্থাপিত এই মহাশ্মশানে প্রিয় জনের স্মৃতিতে মোমের আলো জ্বালিয়ে শ্মশান দিপালী উৎসব চালু হয় বলে স্থানীয় প্রবীন নাগরিকদের অভিমত।

নিরাপত্তার বিষয়ে কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপাপ্ত কর্মকর্তা জানান, পুরো এলাকায় পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্যরা রয়েছে। শ্মশানের আশ-পাশের এলাকায় যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রন আনা হয়েছে। উল্লেখ্য দিপালী উৎসবের আয়োজন হিসেবে গত এক সপ্তাহ ধরে সমাধিগুলো ধোয়া মোছার কাজ করা হয়।  পরে সমাধিস্থলে রং ও লেখার কাজ করা হয়।

Facebook Comments